মঙ্গলবার ০২ মার্চ ২০২১
Online Edition

খুলনায় ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের আত্মহত্যা

খুলনা অফিস: বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে অনুপস্থিতির কারণে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে না এ কারণে কষ্টে অভিমানে বাসার ছয়তলার ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছে অর্ঘ্য বিশ্বাস (২২) নামের এক ছাত্র। সে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। তার পিতা অরবিন্দু বিশ্বাস খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী রোডের ৪৫ কাকলী বাগের বাসিন্দা। সে আত্মহত্যার পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সুইসাইড নোটে উল্লেখ করেছেন,‘তোমার মেরুদন্ডহীন বিদ্বান সূর্যসন্তানেরা তোমার এত উন্নতি করছে সেখানে আমি তোমার কি উপকার করছি বল? তোমার টাকায় পড়ে, খেয়ে তোমার সিস্টেমের বিরোধীতা করছি, তোমার সাথে বেইমানী করছি। দেখে নিও, আর করব না। সেদিন ভিসি স্যার এবং চেয়ারম্যান স্যারের কাছে মাফ চাইনি। আজ তোমার কাছে মাফ চাইছি। তোমার আর কোন ক্ষতি করব না। আর তোমার বিরোধিতা করব না। সোজা হওয়া এই মেরুদন্ড ভেঙ্গে নোয়াতে পারব না। সেটা আমার দাঁড়া হবে না। সেজন্য অন্য পথটা বেছে নিলাম। এ স্ট্যাটার্সে তার অনেক বন্ধু এটি শেয়ার করেছে। এবং বিভিন্ন কমেন্টও করেছেন। কমেন্টে তারা বর্তমান সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার ভ্রান্তনীতির জন্যই এই মেধাবী ছাত্রের জীবন অকালে ঝড়ে পড়েছে।
বাসার নৈশ প্রহরী জানান, গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাড়ির সামনে কিছু একটা পড়ার শব্দ শুনে তিনি এগিয়ে যান। সামনে গিয়ে ছয় তলার বাসিন্দা অরবিন্দু বিশ্বাস এর ছেলেকে পড়ে থাকতে দেখে তিনি ডাক চিৎকার শুরু করেন।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ঘুম থেকে উঠে এসে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পিতা অরবিন্দু বিশ্বাস জানান, অর্ঘ্যের ক্লাসে অনুপস্থিতির হার বেশি হওয়ায় প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না এমন খবর পায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। আর এ খবরেই কিছুদিন ধরে ভেঙ্গে পড়েছিল। রাতে সবার মত তারাও ঘুমিয়ে ছিল। গভীর রাতে দারোয়ান ও প্রতিবেশীদের চিৎকারে জেগে দেখে তাদের সন্তান আত্মহত্যা করেছে।
খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাগেরহাটের মোল্লাহাটের গ্রামের বাড়িতে তার শেষকৃত সম্পন্ন হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ