বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

মণিরামপুরে দিন মজুরকে গলাকেটে হত্যা 

মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের মণিরমাপুরে আকবর আলী (৫৫) নামে এক দিন মজুরকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বত্তরা। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার কৃষ্ণবাটি গ্রামে নিজ ঘরের বারান্দায় তিনি হত্যার শিকার হন। নিহত আকবর আলী যশোর সদর উপজেলার ডহরসিংহে গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে। এ সময় নিহতের পাশেই তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। কিন্তু তিনি অজ্ঞত রয়েছেন। 

খবর পেয়ে পরদিন শনিবার ভোরে মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোকাররম হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের স্ত্রী হালিমা, পুত্র মিন্টু, এক মেয়ে সোনিয়া এবং নিহতের শ্যালক মিনাজ কাশেমের দুই ছেলে নুরুন্নবী ও আইয়ুব নবীকে হেফাজতে  জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ওড়না উদ্ধার করেছে। নিহতের দুই বাহুতে কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। তবে রিপোর্ট লেখার আগ পর্যন্ত পুলিশ এ হত্যাকান্ডের কোন ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি।

নিহতের ভাই আজগর আলী জানায়, তার বড় ভাই নিহত আকবর আলী প্রায় ১৪ বছর আগে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি কৃষ্ণবাটি গ্রামে বসবাস করে আসছিলেন। বড় ভাইয়ের ২ মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, নিহত বড় ভাইয়ের শ্যালক মিনাজ কাশেমের ছেলে নুরুন্নবীর সাথেই বেশি সময় থাকতেন। মাস ছয়েক আগে নুরুন্নবীর বাড়িতে কাজ করতে আসা উপজেলার ইত্যা গ্রামের জনৈক এক যুবকের সাথে নিহত আকবর আলীর প্রতিবেশী আব্দুল হাইয়ের মেয়ের প্রেমর সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ সম্পর্কের জন্য নিহত আকবর আলী ও নুরুন্নবীকে দোষারোপ করে আসছিলেন মেয়ে পক্ষের পরিবার। 

এরই জের ধরে তাদের মধ্যে চরম বিরোধ বাধে। যা আদালত পর্যন্ত গড়াই। ঘটনার রাতে পার্শ¦বর্তী মাঠে নুরুন্নবীর গভীর নলকূপের স্থানে দুর্বৃত্তরা খোঁজাখুজি করে। এ সময় নুরুরন্নবীকে না পেয়ে নলকূপের ঘরের বৈদ্যুতিক তার কেটে দেয়াসহ বাল্ব ভেঙ্গে চলে যায়। পরে নুরুন্নবীর সার্বক্ষণিক সঙ্গী আকবর আলীর বাড়িতে চড়াও হয়ে তাকে কোপানোসহ গলা কেটে হত্যা করা হয়। 

এ দিকে নিহতের পাশে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রী হালিমা সাংবাদিকদের বলেন, রাতে খাবার খেয়ে পাশের বাড়িতে টিভি দেখতে গেলে স্বামী আমাকে ডেকে নিয়ে আসে। ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় রাত এক থেকে দেড়টার দিকে পাশের বাড়ির ঘেনা, নাজমা ও গালদার আনিছুরসহ পাঁচজন ঘরে ঢুকে আমাকে ও আমার স্বামীর মুখ বেঁধে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় আমার স্বামীকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। 

খবর পেয়ে পরদিন শনিবার সকালে নিহতের মেয়ে সোনিয়া শ্বশুরবাড়ি থেকে এসেই তার মায়ের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, তোর কারণেই আমার বাবাকে খুন হতে হলো। তার একটু পরেই সোনিয়া কথার শুর পাল্টিয়ে ফেলেন। বিষয়টি খেদাপাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আইনুদ্দীন সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

এলাকবাসী জানায়, নিহত আকবর আলী সহজ-সরল প্রকৃতির লোক ছিল। তাদের ভাষ্যমতে নিহত আকবর আলীর কোন শত্রু নেই। নিহতের স্ত্রী হালিমা একেক সময় পুলিশকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিচ্ছে। স্ত্রীর পরকীয়ায় আকবার আলী হত্যাকন্ডের শিকার হয়েছে। যদি তাই না হবে তাহলে পাশের ঘরে ছেলে মিন্টু ঘুমিয়ে থাকলেও ছেলেকে না ডেকে প্রতিবেশী আসাদ গাজীর স্ত্রী আমেনা বেগমকে নিহত আকবার আলীর  স্ত্রী হালিমা ডেকে আনলো কেন। 

তাদের ভাষ্যমতে, স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হত্যাকান্ডের সকল রহস্য উদঘাটন বের হতে পারে। সব মিলিয়ে পুলিশের মনে সন্দেহ হওয়ায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী হালিমা, মেয়ে সোনিয়া, ছেলে মিন্টু এবং নিহতের শ্যালকের দুই ছেলে নুরুন্নবী ও আইয়ুব হোসেনকে থানায় আনা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোকাররম হোসেন জানান, এখনও খুনের ক্লু উদঘাটন করা যায়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে থানায় আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ