বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হলে ভোটের আগের রাতেই নৌকা মার্কায় সিল মেরে বাক্স ভরে ফেলা হবে

খুলনা অফিস : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে নির্বাচন পরিচালনার ভার দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে আসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্ন ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের পরিণতি হবে ভয়াবহ। জনগণের ক্রোধ এতো তীব্র হবে যে র‌্যাব-পুলিশ-আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়েও নিজেদের রক্ষা করতে পারবেন না।
 শেখ হাসিনা দেশে বাকশালের নতুন সংস্করণ কায়েম করতে চলেছেন, অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগ সব কিছুই তিনি একক নিয়ন্ত্রণে নিতে চান। প্রধান বিচারপতি মনে করেছিলেন, ষোড়শ সংশোধনীর ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হবে। এ নিয়ে কথা বলায় তাকে শুধু পদ নয়, দেশ ছাড়তে হয়েছে। এখন একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, আগামী নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে এবং ইভিএম’এ ভোট হবেনা। কিন্ত এ কথা শেখ হাসিনা শুনতে চাননা। আমরা জানি না তার পরিণতি কি হবে? প্রধানমন্ত্রীর পছন্দে নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয়েছে। তার অধীনে নির্বাচন হলে ভোটের আগের রাতেই নৌকা মার্কায় সিল মেরে বাক্স ভরে ফেলা হবে।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার দুপুরে খুলনা জেলা বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবীর রিজভী এসব কথা বলেন।
রুহুল কবীর রিজভী বলেন, তারেক রহমান ইতিবাচক রাজনীতির সূত্রপাত করেছিলেন। দুঃস্থদের মাঝে হাঁস-মুরগি বিতরণ, শীতার্থ মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ, বণ্যার্তদের মাঝে সহায়তা প্রদান- এ ধরনের কর্মসূচি নিয়েছিলেন। দেশে জাতীয়তাবাদের আরেক শক্তির উত্থান ঘটতে দেখে ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাসিন্দা এবং মীর জাফর, উমীচাঁদ, রায়দূর্লভ, জগৎশেঠদের মাথা খারাপ হয়ে যায়। তাদের সম্মিলিত চক্রান্তে দেশে ওয়ান-ইলেভেনের সৃষ্টি হয়।
সরকার আতংকে ভুগছে, তাদের মনে সব সময় ত্রাস কাজ করছে দাবি করে রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া যেখানেই যাচ্ছেন সেখানে জনজোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যাগের সমাবেশের সরাসরি সম্প্রচার সরকারের হুকুমে বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে। বিদেশে বসে তারেক রহমান দেশ সম্পর্কে মুখ খুলুক এটাও তারা চায়না। কারণ তারেক রহমান ইতিহাস নির্ভর সত্যকে তুলে ধরলে তাদের বহু অপকর্ম ফাঁস হয়ে যায়। ইটিভি তারেক রহমানের বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করায় তার মালিককে জেল খাটতে হয়েছে। মালিকানা ছিনতাই হয়েছে। সেটি এখন আওয়ামী লীগারদের দখলে। দেশে সত্য প্রকাশের স্বাধীনতা নেই, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ছাত্র, সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক কর্মী, এমনকি সাংবাদিকও এখন গুম হচ্ছেন। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই তাকে গুম হতে হচ্ছে।
 রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকার চরম কূটনৈতিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন দাবি করে রিজভী বলেন, তাদের পাশে কেউ নেই, এমনকি অতি মিত্র ভারতও নেই। ওবায়দুল কাদেরের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুধু মুখেই বড় বড় কথা বলেন। কিন্ত দেশের কোথাও উন্নয়ন নেই। রাস্তার অবস্থা এতোই বেহাল যে, যশোর থেকে খুলনা আসতে হয়েছে মহাসড়ক ছেড়ে গ্রামের ভেতরের পথ দিয়ে।
নগরীর ইউনাইটেড ক্লাব মিলনায়তনে এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খুলনা জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও জয়ন্ত কুমার কুন্ডু।
এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি শেখ মুজিবর রহমান, খান রবিউল ইসলাম রবি, আমীর এজাজ খান, খান জুলফিকার আলী জুলু, শফিকুল আলম তুহিন, মনিরুজ্জামান মন্টু, খান আলী মুনসুর, শেখ আব্দুর রশিদ, চৌধুরী কওসার আলী, আবু হোসেন বাবু, জি এম কামরুজ্জামান টুকু, মোল্লা মোশারফ হোসেন মফিজ, এডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম, এডভোকেট তছলিমা খাতুন ছন্দা, শামীম কবীর, খায়রুল ইসলাম খান জনি, ইমদাদুল হক, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, মোল্লা সাইফুর রহমান, উজ্জল কুমার সাহা, তৈয়েবুর রহমান, আতাউর রহমান রনু, আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি, গোলাম মোস্তফা তুহিন। সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা ফারুক হুসাইন।
তারেক রহমানের জন্মবার্ষিকীর এই কর্মসূচিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত সময়ের বহু আগেই কর্মসূচিস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিট থেকে একের পর এক বিশাল বিশাল মিছিল আসতে থাকে। বেলুন, ফেস্টুন, প্লাকার্ড ও অন্যান্য উপকরণে সাজানো হয় অডিটোরিয়াম ও তার আশপাশ। শুরুতেই সৈয়দ মাইনুল হক রিপন নামের এক শিল্পী তারকে রহমানকে নিয়ে দুটি রচিত দুটি গান শোনান। এ সময় দর্শক শ্রোতারা করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠেন। সভায় অধিকাংশ বক্তা তাদের বক্তব্যে আসন্ন খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জেলা বিএনপি সভাপতি এ্যাড. এস এম শফিকুল আলম মনাকে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের জোরালো দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ