বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

‘ট্রাম্প চাইলেই পরমাণু হামলা চালাবে না সামরিক বাহিনী’

১৯ নবেম্বর, বিবিসি : পরমাণু হামলা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘অবৈধ’ কোনও নির্দেশ মানা হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পরমাণু বিষয়ক শীর্ষ কমান্ডার বিমানবাহিনীর জেনারেল জন হাইতেন। মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন কোনও ‘বৈধ বিকল্প’ পাওয়া যায়। রবিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদেন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছুদিন আগেই মার্কিন সিনেটররা আলোচনা করছিলেন পরমাণু হামলার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের একক আধিপত্য থাকবে কিনা। সিনেটররা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প হয়তো বেপোরোয়াভাবে পরমাণু হামলার নির্দেশ দিয়ে বসতে পারেন। কানাডায় হ্যালিফ্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোরামে জেনারেল হাইতেন বলেন, ‘আমরা এসব বিষয়ে অনেক চিন্তা করি। আপনার যখন এমন দায়িত্ব থাকবে তখন চিন্তা না করে কিভাবে থাকবেন আপনি।’ তিনি বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দিয়েছি। তিনি আমাকে বলবেন কি করা উচিত।’১৯৭৬ সালের পর আলোচনার ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বিভিন্ন হুমকির প্রেক্ষাপটে উদ্বিগ্ন হয়েই এমন শুনানির আয়োজন করা হয়ে বলে মনে করা হচ্ছে। পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার করার এখতিয়ার শিরোনামে এই শুনানি করে কংগ্রেসের সিনেট আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটি। এরপর গত মাসে ট্রাম্পের বক্তব্যকে ঘিরে 'তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথে হাটা' বলে মন্তব্য করেছিলেন সিনেট কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান সিনেটর বব ক্রোকার।ক্যাপিটাল হিলে অংশ নেয়া শুনানিতে কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সদস্য ক্রিস মারফি বলেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এতটাই অস্থির, যে, পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে মার্কিন নিরাপত্তা স্বার্থের ব্যত্যয়ও ঘটতে পারে। জেনারেল হাইতেন বলেন, ‘যদি এটা অবৈধ হয় তবে বুঝতেই পারছেন কি হতে পারে। আমি তাকে বলবো মি. প্রেসিডেন্ট এটা ঠিক নয়। তিনি হয়তো বলবেন, তাহলে বৈধ কি? আমি তখন তাকে বোঝানোর চেষ্টা করবো পরিস্থিতি আসলে কিরকম এবং কি করা উচিত।’ বিষয়টা খুব জটিল নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।হাইতেন বলেন, ‘আমি অবৈধ নির্দেশ মানলে কারাবরণ করতে হতে পারে। সারাজীবন জেলেই থাকতে হতে পারে।’ জেনারলে হাইতেনের বক্তব্য নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি ট্রাম্প। গত আগস্টে ট্রাম্পের কথার সূত্র ধরেই আইন-প্রণেতাদের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের এখতিয়ার নিয়ে এমন প্রশ্ন ও উদ্বেগের সূত্রপাত। যখন উত্তর কোরিয়া ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছিল তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছিলেন, এর জবাবে দ্রুত এমন ব্যবস্থা নেয়া হবে যা বিশ্ব কখনোই দেখেনি।শুনানিতে অংশ নেয়া সিনেটরদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো যে কোনও সময়েই পারমাণবিক মারণাস্ত্রের ব্যবহার শুরু করে দিতে পারেন। আবার কিছু সিনেটররা মনে করেন, কোনও আইনজ্ঞের হস্তক্ষেপ ছাড়াই তার এ কাজ করার অধিকার থাকা উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ