বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০
Online Edition

আজ উপকূলের ১৫ জেলার ৩২ উপজেলার ৩৪ স্থানে প্রথমবারের মত পালিত হচ্ছে ‘উপকূল দিবস’

উপকূলবাসীর জীবনমান উন্নয়নসহ উপকূল সুরক্ষার লক্ষ্য সামনে রেখে এবার দেশে প্রথমবারের মত ‘উপকূল দিবস’ পালিত হচ্ছে। ১৯৭০ সালের ১২ নবেম্বরের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের দিনটিকে ‘উপকূল দিবস’ হিসাবে প্রস্তাব করা হয়েছে। এদিন উপকূলের ৩৪ স্থানে একযোগে ‘উপকূল দিবস’ পালিত হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দাবি সম্মলিত স্মারকলিপি পেশ।
উপকূলবর্তী ১৫ জেলার ৩২ উপজেলার ৩৪ স্থানের দিবসটি পালিত হবে। উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের সদর, রায়পুর, ভোলা জেলার সদর, চরফ্যাসন, তজুমদ্দিন, মনপুরা, পটুয়াখালীর সদর, গলাচিপা, বাউফল, কলাপাড়া, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালী, নীলগঞ্জ (কলাপাড়া), চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, ফেনীর সোনাগাজী, ছাগলনাইয়া, সাতক্ষীরার সদর, তালা, শ্যামনগর, বুড়িগোয়ালিনী (শ্যামনগর), খুলনার পাইকগাছা, বরিশাল সদর, চাঁদপুর সদর, পিরোজপুরের কাউখালী, নোয়াখালীর সুবর্ণচর, হাতিয়া, বরগুনার সদর, পরীরখাল (বরগুনা সদর), বাগেরহাটের সদর, শরণখোলা, কক্সবাজারের টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, এবং ঝালকাঠির সদর ও কাঁঠালিয়ায় দিবসটি পালিত হচ্ছে।
উপকূল দিবস বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বানে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রায় ১০০ সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান দিবস পালনে এগিয়ে এসেছে। এরমধ্যে রয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, গণমাধ্যকর্মীদের সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, কিশোর-তরুণদের ফোরাম ইত্যাদি। দিবস পালনের প্রধান উদ্যোক্তা হিসাবে রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উপকূল বাংলাদেশ, কোস্টাল জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ, আলোকযাত্রা দল।
১২ নবেম্বর ‘উপকূল দিবস’ প্রস্তাবের যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে উদ্যোক্তারা বলেন, দিবস বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ১২ নবেম্বরকে বেছে নেওয়ার কারণ হচ্ছে, ১৯৭০ সালের এই দিনটি উপকূলবাসীর জন্য স্মরণীয় দিন। এদিন বাংলাদেশের উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে যায় সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ভোলা সাইক্লোন’। এই ঘূর্ণিঝড় লন্ডভন্ড করে দেয় উপকূল। বহু মানুষ প্রাণ হারান। ঘরবাড়ি হারিয়ে পথে বসেন। এই ঘূর্ণিঝড় গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। এটি সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ছিল। ঘূর্ণিঝড়টি ৮ই নবেম্বর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হয়। ক্রমশ শক্তিশালী হতে হতে এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ১১ নবেম্বর এটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটারে পৌঁছায়। ওই রাতেই উপকূলে আঘাত হানে। জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপসমূহ প্লাবিত হয়। ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় পাঁচ লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বলা হলেও বেসরকারি হিসাবে প্রায় দশ লাখ।
জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বিশ্বের পাঁচ ধরনের ভয়াবহ প্রাণঘাতি আবহাওয়া ঘটনার শীর্ষ তালিকা প্রকাশ করে চলতি বছরের ১৮ মে। ওই তালিকায় বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৯৭০ সালের ১২ নবেম্বরের ঘূর্ণিঝড়টিকে পৃথিবীর সর্বকালের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রাণঘাতি ঝড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে উইকিপিডিয়ার সূত্র বলছে, এ পর্যন্ত রেকর্ডকৃত ঘূর্ণিঝড় সমূহের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্নিঝড়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ