বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা আমলে নিচ্ছে না রাসিক

রাজশাহী অফিস : রাজশাহীতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, বর্ধিত হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং সিটি কর্পোরেশন আদর্শ কর-২০১৬ এর তফসিল উপেক্ষা করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) কর্তৃপক্ষ পুনঃকর নির্ধারণ করেছেন। হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং সিটি কর্পোরেশন আদর্শ কর-২০১৬ এর তফসিল সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হয়েও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে আমলে নিচ্ছে না। এতে করে নগরবাসীকে নানা ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে নগরীর সোনাদিঘীতে পরিষদের কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ সংগ্রাম পরিষদ, রাজশাহীর আহবায়ক অ্যাডভোকেট এনামুল হক লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও রাজশাহী চেম্বারের সাবেক সভাপতি হাসেন আলী, নাগরিক ভাবনা রাজশাহীর আহবায়ক অ্যাডভোকেট মোতাসিম বিল্লাহ, অ্যাডভোকেট আবু মোতালেব বাদল, অধ্যাপক সরদার সিরাজুল করিম এবল, অ্যাডভোকেট হোসেন আলী পিয়ারা, ডা. গোলাম সারওয়ার, ব্যবসায়ী নেতা অশোক কুমার, একরাম আলী প্রমুখ। অ্যাডভোকেট এনামুল হক বলেন, রাসিক কর্তৃক নগরীর বাসা-বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স অস্বাভাবিক হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট সুষ্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সিটি কর্পোরেশন আদর্শ কর-২০১৬ এর তফসিল মতে, হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য ট্যাক্স আদায়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশ দিয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। গত ১৬ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। তিনি আরো বলেন, সিটি কর্পোরেশনের অস্বাভাবিকহারে বর্ধিত হোল্ডিং ট্যাক্সের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ১ নবেম্বর জনস্বার্থে রাজশাহী মহানগরবাসীর পক্ষে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নম্বর- ১৩৫২৯/২০১৬) দায়ের করেন অ্যাডভোকেট আলী আকবর প্রামাণিকসহ পাঁচজন। এরই প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এই আদেশ দেন। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স যদি ১০০ টাকা হয়- তাহলে ময়লা নিষ্কাশন রেইট ৭ টাকা, সড়ক বাতি রেইট ৫ টাকা এবং স্বাস্থ্য কর ৮ টাকাসহ সর্বসাকুল্যে হওয়ার কথা মোট ১২০ টাকা। সেখানে রাসিক কর্তৃপক্ষ ভুল হিসেবের মাধ্যমে আদায় করছে ৩৫৮ টাকা। অর্থাৎ তারা বেআইনিভাবে আদায় করছে মোট ২৩৮ টাকা। যা কোনোভাবেই আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া ভুল হিসেবের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত নগরবাসীর কাছ থেকে অতিরিক্ত যে পুন:কর আদায় করা হয়েছে তা সমন্বয় করার আহবান জানান তিনি। এনামুল হক বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের ফলে সিটি কর্পোরেশনের ট্যাক্স আদায় একটা নির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে এসেছে এবং ইচ্ছেমতো কর আদায়ের পথ বন্ধ হয়েছে। কিন্তু রাসিক কর্তৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছেমত পুন:কর নির্ধারণ করে নগরবাসীকে আরো বেকায়দায় ফেলেছে। তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালের মিউনিসিপ্যাল ট্যাক্সজেশন রুলস অনুযায়ী হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য ট্যাক্স কয়েকশ’ গুণ বৃদ্ধি করে নগরবাসীকে চিঠি দিয়েছিলেন করপোরেশন মুখ্য রাজস্ব কর্মকর্তা। এর প্রতিবাদে নাগরিক সমাজ আন্দোলনে নামে। ট্যাক্স কমানোর দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন, গণঅনশনসহ অর্ধদিবস হরতালও পালিত হয় নগরীতে। এছাড়া উচ্চ আদালতে রিট পিটিশনও দায়ের করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ