শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কেসিসির রাজবাঁধে এক্সকেভেটরের  আঘাতে এক মহিলা নিহত

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের এক্সকেভেটরের আঘাতে প্রাণ গেল ৪০ বছর বয়সী এক মহিলার। এ সময় একই বয়সী ঝর্ণা নামের আরেক মহিলা আহত হয়েছে। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে কেসিসির ময়লা ডাম্পিং পয়েন্ট রাজবাঁধে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতরা টোকাই। নিহত রোকেয়া বেগম (৪০) ও আহত ঝর্ণা (৩০)। নিহত রোকেয়া বেগম কয়রা উপজেলার বাসিন্দা হাসান সদরদারের স্ত্রী। আহত ঝর্ণার পরিচয় পাওয়া না গেলেও সে একই এলাকার বাসিন্দা বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ হোসেন বলেন, আহত ঝর্ণার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সার্জিক্যাল ক্লিনিকে আনা হয়। এখানে পেটে অনেকগুলো সেলাই দেয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসা শেষে আবারো খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরা সবাই টোকাই। তবে আহত ঝর্ণা আশঙ্কামুক্ত বলে খুমেক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক মনিরের বরাত দিয়ে তিনি জানান। প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ বলেন, ওই এক্সকেভেটরের চালক ছিল মো. বাচ্চু। হতাহতরা টোকাই। তাদের ডাম্পিং পয়েন্টে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তারা তা মানেনি।

একটি সূত্র জানায়, রাজবাঁধ ময়লা ডাম্পিং পয়েন্টে এক্সকেভেটর দিয়ে ময়লা পরিষ্কার করে রাস্তা করা হয়। ওই স্থানে টোকাইদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলে তারা তা মানে না। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ওরা গৃহস্থালীর ময়লা থেকে প্লাস্টিকের বোতলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সম্প্রতি একটি এনজিও তাদের মাঝে মাস্ক ও অ্যাপ্রোন বিতরণ করে। অথচ কেসিসির বেপরোয়া এক্সকেভেটর চালকের কারণে অসহায় টোকাইদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা আর হলো না। জীবনটাই দিতে হলো। মৃত্যুর সময়ও রোকেয়া স্বাস্থ্য সুরক্ষার অ্যাপ্রোন ও মাস্ক পড়া ছিল। কতই না তারা স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন। প্রতিদিনের ন্যায় শনিবারও তারা গৃহস্থালীর ময়লা আবর্জনা থেকে প্লাস্টিকের বোতলসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে থাকে। কিন্তু ঘাতক এক্সকেভেটর এসব অসহায় টোকাইদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে রোকেয়া বেগম নামে এক মহিলা ঘটনাস্থলে নিহত হয়। ঝর্ণা নামের আর একজন মহিলা আহত হয়। এরা এ ডাম্পিং পয়েন্টেই অস্থায়ীভাবে ঝুঁপড়ি ঘর বেঁধে থাকতো। তবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য রাতেই হরিণটানা থানা পুলিশের সাথে বৈঠকে বসে কেসিসির কর্মকর্তারা। তারা নিহত ও আহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যাপারে চেষ্টা করে। তবে শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত হয়েছে তা জানা যায়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত সাড়ে ৯টা) থানায় ত্রি-পক্ষীয় বৈঠক চলছিল।

কেসিসির বিকল্প তথ্য কর্মকর্তা এসকেএম তাছাদুজ্জামান জানান, রাজবাঁধ ময়লা ডাম্পিং পয়েন্টটি ঝুঁকিপূর্ণ। এ স্থানটি সংরক্ষিত। কেসিসির পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড দেওয়া রয়েছে। তারপর এসব টোকাইরা দারোয়ানদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ডাম্পিং পয়েন্টে প্রবেশ করে। যে দু’জন টোকাই হতাহত হয়েছে এরা নতুন। কখন কিভাবে এক্সকেভেটরের পাশে যেতে হয় তা তারা বোঝে না। এ জন্য তারা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ