শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কলারোয়ায় সোলার সরবরাহে অনিয়ম

খোরশেদ আলম, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : কলারোয়ায় টিআর কাবিটায় সোলার সরবরাহে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২ কোটি টাকা অগ্রিম নিয়ে টেন্ডার ছাড়াই এক অখ্যাত ব্যবসায়ীকে দিয়ে সোলার ক্রয় ও সরবরাহ করা হয়েছে। আর কম ক্ষমতার ও নি¤œমানের সোলার সরবরাহ দিয়ে সিংহভাগ টাকা লোপাট করা হয়েছে। ত্রাণ দপ্তর জানায়, গত ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের সাধারণ কোটায় ও সংসদ সদস্যের বিশেষ কোটায় টিআর ও কাবিটা প্রকল্পে সর্বমোট বরাদ্দের অর্ধেক ১ কোটি ৯৩ লাখ ৯৫ হাজার ৪’শ ৯৮ টাকা সোলার স্থাপনে বরাদ্দ দেওয়া হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুলতানা জাহান এবং তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার রায় সোলারে বরাদ্দের প্রথম পর্যায়ের সমুদয় টাকা গত এপ্রিল মাসের ২য় সপ্তাহে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের সমুদয় টাকা জুন মাসের শেষে অগ্রিম উত্তোলন করেন। নি¤œমানের কম ক্ষমতার সোলার সরবরাহ করে সিংহভাগ টাকা লোপাট বিপুল অংকের এই ক্রয়ের জন্য কোন টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি। গোপন ভাগ বাটোয়ারার চুক্তিতে অগ্রিম নেওয়া টাকায় জনৈক প্রকাশ নামে অখ্যাত ব্যবসায়ীকে দিয়ে নি¤œমানের ও কম ক্ষমতার সোলার ক্রয় ও সরবরাহ করা হয়েছে। ৫৬ হাজার ৫’শ টাকার সোলার ষ্ট্রীট লাইটে ২০ ফুট লোহার পাইপ রং করে তার উপর ৪,২৫০ টাকার ৮৫ ওয়াটের প্যানেল, ৪ হাজার টাকার ৩০ এম্পিয়ারের ব্যাটারী দেওয়া হয়েছে বলে সরবরাহ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র জানায়। স্থাপনের দু’মাসের মাথায় শাকদা মিশন মোড়, চিতলা ভাটার মোড়, খোর্দ্দ বাজার, মাদরা বাজার এবং সরসকাটি বাজারে নি¤œমানের এই সোলার ষ্ট্রীট লাইট মাঝে মাঝে জ্বলে নেভে এবং কিছু দেখা যায় না। আর মেঘলা আবাহওয়ায় আলোর উজ্জলতা কম হয় এবং রাত ১০ টার পরে আলো নিভে যায় বলে স্থানীয়রা জানায়। এদিকে ৩৭ হাজার টাকা করে বরাদ্দে ধানঘোরা ও খাসপুর প্রাইমারী স্কুলে দেওয়া ১’শ ওয়াটের সোলারে মাত্র চারটা করে লাইট জ্বলে বলে প্রধান শিক্ষকদ্বয় জানায়। কিন্তু ১’শ ওয়াটের সোলারে ৫টা ফ্যান ৭ লাইট জ্বালানো সম্ভব যার বাজার মূল্য ১৮ হাজার টাকা বলে জানা গেছে। ২০ হাজার টাকা করে বরাদ্দে পাচপোতার মেম্বর বেলাল ও রাজপুরের ইয়াদ আলীর বাড়িতে ৪০ ওয়াটের সোলার প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারের একটি সুত্র জানায়, ৪০ ওয়াটের সোলার স্থাপনে (প্যানেলের দাম ২০০০ টাকা, ব্যাটারী ৪০০০ টাকা, কন্ট্রোলার ৫’শ টাকা, তার, বাল্ব, ফিটিং) সবর্চ্চো খরচ ৮ হাজার টাকা। সোনাবাড়িয়া ইউপি মেম্বর আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজামান জানায়, মাদরা সরদার পাড়া জামে মসজিদে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ২৫৫ ওয়াটের সোলার দিয়ে বরাদ্দ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং তার নিজ বাড়িতে ১৫ হাজার টাকার ৮০ ওয়াটের সোলার দিয়ে বরাদ্দ ৪১ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এভাবে সর্বত্র বরাদ্দের প্রায় একতৃতীয়াংশ টাকার সোলার দিয়ে লাখ লাখ টাকা লোপাট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়।
নীতিমালা লঙ্ঘন করে পল্লী বিদ্যুয়িত ধনাঢ্য উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দলুইপুরের সেলিনা ময়নার বাড়ি ৪৫ হাজার টাকার, বালিয়াডাঙ্গার আজাদ মাস্টারের বাড়ি ৫০ হাজার টাকার, শাকদা গ্রামে একই ছাদের নীচে বসবাবরত ইব্রাহিম খানের ৩০ হাজার টাকার ও তার সহোদর ভ্রাতা ফারুক খানের ৩০ হাজার টাকার সোলার সহ ধনাঢ্য ও বিদ্যুয়িত অর্ধশতাধিক বাড়িতে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সোলার দেওয়া হয়েছে। হিজলদী ঘোজের বটতলা মাদরাসায়, আলাইপুর শেখপাড়া জামে মসজিদ, আলাইপুর দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ, খোর্দ্দ নজিবর রহমান পিং খোদা বকস একই গ্রামের আজাহারুল পিতা আমিন দফদার, পাচনল ঢালী পাড়া মসজিদ সহ বহু স্থানে পৃথক ভাবে দুই দফা বিল তুলে নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টরা একটি করে সোলার পেয়েছে বলে জানায়। প্রথম অগ্রিম গ্রহণের সাড়ে ৬ মাস এবং দ্বিতীয় অগ্রিম নেওয়ার ৪ মাস পরে এসংবাদ লেখার সময় যুগিখালী ফোরকানিয়া  মাদরাসা, বুঝতলা বাজারে, রামকৃষপুর মোড়, কাকডাঙ্গা বিওপি এলাকায় চোরাচালান দমন, নারী ও শিশু পাচার রোধে অন্ধকার এলাকা আলোকিত করতে বরাদ্দ ১৫টি সোলারসহ অর্ধশতাধিক সোলারের হদিস নেই বলে এলাকাবাসি জানায়। বিগত ২০১৪-২০১৫ সালে সাড়ে ৫ টন করে চাল বরাদ্দে রামকৃষপুর সৈয়দ কামাল বখত সাকি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে, শহিদ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে প্রদত্ত সোলার ২ বছর পরে এসংবাদ লেখা পর্যন্ত পৌঁছায়নি বলে প্রধান শিক্ষকদ্বয় জানায়।
সোলার ষ্ট্রীট লাইট বরাদ্দ পাকুড়িয়া যুজ্জ সরদারের মোড়ের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। এব্যাপারে কথা বলার জন্য অফিসে যেয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ