বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সুন্দরবনের দুবলার চরের শুঁটকি পল্লীতে নষ্ট হয়ে গেছে কয়েক কোটি টাকার মাছ

খুলনা অফিস : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত তিন-চার দিন ধরে সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলে বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করছে। ফলে দুবলার চরের জেলে পল্লীগুলোতে শুঁটকি তৈরি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে জেলেদের শিকার করা হাজার হাজার মণ মাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে জেলে ও ব্যবসায়ীরা।
দুবলার চর জেলে সমিতির সদস্য ও শুঁটকি ব্যবসায়ী হালিম গাজী জানান, প্রায় সকল জেলে চলতি মওসুমে সাগরে মাছ শিকার ও শুঁটকি ব্যবসার জন্য মহাজনসহ বিভিন্ন সমিতি থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে দুবলার চরে এসেছেন। প্রতি বছর বনবিভাগ অক্টোবরের শুরুতে দুবলার চরে মাছ ধরার পাশ দিলেও এ বছর একটু দেরিতে পাশ দেয়ার কারনে কাক্সিক্ষত মাছ আমরা শিকার করতে পারিনি। সে কারনে আগে থেকেই আমরা ক্ষতির মুখে ছিলাম। এখন আবার যে মাছ এ পর্যন্ত আমরা শিকার করে উঠানে শুকানোর প্রক্রিয় শুরু করেছি তাও গত তিন চার দিনের বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে।
দুবলার চর ফিসারম্যান গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন জানান, সাধারণত অক্টোবর-নবেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন চরে কয়েক হাজার জেলে সামুদ্রিক মাছ শিকার করে থাকে। এ বছরও শুটকি মওসুমকে সামনে রেখে দুবলার বিভিন্ন চরে প্রায় ১৫-২০ হাজার জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ী অবস্থান করছে। মেহের আলী, আলোর কোল, অফিস কেল্লা, মাঝের কেল্লা, শেলার চর ও নারকেল বাড়ি চর মোট ছয়টি স্থানে শুটকি শুকানো ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়। কিন্তু দুযোগপূর্ণ আবহাওয়ায় শুটকি শুকাতে না পারায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এই এলাকার জেলেরা।
সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের দুবলার চর জেলে পল্লীর স্টেশন কর্মকর্তা মোকাম্মেল কবির বলেন, দুযোগপূর্ণ আবহাওয়া গত তিন চার দিন ধরে এক নাগাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে দুবলার চর শুটকি পল্লীগুলোতে প্রচুর কাঁচা মাছ নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে দুযোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলেদেরকে সমুদ্রে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ