শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

আলীকদমে প্রাক-প্রাথমিক ও স্লিপের অর্থ লুটপাটের তদন্তে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা

মমতাজ উদ্দিন আজাদ, আলীকদম (বান্দরবান): বিদ্যালয়ের অনিয়ম সরেজমিন তদন্ত করে প্রমাণসহ দফাওয়ারী তদন্ত প্রতিবেদন ৭ কর্মদিবসের মধ্যে দাখিলের জন্য বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নির্দেশ দেন গত ১৭ অক্টোবর। কিন্তু ১৯ কর্মদিবস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেননি আলীকদম উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ইস্কান্দর নূরী।
জানা গেছে, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের আলীকদম উপজেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামত, প্রাক-প্রাথমিক ও স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যানের (স্লিপ) বরাদ্দের টাকা লুটপাটের বিষয়ে সম্প্রতি অভিযোগ উঠে। সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকরা এ দু’অর্থবছরের অর্থ আত্মসাত করেন। এসব বরাদ্দের অর্থে বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মানোন্নয়ন, ছোট ছোট সংস্কার কাজ এবং গরিব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা উপকরণ কেনার কথা ছিল। এ নিয়ে গত ১৫ অক্টোবর উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় কথা উঠায় সহকারী ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
চৈক্ষ্যং ত্রিপুরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ঈশিতা ত্রিপুরা লিখিত বক্তব্যে তদন্ত কর্মকর্তা ও সহকারী ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ আলমগীরকে জানান, গত দুই অর্থবছরে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপকরণ ক্রয়খাতে ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। এ টাকায় প্লস্টিক ঘোড়া, গামলা, বর্ণকাড ও একটি র‌্যাক তাকে বুঝিয়ে দেন প্রধান শিক্ষক। অবশিষ্ট উপকরণ ক্রয়ের ব্যাপারে পরপর দুইজন প্রধান শিক্ষককে বললেও তারা মালামাল কিনে দেননি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বলেন, ইতোপূর্বে দুইজন প্রধান শিক্ষক এনামুল করিম ও হুমায়রা বেগম এ বিদ্যালয় থেকে বদলী হন। তারা বদলীকালে ২০১৫-’১৬ ও ২০১৬-’১৭ অর্থবছরের স্লিপ ও প্রাক-প্রাথমিকের স্লিপের মালামাল, ভাউচার ও ব্যাংক হিসাবের কাগজপত্র বুঝিয়ে দিয়ে যাননি।
এসব অনিয়মের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে দফাওয়ারী প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রিটন কুমার বড়–য়া গত ১৭ অক্টোবর স্মারক নং- ১৫৫/১৩১৬(৩) মূল্যে নির্দেশ দেন। কিন্তু উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইস্কান্দর নূরী নিজে তদন্ত না করে সহকারী ইন্সট্রাক্টরকে নির্দেশ দিয়েই যেন দায়সারা। তাকে এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় সাংবাদিকরা একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন না।
এদিকে, প্রাক-প্রাথমিক ও স্লিপের মালামাল না কেনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকদের রক্ষায় একটি পক্ষ সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরআগে অভিযুক্ত দুই প্রধান শিক্ষক এনামুল করিম ও হুমায়রা বেগমের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
সহকারী ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, অভিযুক্ত বিদ্যালয়গুলো  তদন্ত করেছি। কয়েকটি বিদ্যালয়ে স্লিপ ও প্রাক-প্রাথমিকের পূর্ণাঙ্গ মালামালা কেনা হয়নি। তাদের হিসাবের ভাউচারও পাওয়া যায়নি। কয়েকদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইস্কান্দর নূরী সোমবার দুপুরে বলেন, সহকারী ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দেননি। তাই প্রতিবেদন অগ্রগামী করা যাচ্ছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ