মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মিয়ানমার গণহত্যার মূল লক্ষ্য আরাকান রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন

জেড. আবেদীন মজুমদার : ১৮ শতকের শেষ দিকে ১৯ শতকের প্রথম থেকে আরম্ভ করা ইসলামের বিরুদ্ধে খ্রীষ্টীয় জগতের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যুদ্ধ, সংঘাত, গুপ্তহত্যা, নিজদেশ থেকে বিতাড়িত করে বিদেশের মাটিতে বা দেশের ভেতরে মুজাহিদ আইএস বা সন্ত্রাসী অজুহাতে শরণার্থী বা রিফিউজি ক্যাম্পে পশু পালনের ন্যায় জীবন-যাপন করে জাতীয় চেতনাকে বিলুপ্ত করার যে খেলা ইহুদী, ইংরেজ, বৌদ্ধরা কেনা গোলামের মত হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনে বাড়ি-ঘর জ¦ালিয়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য করেছে। ১০ লক্ষ্য মিয়ানমারের আরকানের রোহিঙ্গা নাগরিকসহ বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রের অনেক দেশেই ইসলাম, ইংরেজ ইহুদী ও বৌদ্ধদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে সমস্ত দুনিয়ার মুসলিম এই জাতি বা জাতিসত্তা সমূহকে খাতক বানিয়েছে। এসবই আমেরিকা, ব্রিটেন, অস্ট্র্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপীয় এবং এশিয়ার, ভারত, চীন, রাশিয়া দেশসমূহ। এবার নজর পড়েছে এশিয়ার ক্ষুদ্রতম সংখ্যালঘু আরকানের রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর। মিয়ানমার মগ সরকার তাদেরকে বিনদেশী মুসলিম আখ্যা দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আরাকানি মুসলমানরা ভিন দেশী হলে ভারতের মগদ রাজ্যের অধিবাসীরা হিন্দু জাতি বার্মা বা মিয়ানমারে আগমন করেন। বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হয়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রনেতা তিনিই ছিলেন হিন্ধু ধর্মের রাজপুত্র। তার মুসলিম সুফিবাদ তথ্যে অনুপ্রাণীত হয়ে এটাকে বৌদ্ধ ধর্মের মূল মন্ত্র হিসেবে খ্রীষ্টপূর্ব ৪ শতকে এশিয়া এই অঞ্চলের তিব্বত, নেপাল, শ্রীলংকা, রাশিয়ার মঙ্গলীয়, চীন, বাংলাদেশ ও জাপানসহ বৃহত্তর সংখ্যাগরিষ্ঠ এই ধর্মের লোকেরা জীব হত্যা মহাপাপ বলে তাদের ধর্মের ধর্মগুরুদের নীতি আদর্শ ও সুফিবাদ প্রথার সুফিবাদ ভুলে গিয়ে বিভিন্ন ধর্মের লোকদেরকে হত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজ, দস্যুভিত্তি তাদের প্রাগতিক ইতিহাস থেকে জানা যায় বৌদ্ধ এই ধর্মের প্রচার আমাদের এ বাংলাদেশে খ্রীষ্টপূর্ব: ৩২০ হতে ৩৮০ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত। এই অঞ্চলের রাজধানী কুমিল্লা ময়নামতি হারিকেল সমতটসহ বিভিন্ন রাজা রাজধানী খীঃপূর্ব ৬০০০ হতে খ্রীঃপূর্ব ২২০০ পযর্ন্ত দেবঅসুর যুদ্ধে আর্য্যদের ধ্বংসলীলায় বাংলাও বাঙালীর প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস ধ্বংসের পর থেকে প্রাটিকার রাজ্য বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া এবং কক্সবাজার জেলার রামুঅঞ্চলে স¤্রাট অশোকের আগমন ঘটে। তিনি স্বহস্তে বিরাট আকৃতি ৮০ হাজার ধাতুর সমন্বয়ে একটি বৌদ্ধ মূর্তি স্থাপনে ও তার রাজ্য বিস্তারের প্রমাণ পাওয়া যায়। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জেলা চট্টগ্রাম বন্দর ১৪৯৮ সালে পুর্তুগীজ বণিক ভাস্কোদাগামার ভারতে এই বাণিজ্যের পথ আবিষ্কার করে। ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাণিজ্যের পথ সুগম করে ফলে ১৫১৭ খ্রীষ্টাব্দে চট্টগ্রাম বন্দরে পর্তুগীজ বণিকরা আগমন করে। পরবর্তী সময় মুসলিম বণিক গোলাম আলী জাহাজ পর্তুগীজরা লুট করায় গোলাম আলীকে চট্টগ্রাম বন্দরে অবতরণ করতে দেওয়া হয়নি। প্রকৃতভাবে পর্তুগীজরা এ অঞ্চলে ধর্ম প্রচারের নামে আসলে ও ধর্ম প্রচারের নামে দস্যুগিরি বেছে নিয়েছেন। পরবর্তীতে আরাকানি বোদ্ধধর্ম অবলম্বনকারীরা বাংলায় আগমন করে মুসলমান এবং হিন্দুদেরকে হত্যা ও লুটতরাজ করে এদের জনজীবন বিপন্ন করেছে। ১৫৯০ খ্রীষ্টাব্দে চট্রগ্রাম এ অঞ্চলে মগ এবং পর্তুগীজরা একত্রিত হয়ে দস্যুগিরি পেশায় আরম্ভ করলে এ অঞ্চলে পর্যটকদের বর্ণনায় এদেরকে মানুষ হিসেবে গণ্য না করে পোষা না মানা ঘোড়া বলে অবহিত করেছেন। পর্তুগীজকে ফিরিনগী বলা হত। আরকারের রাজা মেংরাও সন্দ্বীপ দখল করে, পরে বাকলা বর্তমান (বরিশাল জেলা) আক্রমণ করলে রাজা রামচন্দ্র মগদের তাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে মেং খানমাং মেঘনা নদী অতিক্রম করে পুনরায় বাকলা রাজ্যে আক্রমণ করে পূর্ব-দক্ষিণ অঞ্চল ও মেঘনা নদীর উভয় তীর লুট করে ঢাকা জেলা পর্যন্ত এগিয়ে যান রাজা রামচন্দ্রের সেনাবাহিনী আরকানিদের আক্রমণ প্রতিহত করে। মুগল বাহিনী ১৬২১ খ্রীষ্টাব্দে ফেনী নদীর তীরে মগদের সাথে পরাজয় বরণ করলে মগ ও পুর্তুগীজ দুস্যুরা একত্রিত হয়ে বাণিজ্যিক নগরী ও হিন্দু রাজাদের রাজধানী চন্দ্রদ¦ীপসহ শাহবাজপুর, পটুয়াখালী, খুলনা, যশোর আক্রমন ও লুট করে। এই সংবাদ মুঘলরা পেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ১৬২১ খ্রীষ্টাব্দে আগস্ট মাসে আরকানিরা এ অঞ্চলে হাজার হাজার বাড়ী-ঘর জ¦ালিয়ে-পুড়িয়ে দেয় এবং শত শত মানুষকে হত্যা করেন। অপরদিকে নারীদেরকে নির্যাতন করে এই অঞ্চলের হাজার হাজার যুবক-যুবতীকে বন্দী করে শিকল দিয়ে বেঁধে নৌকার পাটাতনে রেখে দেয় ও নৌকার দাড় টানতে বাধ্য করে এবং নারী-পুরুষদের হাতের তালু ছিদ্র করে বেত ঢুকিয়ে নৌকার সাথে বেঁধে নারী-পুরুষদেরকে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়। এবং মিয়ানমারে কৃষিদাস হিসাবে নিয়োগে বাধ্য করেন। এই সময় পূর্ব বাংলার এ অঞ্চলটিতে রাত্রীকালীন কুপি বাতী জ¦ালানোর মত অবশিষ্ট কোনো লোক বসতি ছিলনা। মুঘল কর্মচারী শিহাব উদ্দিন তালিস মীর্জা নাখান ও ঐতিহাসিক ফ্যান্সের ভ্রমণকারী বানিয়ার বর্ণনায় মগ ও পর্তুগীজদের অত্যাচারে বাংলার এ অঞ্চলের পশু-পাখী ও জঙ্গলে জীব-জন্তু ও পানিতে কুমির ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। মুঘল স¤্রাট বাহিনী ও হিন্দু রাজাগণ তাদের প্রতিহত করতে সমর্থ হয় নাই। চন্দ্র দ্বীপের রাজা রামচন্দ্র তার পুত্র কীর্ত্তিনারায়ণ মগ পর্তুগীজদের বিরুদ্ধে কৃতিত্ব দেখিয়ে ছিলেন। কিন্তু স্থায়ীভাবে তাদের প্রতিহত করতে সমর্থ হয় নাই। মগ ও পর্তুগীজদের অত্যাচারে ইংরেজ রাজত্ব্যের প্রথমদিকে বাখেরগঞ্জ জেলার তিন ভাগের দুই ভাগে সুন্দর বনে আবৃত ছিল। অথচ সুন্দরবন এক সময় জীবনযাত্রার জনবসতিপূর্ণ মানুষ বস-বাস করত। ইংরেজ শাসনামলে ঝোঁপ-জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে অনেক মূল্যবান ধন-রতœ ও ঐতিহাসিক প্রতœতত্তের সন্ধান পেয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ