মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

নীরবে না ফেরার দেশে বাংলা বর্ষপঞ্জির সংস্কারক ও ভাষা সংগ্রামী তকীয়ূল্লাহ

 

স্টাফ রিপোর্টার : নীরবে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলা বর্ষপঞ্জির সংস্কারক ও ভাষা সংগ্রামী আ জ ম তকীয়ূল্লাহ। রাজধানীর বেসরকারি স্কয়ার হাসপাতালে কয়েক দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে তিনি ইন্তিকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। দীর্ঘ প্রায় চল্লিশ বছর বামরাজনীতির সাথে সক্রিয় এই প্রচারবিমুখ ব্যক্তিত্ব মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ বহু আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাংখী রেখে গেছেন। 

এদিকে, তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটি। অপর এক শোক বাণীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় অনন্যসাধারণ জ্ঞান ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন ভাষা সংগ্রামী এজেএম তকীয়ূল্লাহ। তার মৃত্যুতে বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো তা সহজে পূরণ হবার নয়। 

মরহুমের মেয়ে শান্তা মারিয়া জানান, তার বাবা বেশ কিছু দিন ধরে ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন। গত সোমবার থেকে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসকরা তকীয়ূল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। শান্তা মারিয়া আরো বলেন, গত বছর হার্ট অ্যাটাকের পর তার বাবার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরে তার ফুসফুসে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। ওই বছর জুলাইয়ে শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য জটিলতা নিয়ে বারডেম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছিল তাকে। 

প্রাপ্ত তথ্য মতে, পুরো নাম ‘আবুল জামাল মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ’ হলেও সংক্ষিপ্ত রূপ ‘আ জ ম তকীয়ূল্লাহ’ নামেই তিনি পরিচিত ছিলেন। বহু ভাষাবিদ, জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ষষ্ঠ সন্তানের  চতুর্থ ছেলে কমরেড তকীয়ূল্লাহ। বর্তমানে বাংলাদেশ যে বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করে, তার চূড়ান্ত সংস্কার হয়েছিল তার হাত দিয়েই। যার শুরু করেছিলেন তারই পিতা। তকীয়ূল্লাহ ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলন শুরুর সময়কার একমাত্র আলোকচিত্রী। ওই সময়ের ভাষা আন্দোলনের যেসব ছবি এখন পাওয়া যায়, সেগুলো তারই তোলা। সে সময়ের এই বাম নেতাকে ১৯৫১ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাগারে কাটাতে হয়। বিগত শতাব্দীর চল্লিশের দশক থেকে দীর্ঘদিন কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন আ জ ম তকীয়ূল্লাহ। ১৯৫১ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির ঢাকা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। 

তকীয়ূল্লাহর জন্ম ১৯২৬ সালে ৪ নবেম্বর পুরান ঢাকার লালবাগের হরিমোহন সেন স্ট্রিটের একটি ভাড়া বাড়িতে। তার বাবা মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তখন দেশে ছিলেন না। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তখন উচ্চতর শিক্ষার জন্য ইউরোপে অবস্থান করছিলেন।

মৃত্যুর আগে বহু বছর ধরে তিনি এক রকম নিভৃত জীবন-যাপন করছিলেন। ২০০৭ সালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর পাবলিশিং লিমিটেড (বিপিএল) থেকে তার আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘পলাতক জীবনের বাঁকে বাঁকে’ প্রকাশিত হয়। 

চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর তার ছোট ভাই। আর তার ভাতিজি বিশিষ্ট উদ্যোক্তা গীতিআরা সাফিয়া চৌধুরী সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তকীয়ূল্লাহর ছেলে আহমেদ ইউসুফ আব্বাস অগ্রণী ব্যাংকের একজন ডিজিএম। আর মেয়ে শান্তা মারিয়া সাংবাদিক ও কবি।

আ জ ম তকীয়ূল্লাহর লাশ বিকেল ৩টায় নেয়া হয় পল্টনে কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয়ে। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও শুভাকাংখীরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ আছর তার নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে নীলক্ষেতের বাবুপুরায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা জানিয়েছে পরিবার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ