শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

নির্যাতনের পর নিয়ামুল করিম অচেতন হয়ে পড়লেও হাসপাতালে নিতে এক লাখ টাকা দাবি করে হান্নান

খুলনা অফিস : রূপসা উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী শেখ নিয়ামুল করিমকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় হান্নান বাহিনীর প্রধান শেখ হান্নানের অন্যতম সহযোগী নাদিম পেয়াদা (২৮) ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
শনিবার রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে সে খুলনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম রওশন আরা রহমানের আদালতে এ জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দিতে সে ঘটনার সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকারের পাশাপাশি জড়িত অন্যদের নামও প্রকাশ করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রূপসা থানার ওসি (তদন্ত) ইন্সপেক্টর আব্দুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নাদিম পেয়াদা জানিয়েছে, ঘটনার দিন ৩০ অক্টোবর মৎস্য ব্যবসায়ী শেখ নিয়ামুল করিমকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়ে সে। তবুও তাকে ছাড়েনি তাদের দলনেতা হান্নান। বরং খবর পেয়ে নিয়ামুলের আত্মীয়-স্বজনরা তাকে নিতে আসলে হান্নান তাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করে। হান্নান বলে ১ লাখ টাকা না দিয়ে তাকে নেয়া যাবে না। তখন নিয়ামুলের স্বজনরা অনেক অনুনয়-বিনয় করে বলে, ‘আগে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করি, তারপর টাকার ব্যবস্থা করবো’। এ প্রতিশ্রুতি নিয়েই তাকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য ছাড়া হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রূপসা থানার ওসি (তদন্ত) ইন্সপেক্টর আব্দুর রহমান বলেন, হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারকৃত নাদিম পেয়াদা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করায় শনিবার আদালতের নির্দেশে তাকে খুলনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবর বিকেলে রূপসা উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের খেজুরতলা সংলগ্ন জুনায়েদের ডকইয়ার্ডে একটি বট গাছের সঙ্গে বেঁধে নিয়ামুল করিমকে নির্যাতন করা হয়। তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত নিয়ামুল করিমের পিতা শেখ সাইদুল করিম বাদী হয়ে হান্নানসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে রূপসা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর আসামিরা হচ্ছে হান্নানের সহোদর শেখ জুনায়েদ ও শেখ জাহিদ, মিরাজ হাওলাদার, মো. জিয়াদ, মো. মিজানুর রহমান, সাইফুল ইসলাম (বড়), নাদিম পেয়াদা, শামীম, কল্লোল, রিয়াদ, মো. রাবিক ও নূরুজ্জামান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ