বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০
Online Edition

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে আ’ লীগ নির্বাচন বয়কট করবে -গয়েশ্বর

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সম্মিলিত ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে রফিকুল ইসলাম মজনু ও সাঈদ হাসান মিঠুর মুক্তির দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ন্যূনতম অবাধ-সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে আওয়ামী লীগ সেই নির্বাচন বয়কট করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। কারণ অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসবে না।
গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর  (দক্ষিণ) যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনু ও ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদ হাসান মিন্টুর মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে সম্মিলিত ছাত্র ফোরাম।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমি একটি আগাম কথা বলি যে, বাংলাদেশে পরবর্তী নির্বাচন ন্যুনতম অবাধ-সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে আওয়ামী লীগ নির্বাচন বয়কট করবে। কারণ অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসবে না।
বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিন্তু শেখ হাসিনার অধীনে নয় জানিয়ে দলটির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, বিএনপি এখনও শেখ হাসিনার জন্য গলার কাটা। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ১৪ সালে যে যে কারণে আমরা নির্বাচনে যাই নাই সে কারণে আমরা আগামী নির্বাচনেও যেতে পারি না। সুতরাং যে কারণে যাইনি সে কারণগুলোকে আমরা মোকাবিলা করে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সৃষ্টি করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। এজন্য আমরা সদা প্রস্তুত। তবে শেখ হাসিনার অধীনে নয়। কারণ এটা অসম্ভব। কোয়াইট ইম্পসিবল যে, এই সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। নির্বাচনের ব্যাপারে যা যা অন্তরায় আছে সেগুলোর মূল উৎপাটিত করে, অর্থাৎ নিরসন করেই আমরা নির্বাচনে যাব।
গয়েশ্বর বলেন, সর্বশেষ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের জাজমেন্টের অবজারভেশনে একটা জায়গায় লেখা আছে আরও ২ মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সুতরাং জাজমেন্টে কিন্তু বলে দিচ্ছে আরও ২ মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তাই সরকারের নাম নিয়ে আমাদের এতো কথা বার্তা বলার দরকার নাই। এটা হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত দিয়েই দিয়েছে। এখন এটা শুধু কার্যকর করার জন্য আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম করতে হবে। এজন্য যদি আইনি লড়াই করতে হয় সেটা করার প্রয়োজনীয়তা আছে। সুতরাং যে দিন নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখবে, সেদিন এই আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না করার হুমকি দিবে।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, নির্বাচন তো হবেই, বিএনপি নির্বাচনে বিশ্বাস করে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিশ্বাস করে না বলেই ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান সংসদে ঢুকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করলেন।
আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ