বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনায় পাইকারি বাজার থেকে এক কিলোমিটার  দূরে এলেই সবজির দাম হচ্ছে দ্বিগুণ

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর খুচরা কাঁচা বাজারগুলোতে পাইকারির চেয়ে খুচরায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। নগরীর সোনাডাঙ্গা পাইকারি কাঁচা বাজার থেকে নিউমার্কেট বাজারের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। এখান থেকেই নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজারের বিক্রেতা কাঁচামাল কিনে বিক্রি করছেন দ্বিগুণ দামে। অথচ এসব সবজির দাম পাইকারি বাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে তার দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারগুলোতে। খুচরায় কেজিতে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা অথচ ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজিতে। ধনিয়া পাতা ২০০ টাকায়।

পাইকারি ও খুচরা বাজারে দরের এ ব্যবধানের জন্য পরিবহণ ব্যয়, দোকানভাড়াহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন অজুহাত খাড়া করছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারা বলছেন, এদের (বিক্রেতা) অজুহাতের কোন শেষ নেই। এখন আর দ্রব্যমূল্যের বিষয় নিয়েও কিছু বলতে ইচ্ছে হয় না, কারণ দাম বৃদ্ধি পেলে সরকার কোন পদক্ষেপ নেয় না।

ওই কাঁচামাল পাইকারি বাজার থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত আসতে সর্বোচ্চ প্রতিটি পণ্যের দাম কেজিতে এক টাকা বেশি পড়তে পারে। কিন্তু বিক্রেতারা বিক্রি করছেন দ্বিগুণ দামে।

নগরীর সোনাডাঙ্গা ট্রাকস্ট্যান্ড সংলগ্ন পাইকারি কাঁচা বাজারের আড়ত। শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ বাজার ঘুরে দেখা যায়, সিম বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩২ টাকা, পটল ২৫ টাকা, ওলকপি ১৫ টাকা, বরবটি খাটো ২২-২৪ টাকা, চিকন বরবটি ৩০-৩৫ টাকা, লাউ পিস ২০-২৫ টাকা, পেঁপে ১২ টাকা, পাতাকপি ১৫-১৬ টাকা, পটল ২৫-৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ সর্বনি¤œ ৫০ টাকা ওপরে ৭০ টাকা, রসুন ৫০-৬০ টাকায় পাইকারি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ভাল মানের ৯০-১০০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি আড়তদারদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, খুচরা বিক্রেতাদের অনেকেই সবজি ক্রয় করতে আসেন এ বাজারে। এখানে পাইকারি বাজারের মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নিউমার্কেট। আশেপাশের হাজার হাজার ক্রেতা প্রতিদিন কাঁচাবাজার করতে আসেন এখানে। পাইকারি বাজার থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে এলেই প্রতি কেজি সবজি বিক্রি হয় দ্বিগুণ দামে। এছাড়া বাজার ভেদেও দামেরও পার্থক্য রয়েছে। একেক বাজারে একেক দাম লক্ষ্য করা গেছে। শুক্রবার নিউমার্কেট খুচরা বাজারে সিম ৬০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, ধনিয়া পাতা ২০০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৭৫-৮০ টাকা, আমদানিকৃত ৫৫ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, পেঁয়াজের কালী ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অথচ ওই সিম পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজিতে। তবে একেক বাজারে একেক রকমের দামের পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। নগরীর মিস্ত্রিপাড়া বাজারে খুচরা কেজিতে সিম ৫০ টাকা, পাতাকপি ৩০ টাকা, ফুলকপি ২০ টাকা, আলু ২০ টাকা, কুমড়া ৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৮৫ টাকা, রসুন ৯০ টাকা, লালশাক, পটল, ফুলকপি ও বেগুন ৪০ টাকা, পালন শাক ৫০ টাকা, লাউ ২০ টাকা, কাঁচাঝাল ৮০-১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১১০ টাকা, গরুর মাংস ৪৮০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি কাঁচা বাজার আড়তের রুবেল ভান্ডারের ম্যানেজার নিতাই দেবনাথ বলেন, আগের চেয়ে শীতের সবজি আমদানি বেশি হওয়ায় আগের তুলনায় অনেক দাম কমেছে। সামনে আরও কমতির দিকে থাকবে। তিনি বলেন, টমেটো নিচে ৫০ টাকা ওপরে ১০০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি ২২-২৪ টাকা (খাটো) আর চিকন বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়। তিনি বলেন, যশোর, মেহেরপুর থেকে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়। ওখান থেকেই ৯০ ভাগ সবজি এ আড়তে নিয়ে আসেন ব্যাপারীরা। এছাড়া আশপাশ অঞ্চল থেকেই সবজি আসছে। বর্তমানে শীতকালীন সবজির কোন ঘাটতি নেই।

যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের পাইকারি কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, আমদানির ওপর কাঁচামালের দাম ওঠা-নামা করে। আমদানি পর্যাপ্ত হলে দামও কমে যায়। তবে আমাদের থেকে খুচরা বিক্রেতা বেশি লাভে বিক্রি করেন।

খুচরা বিক্রেতা আলমগীর হোসেন জানান, পাইকারি বাজার থেকে এখানে আনতে পরিবহন খরচসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন খরচ রয়েছে। তাই পাইকারির চেয়ে খুচরা বাজারে দামে পার্থক্যতো থাকবেই। তবে দ্বিগুণ দামের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। নিউমার্কেটের চাল বিক্রেতা মো. মোমিন জানান, গত এক সপ্তাহ ব্যবধানে চিকন চাল কেজিতে ১-২ টাকা কমেছে। এছাড়া মোটা চালের দামও কমছে। নতুন চাল ওঠার সময় এখন, তাই দাম ১-২ টাকা করে কমতে শুরু করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ