বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

জিম্বাবুয়ে : ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

জিম্বাবুয়ের ঘটনাপ্রবাহ ইতিহাসের সত্যকেই যেন আবার উচ্চারণ করলো। দেশটির প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের পদত্যাগের দাবিতে ১৮ নবেম্বর জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারেতে সমবেত হয় হাজার হাজার মানুষ। বিবিসির খবরে বলা হয়, জনতার সমাবেশ উৎসবে রূপ নেয়। তারা মুগাবের শাসন অবসানে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে। সমাবেশে যোগদানকারী জনতাকে সেনাদের জড়িয়ে ধরতেও দেখা যায়। উল্লেখ্য যে, সেনাবাহিনী ও ক্ষমতাসীন দল জানু পার্টি এ সমাবেশের আয়োজন করে। গত বছরও যেসব প্রবীণ স্বাধীনতা যোদ্ধা মুগাবের অনুগত ছিলেন, তারাও এখন বলছেন- মুগাবের ক্ষমতা ছেড়ে যাওয়া উচিত। হারারে থেকে বিবিসি প্রতিনিধি আরো বলেছেন, এটি পানি সিঞ্চনের সময় এবং মুগাবের আর ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা নেই। মানুষ বলছে, এখন আমাদের নতুন অভিযাত্রা। আমরা স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অবসান চাই এবং জিম্বাবুয়েকে আর পেছনের দিকে ঠেলে দিতে চাই না।
ভাবতে গেলে অবাক লাগে, জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতা যুদ্ধের গেরিলা নেতা মুগাবে এমন দুঃখজনক পরিস্থিতিতে পতিত হলেন কেন? এর বিশ্লেষণও হচ্ছে। ফার্স্ট লেডি গ্রেস মুগাবের উচ্চাভিলাষী ও আগ্রাসী স্বভাবের কারণেই জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের পতন হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গত বুধবার দেশটির ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। শপিংয়ে প্রচুর অর্থ খরচ করার বদনাম রয়েছে গ্রেস মুগাবের। ভ্রমণসহ সবকিছুতেই তার বিলাসী জীবন। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পোশাক, প্রসাধনী, বিলাসবহুল হোটেল ও বিমান ছাড়া চলতো না তার। যার সবকিছুই মেটানো হতো রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কাজে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ নেয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া মুগাবের চেয়ে বয়সে ৪১ বছরের ছোট গ্রেসের সম্প্রতি নজর পড়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদের দিকে। স্বামী মুগাবের ওপর তার প্রবল প্রভাব। এমনকি মুগাবেকে সরিয়ে এই পদে আসতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। এটিই জিম্বাবুয়ের সর্বশেষ সংকটের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া গত সপ্তাহেই ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়াকে বরখাস্ত করে গ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ সুগম করেন বরার্ট মুগাবে। এসব দেখে সেনাবাহিনী ভেবেছে, এমনটি আর চলতে দেয়া যায় না।
মানুষের আচরণ কত বিচিত্র! মুগাবে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন। গেরিলা নেতা ছিলেন। মানুষ তার অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। কিন্তু নীতিভ্রষ্ট হওয়ার কারণে মানুষ আজ তাকে স্বৈরশাসক হিসেবে অভিহিত করছে। তাকে আর শাসক হিসেবে দেখতে চায় না। অবশ্য তার এই পতনে উচ্চাভিলাষী স্ত্রীর দায়ও কম নয়। ইতিহাসে এমন পতনের আরো বহু উদাহরণ আছে। তবে ট্র্যাজেডি হলো, মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে চায় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ