মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

নিরাপদ সড়ক প্রত্যাশা ও বাস্তবতা : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

জহিরুল ইসলাম জুয়েল : একটি মৃত্যু মানইে একটি স্বপ্নের অবসান। বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষ জীবন হারায়, অবসান ঘটে অযুত কোটি স্বপ্নের। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা মানুষের তৈরী (গধহ সধফব ফরংধংঃবৎ) এক ভয়াবহ দুর্যোগ যা আমাদের  অন্যতম জাতীয় সমস্যা। সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে প্রতি বছর ঠিক কত লোক মারা যায় তার সঠিক সংখ্যা বলা মুশকিল। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে এমন  সংস্থাগুলো সাধারণত পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে থাকে। প্রকৃত সংখ্যা তাদের দেয়া তথ্যের থেকে সন্দেহাতীতভাবে অনেক বেশী কারণ বহু দুর্ঘটনার খবরই পত্রিকার সংবাদে আসে না। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে ‘বাংলাদেশে ২০১২ সালে এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২১ হাজারের বেশী মানুষ’। অবশ্য দুর্ঘটনার পর পুলিশের মামলার ভিত্তিতে সরকারি হিসেবে ২০১২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৫৩৮ জন। ২০১২ সালের ২২ আগস্টে  দি গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়  ‘বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ৪ হাজারের বেশী মানুষ সড়ক দুর্ঘটায় মারা  যায়’। বিশ্ব ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে ‘বাংলাদেশে প্রতি ১০ হাজার নিবন্ধিত মটরযানের মধ্যে ৮৬ টি দুর্ঘটনা ঘটে যা অধিকাংশ পশ্চিমা দেশের তুলনায় ৫০ গুন বেশী’। আর উন্নত বিশ্বে এই হার মাত্র তিনটি। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এক প্রতিবেদনে বলছে  ‘২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত  ৫,৯২৮ টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে যাতে হতাহত হয়েছে ১৭,৫২৩ জন। এদের মধ্যে নিহত হয়েছে ৮,৫৮৯ জন এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছে ১,৬২৩ জন। এ হিসেবে ঐ বছরে প্রতি ঘন্টায় একজন লোক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে।  (ঢাকা ট্রিবিউন, এপ্রিল ০৩,২০১৫)
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে ‘২০১৫ সালের প্রথম নয় মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ১৮৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৫৮২। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৩ সালে ৭ হাজারেরও বেশী মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়।’ (প্রথম আলো, অক্টোবর ২১, ২০১৫)। বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা কতটা নাজুক ও ভয়াবহ  অবস্থায় রয়েছে তা এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়। একইসাথে প্রতিবেদনগুলোতে নিহতের সংখ্যার তারতম্য যা-ই থাকুক না কেন স্বাভাবিক মৃত্যুর পর সড়ক দুর্ঘটনাই যে মৃত্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ তা খুব সহজেই বলা যায়।       
সড়ক দুর্ঘটনায় যারা মারা যায় তাদের মধ্যে পথচারীই বেশী। এমনকি পার্শ¦বর্তী অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে পথচারী  মৃত্যুর হার বেশী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বাংলাদেশে এই হার ৩২ শতাংশ অথচ ভুটানে ৩ শতাংশ , মালয়েশিয়াতে ৭ শতাংশ , ভারতে ৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়াতে  ২১ শতাংশ , থাইল্যান্ডে ২৩ শতাংশ, মিয়ানমারে ২৬ শতাংশ  এবং শ্রীলঙ্কায় ২৯ শতাংশ। বাংলাদেশ প্রকৌশোল বিশ্ববিদ্যালয়ের আধ্যাপক শামসুল হক অবশ্য ডাব্লিউএইচওর এই তথ্যের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ৫৪ শতাংশ পথচারী যাদের  মধ্যে ৭০ শতাংশই মারা যায় শহরে। (দি ডেইলি স্টার, অক্টোবর ২০, ২০১৫)
সড়ক  দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দুইভাবেই বিশ্লেষণ করতে হবে। প্রত্যক্ষ ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে  তা টাকার অংকে পরিমাপ করা গেলেও পরোক্ষ ক্ষতি পুরোটাই অপরিমেয়। ডাব্লিউএইচওর দেয়া তথ্যে দেখা যায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মোট জিডিপির ১ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। টাকার অংকে প্রায় ১.২ বিলিয়ন  পাউন্ড যা কিনা   প্রায় এক অর্থ বছরে প্রাপ্ত মোট বৈদেশিক সাহায্যের সমান।
অন্যদিকে সড়ক দুঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নিহত হয়। ফলে পুরো পরিবারটি হয়ে পড়ে নিঃস্ব, অসহায়। ডাব্লিউএইচওর মতে সড়ক দুর্ঘটনায়  উন্নয়নশীল বিশ্বের দরিদ্র পরিবারই বেশী  ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার আহত ব্যক্তির চিকিৎসা ব্যয় মিটাতে অনেক পরিবার ভিটে-মাটি পর্যন্ত বিক্রি করেও অর্থের সংকুলান করতে পারে না। কাজেই দুর্ঘটনার শিকার একটি পরিবারের স্বজন হারানোর ভয়াবহ বেদনা, বুকফাটা আহাজারি আর দীর্ঘ শ্বাসের যেমন মূল্য নির্ণয় করা যায় না তেমনি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ  করাও  সম্ভব হয় না ফলে তা কোন দিনই হিসেবের খাতায় উঠবে না।
Bangladesh Center for Injury Prevention and Research- এর এক গবেষণায় দেখা গেছে  বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে  যত মানুষ আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসে তাদের পাঁচ ভাগের একভাগই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার এবং এদের দুই-তৃতীয়াংশই পুরুষ যাদের বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছর। বুয়েটের  দুর্ঘটনা গবেষণা সেন্টারের  এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায়  যুবক ও উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আহত ও নিহত  হয় ফলে উন্নয়নে পরোক্ষভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
২০১৪ সালের ২০ অক্টোবরে নাটোরের বনপাড়ার ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কেবল এক বছর পূর্ণ হল। সেদিনের সে দুর্ঘটনায় ৩৭ জন নিহত হয় এবং আহত হয়েছিল আরো ৪৩ জন। ঘটনার  একবছর পরে কেস স্টাডি থেকে জানা যায় সেদিনের দুর্ঘটনায় আহত হয়ে প্রাণে বেঁেচ যায় অন্তঃসত্ত্বা জাকিয়া বেগম। কিন্তু  মারা যায় সঙ্গে থাকা  পাঁচ বছরের  মেয়ে এবং স্বামী জামাল উদ্দিন। কয়েকমাস আগে জাকিয়ার কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান । সন্তানটি প্রতিবন্ধী। স্বামী হারা জাকিয়ার সামনের জীবনে এখন শুধুই অন্তহীন নিরাশা আর অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা।
একই ঘটনায় মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যায় গুরুদাসপুরের ইউনুস আলীর। ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ও ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসা নিতে এ পর্যন্ত খরচ করেছেন নয় লাখ টাকা । এখনও সুস্থ হতে পারেননি কিন্তু  হারিয়েছেন সহায়-সম্পত্তি । তছনছ হয়ে গেছে সাজানো সুখের সংসার। জীবন হয়ে গেছে অভিসপ্ত, দুঃসহ। সড়ক দুর্ঘটনার ফলে এই দুর্বিষহ জীবন, উপায় অবলম্বনহীন ভবিষ্যৎ আর সর্বস্ব হারানোর যে ক্ষয়ক্ষতি তা বাস্তবে অংক করে কোনদিনও নির্ধারণ করা যাবে না।
সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক শিশু মারা যায়। শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। একজন শিশুর মৃত্যু মানে জাতীয় সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন। তাই নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা বিধানের সাথে আগামী প্রজন্মের সুরক্ষার বিষয়টি নিবিড়ভাবে জড়িত। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী পিকনিকের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে গেলে ঝোরে যায় ৭টি কোমলমতি শিশুর প্রাণ। তারও আগে ২০১১ সালে চট্রগ্রামের মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট শেষে ফিরার পথে শিক্ষার্থীদের বহনকারী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে গেলে সাথে সাথে নিভে যায় ৪৩ টি অপার সম্ভাবনাময় জীবন প্রদীপ। হয়ত এদের মধ্যেই ছিল আগামীদিনের অনন্য মেধাবী কোন ডাক্তার , ইঞ্জিনিয়ার , বৈজ্ঞানিক, উদ্ভাবক কিংবা দেশের মুখ উজ্জলকারী বিশ্ব সেরা কোন ক্রিকেটার। কিন্তু এভাবেই সড়ক দুর্ঘটনা নামক দৈত্যের ছোবলে প্রতিদিন হারিয়ে যায় ভবিষ্যতের মাশরাফি-সাকিব,  বিনষ্ট হয় সম্ভাবনাময়ী তাজা প্রাণ, গুড়োগুড়ো হয়ে যায় আগামীর স্বপ্ন। যেভাবে আমরা হারিয়েছি মিশুক মনির ও তারেক মাসুদের মত মেধাবী সন্তানদের।
সড়ক দুর্ঘটনার অধিকাংশ কারণ প্রায় সবারই জানা আছে। দ্রুতগতিতে বেপরোয়া গাড়ি চালানো, গাড়ি চালানো অবস্থায় মুঠোফেনে কথা বলা, বিশ্রামহীন ড্রাইভিং, নেশাগ্রস্ত হয়ে গাড়ি চালানো, নিয়ম ভেঙ্গে ওভারটেকিং, পথচারীদের ফুটপাথ ব্যবহার না করা , যত্রতত্র রাস্থা  পারাপার , সড়ক - মহাসড়কের বেহাল দশা , ফিটনেসবিহীন বহু পুরাতন যানবাহন ও মহাসড়কে নসিমন- করিমন- ভডভডিরমত সহজে নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহনের চলাচল ইত্যাদিই মূল। জাতীয় মহাসড়কের বেশিরভাগ জায়গাতে রোড ডিভাইডার নাই। ফলে প্রায়ই মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।  বিশ্বব্যাংক এক প্রতিবেদনে বলছে বাংলাদেশের প্রধান সড়কগুলোর ( জেলা সড়ক ও মহাসড়কের) মাত্র ৪০ শতাংশ উপযুক্ত অবস্থায় রয়েছে। সরকার জাতীয় মহাসড়কের ১৪৪ টি  স্থান অত্যন্ত দর্ঘটনা প্রবণ স্পট হিসেবে চিহ্নিত  করেছে। কাজেই মহাসড়কগুলোকে চারলেনে উন্নিত করাসহ উপযুক্ত সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা ব্যতীত নিরাপদ সড়কের প্রত্যাশা পুরণ হবে না।  সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের এক সেমিনারের  বরাত দিয়ে সিআরপির ওয়েব সাইটে বলা হয়েছে  ড্রাইভারদের ৭০ শতাংশের বৈধ্য কোন লাইসেন্স নাই। এ ক্ষেত্রে  গাড়ির মালিকেরা শুধু সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত ও বৈধ লাইসেন্সধারী চালক নিয়োগের মাধ্যমে জোরালো ভূমিকা পালন করতে পারেন।  
কাজেই সড়ক দুর্ঘটনার মত একটি ব্যপক সমস্যা মোকাবেলার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। ব্যক্তি পর্য়ায়ে  প্রত্যেক নাগরিককে যেমন সচেতন হতে হবে তেমনি সময়োপযোগি আইন প্রনয়ন ও তার সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। মদ্যপ  অবস্থায় গাড়ি চালানো বন্ধে আইন রয়েছে । কিন্তু কেউ মদপান করে গাড়ি চালাচ্ছে কি না তাৎক্ষনিকভাবে  তা পরীক্ষা করা বা পর্যবেক্ষণ করা হয় না। গাড়ি চালানোর সময় মুঠোফোন ব্যবহারের বিষয়ে কোন আইন নাই , সিটবেল্ট ব্যবহারের বিষয়েও কোন আইন নাই।
সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি  জাতীয়ভাবে অত্যন্ত গরুত্বের দাবী রাখে। উন্নয়নশীলদেশের অর্থনীতিতে সড়ক দুর্ঘটনার প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে জাতিসংঘ ২০১১-২০২০ সালকে সড়ক নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দশক ঘোষণা করেছে। আমাদের দেশেও জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বর্তমান সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় উপযুক্ত সড়ক অবকাঠামো গড়ে তুলতে বেশ কিছু কর্মসুচী  বাস্তবায়ন করে চলেছে। পাশাপাশি এনজিওগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে স্কুল , কলেজ , বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা যেতে পারে। সরকারিভাবে সব গণমাধ্যমে সড়ক  দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্কতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে। চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের নেত্রত্বে বেসরকারি সংস্থা  নিরাপদ সড়ক চাই  (নিসচা) সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে নানা রকম কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছে। এভাবে আরো সংখ্যক সামাজিক - সাংস্কৃতিক সংগঠনকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যপকভিত্তিক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সর্বোপরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার মত অপরিমেয় ক্ষয়ক্ষতি শূণ্যের কোটায় নামিয়ে আনতে হবে যাতে করে আর একটি জীবনেরও অনাকাক্সিক্ষত অবসান না ঘটে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ