বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কর্মহীন তিস্তা চরের মানুষের কষ্টেভরা জীবন

লাভলু শেখ (লালমনিরহাট) থেকে: বালু উত্তোলন, পাথর ভাঙ্গা, রিক্সা চালানো, মাছ ধরা কিংবা দিন মজুরের কাজ করে জীবন-যাপন করে তিস্তা চরের নদী ভাঙ্গা মানুষেরা। প্রতি বছরই নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বসতভিটা হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে শত শত পরিবার। তাদের অনেকের নেই কোন মাথা গোজাঁর ঠাই। রাস্তা বা অন্যের জমিতে ঝুপড়ি ঘর তুলে কোন রকম আশ্রয় নিয়েছে তারা। দুর্গা পুজার পর থেকে এসব দিন মজুর অনেকেই কাজের অভাবে বসে আছে। ফলে তাদের অনেকের দিন কাটছে অর্ধাহারে-অনাহারে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত দেশের সর্ব বৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ থেকে তিস্তা রেল সেতু পর্যন্ত তিস্তা নদীর বাম তীরে নদী ভাঙ্গন কবলিত শত শত পরিবার বসবাস করছে রাস্তা-ঘাট, স্কুলমাঠ ও রেল লাইনের পাশে ঝুপড়ি ঘর তুলে। এসব পরিবারগুলোতে এক সময় ছিল গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে রাক্ষসী তিস্তার হিং¯্র থাবায় সহায় সম্পত্তি সবকিছু হারিয়ে এখন তারা নিঃস্ব। তাই জীবন বাঁচাতে অনেকেই ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে নিয়ে গ্রাম ঘুরছে। আবার অনেকে আগের পেশা ছেড়ে জীবন জীবিকার তাগিদে কুলি মজুরের কাজ করছে অনেকেই। গোটা জেলায় নদী ভাঙ্গনের কারণে শ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও নতুন কোন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে না। বর্তমানে মাটি কাটা, ধান কাটা, নদী থেকে বালু ও পাথর তোলা কাজ বন্ধ। ফলে শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। এসব শ্রমিক তাদের সংসার চলাতে হিমশিম খাচ্ছে। কথা হয় তিস্তা ব্যারেজের বাম তীরে ঝুপড়ি ঘরে ৪ ছেলে মেয়ে নিয়ে বসবাসকারী সমসের আলীর সাথে। দুই মাস আগে তিস্তায় তার শেষ ভিটামাটি চলে গেছে। এখন দোয়ানী বাজারে কুলির কাজ করছে সে। সমসের আলীর স্ত্রী আলেয়া বেগম জানান, তার স্বামী ৩ থেকে সাড়ে ৩ শত মণ ধান পেত। সারা বছর খেয়ে ২ শত মণ ধান বিক্রি করতো। এখন বাড়ি করার জমি নেই। একদিন স্বামী কুলির কাজ না করলে হাঁড়িতে চাল উঠে না। হাতীবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু জানান, তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের কারণে প্রতি বছর শত শত পরিবার বসত বাড়ি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়ে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। তারপরও অনেকেই জীবন-জীবিকার সন্ধানে পরিবার পরিজনদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছেন। এছাড়া এ অঞ্চলের একটি বিশাল অংশ দিনমজুর শ্রেণী। বর্তমানে তেমন কোনো কাজ না থাকায় তারা বাইরে যাচ্ছে। এলাকায় কাজ শুরু হলে তারা আবার ফিরে আসে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ