রবিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

চুয়াডাঙ্গায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হবার আশংকা

চুয়াডাঙ্গায় একটি আলু ক্ষেত

এফ.এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গা জেলায় এবার আলু চাষে চাষীদের মধ্যে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। বর্তমানে মৌসুমের শেষ সময়েও আলুর বাজার খারাপ হওয়ায় এই আলু খেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কৃষকরা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম আলুর আবাদ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩৩ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৭০৫ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২৫০,দামুড়হুদা উপজেলায় ৪২৮ ও জীবননগর উপজেলায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছিল। তবে চলতি মৌসুমে আলুর আবাদ লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে ধারণা করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) প্রবির কুমার বিশ্বাস জানান, চলতি মৌসুমে আলুর বাজার খারাপ হওয়ায় এবার আলু চাষের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে চাষিরা। জেলায় এবার ধানের বা¤পার ফলন ও বাজার দর ভালো পাওয়ায় ধান আবাদের দিকে ঝুকে পড়েছে কৃষকরা। ফলে জেলায় এবার আলু আবাদ লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকে নেমে আসার সম্ভাবনা বলে মনে করা হচ্ছে। জেলার দামুড়হুদা উপজেলা সদরের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছর হিমাগারে আলু রেখে ১২শ থেকে ১৩ শত টাকা দরে বিক্রয় করতে পেরেছে কিন্তু এবার সেই হিমাগারের আলু ৪৫০ থেকে ৫ শ’ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। একই কথা বললেন, দামুড়হুদার নাসির উদ্দীন।
তিনি প্রতি বছর ৪/৫ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করে থাকেন, এবার আলুর বাজার খারাপ হওয়ায় তার আলুর চাষ করা হবেনা। হাউলি গ্রামের কৃষক আজিজুল হক জানান, প্রতি বছর সে ৩/৪ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করতেন আলুর বাজার খারাপ হওয়ায় এবার সে ঐ জমিতে বোরো ধানের আবাদ করবেন। দামুড়হুদা সদরের বীজ বিক্রয় কেন্দ্র সুফলা টের্ডাসের স্বত্বাধিকারী আজিজুর রহমান জানায়, এবার আলু বপনের ভরা মৌসুমে আলুর বীজ বিক্রি নেই বললেই চলে। বাজারে বিভিন্ন জাতের আলুর বীজ পাওয়া গেলেও আমাদের অঞ্চলে সাধারনত কার্ডিনাল ও ডায়মন্ড জাতের আলুর আবাদ হয়ে থাকে। গত বছর ১৮শ টাকা মন দরে আলুর বীজ বিক্রয় হলেও এবার সেই একই জাতের আলুর বীজ ১২শ’ টাকা থেকে ১২৮০ টাকা মন দরে বিক্রয় করা হচ্ছে। সে হিসাবে মনে করা হচ্ছে এবার আলুর চাষ গত বছরের অর্ধেকের ও কম হবে।
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার সুফি মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান জানান, বেলে দোঁ-আশ মাটিতে সাধারণত: আলুর ফলন ভালো হয়ে থাকে। আমাদের জেলার মাটি বেলে দোঁ-আশ হওয়ায় এ অঞ্চলের মাটি আলু চাষের উপযোগি। তার পরে ও আলুর বাজার মূল্য কম হওয়ায় ধানের বাজার ও ফলন ভালো হওয়ায় আলুর আবাদের পরিবর্তে ধান চাষের দিকে ঝুঁকছে কৃষক। ফলে এবার আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অপূর্র্ণই থেকে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ