বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চীন সীমান্তে সুড়ঙ্গপথ নির্মাণ দ্রুত শেষ করার তাগিদ ভারতীয় সেনাবাহিনীর

চীন সীমান্তে নির্মাণাধীন ভারতীয় সুড়ঙ্গপথ 

১৭ নভেম্বর, স্পুটনিক : চীন সীমান্তের কৌশলগত অবস্থানগুলোর সঙ্গে মূলভূখ-ের সংযোগ মসৃন করতে সুড়ঙ্গপথ নির্মাণের কাজ দ্রুততর করছে ভারত। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্মাণের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী এমন নয়টি সুড়ঙ্গপথ চিহ্নিত করেছে বলে স্পুটনিকের এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

রিপোর্টে বলা হয়, এসব সুড়ঙ্গপথ বিতর্কিত সীমান্ত এলাকার কৌশলগত অবস্থানগুলোর সঙ্গে সব আবহাওয়ায় যোগাযোগ বজায় রাখবে। শুধু তাই নয়, দ্রুত লজিস্টিক পরিবহনে সহায়ক হবে। সেনাবাহিনীর অগ্রাধিকার তালিকায় অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের লাদাখ, অরুনাচল প্রদেশের তাওয়াং ও পূর্ব সিকিমের ডোকলাম উপত্যকা রয়েছে।

চলতি মাসের গোড়ার দিকে ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রতিমন্ত্রী সুভাষ ভামরি জানান, সব আবহাওয়ার উপযোগী আপার হিমালয়ান অঞ্চলে সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা খুবই চ্যালেঞ্জপূর্ণ কাজ। এর উপযুক্ত সমাধান হলো সুড়ঙ্গপথ।

ভামরি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ব্যয়বহুল হলেও সব আবহাওয়ার উপযোগী এবং মসৃন ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সড়ক ও রেলপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট হলো সুড়ঙ্গপথ।’

ভারত ও চীনা সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাত বাঁধতে পারে এমন আশঙ্কাজনক স্থানগুলোর মধ্যে পূর্ব লাদাখ সবচেয়ে এগিয়ে। দুটি সড়ক এই অঞ্চলকে ভারতের মূল ভূখ-ের সঙ্গে যুক্ত করেছে। কিন্তু বৃষ্টি ও তুষারপাতের কারণে বছরের অন্তত আট মাস এই সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী থাকে। এই সমস্যা দূর করতে অবিলম্বে সেখানে উঁচু পর্বতের তলদেশ দিয়ে সুড়ঙ্গপথ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

এদিকে, অরুনাচল প্রদেশে ভারতের বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন (বিওআর) একটি ১৩,৭০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের তলদেশ দিয়ে দুই লেনের সুড়ঙ্গপথ নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। এই সড়ক অরুনাচল প্রদেশের তাওয়াং শহরের সঙ্গে আসামের তেজপুরে অবস্থিত ভারতীয় সেনবাহিনীর চতুর্থ কোরের সদর দফতরকে সংযুক্ত করবে। এতে ভ্রমণের সময় এক ঘণ্টা কমার পাশাপাশি সড়কটি সব আবহাওয়ায় চলাচলের উপযোগী থাকবে।

চীন-ভারত সীমান্ত থেকে তাওয়াংয়ের দূরত্ব মাত্র ২২ কিলোমিটার। গত মাসে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত চীন সীমান্তের কাছে চারটি গিরিপথের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন। ২০২০ সালের মধ্যে এগুলোর নির্মাণ শেষ করতে হবে বলে তিনি জানান। এগুলো হচ্ছে- নিতি পাস, তাংলা পাস, লিপুলেখ পাস ও সাংখোলা পাস। সেনা-কমান্ডারদের সম্মেলন থেকে এই তাগিদ দেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ