শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

আদমদীঘিতে পিতাকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে পুত্র আটক

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা: বগুড়ার আদমদীঘির কুশাবাড়ীর মন্ডলপাড়ায় গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজ শয়ন ঘরে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে পিতা হামিদুল (৫০) নিজ ঘরেই নিহত হয় এবং মা হাফসা বিবি (৪৫) আগুনে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এঘটনায় পুলিশ নিহতের ছেলে রহিদুল (৩০) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছেন। পুলিশ নিহত হামিদুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করেন। মর্মান্তিক এই হত্যার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বগুড়ার নন্দীগ্রামের উপজেলার আগাপুর গ্রামের হামিদুল ইসলাম আদমদীঘির কুশাবাড়ী গ্রামের ময়েজ উদ্দীনের মেয়েকে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়ীতে দীর্ঘ প্রায় ১৪/১৫ বছর যাবৎ বসবাস করে আসছে। হামিদুল ইসলামের ছেলে রহিদুল ইসলাম ৫/৬ বছর পূর্বে গজারিয়া গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে মর্জিনা বেগমের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে রহিদুলের স্ত্রীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় গত ৩/৪ মাস পূর্বে রহিদুল তার স্ত্রী মর্জিনাকে মৌখিক ভাবে তালাক প্রদান করেন। এরপর স্ত্রীকে পুনরায় সংসারে ফিরে নিতে গ্রামে কয়েক দফা বৈঠক করে। রহিদুলের বাবা হামিদুল ইসলাম তাতে রাজি ছিল না। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রহিদুল বাজার থেকে ডাব কিনে নিয়ে এসে রাতের খাবার শেষে তার বাবা মাকে ডাব খাওয়ায় পর রহিদুল তার পাশের ঘরে ঘুমাতে যায়। রাত ১ টার সময় নিহত হামিদুলের স্ত্রীর আত্ম চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পায় হামিদুল আগুনে পুড়িয়ে মারা গেছে এবং তার স্ত্রী হাফছা বিবি দগ্ধ অবস্থায় ছটফট করছে। এসময় পাশের ঘরে থাকা তার ছেলে রহিদুল বাড়ীতে নেই। পিতার মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে আসে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল মন্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সায়িদ মোঃ ওয়াহেদুজ্জামান আটকের কথা নিশ্চিত করে বলেন তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ