বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০
Online Edition

সোনালী ব্যাংকের দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে ব্যবসায়ীর ১৪ বছরের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম অফিস : সোনালী ব্যাংকের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে এক লবণ ব্যবসায়ীকে দু’টি মামলায় ৭ বছর করে ১৪ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মীর রহুল আমিন এই রায় দিয়েছেন। একই রায়ে আদালত তিন আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন। দন্ডিত লবণ ব্যবসায়ী রতন কুমার বিশ্বাস কক্সবাজারের মেসার্স আজমির সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক। তিনি বর্তমানে পলাতক আছেন।
খালাস পাওয়া তিন আসামী হলেন, রতন বিশ্বাসের পার্টনার মো.সিরাজউদ্দৌলা এবং সোনালী ব্যাংকের কক্সবাজার সদর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক গোলাম রহমান ও সিনিয়র অফিসার প্রকাশ কান্তি চৌধুরী।  রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে হাজির ছিলেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আসামীদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ১০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলা হয়েছিল। দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আদালত ৭ বছর করে কারাদন্ড দিয়েছেন।  বাকি ধারাগুলোতে অভিযোগ প্রমাণ হয়নি।  তিনজন আসামীর বিরুদ্ধে কোনো ধারায় অভিযোগ প্রমাণ হয়নি।
সূত্রমতে, ১৯৯৮ সালে লবণ ব্যবসায়ী রতন বিশ্বাস সোনালী ব্যাংকে জমির দলিল দাখিল করে প্রথম দফায় ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ৮ লাখ টাকা ঋণ নেন।  পরবর্তীতে দেখা যায় দাখিল করা জমির দলিল ভূয়া।
পরস্পরের যোগসাজশে সোনালী ব্যাংক থেকে নেওয়া টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০০ সালের ২৯ জুলাই চারজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়।  দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক মোবিনুল ইসলাম বাদি হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন।
২০০৪ সালের ৩১ জুলাই দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।  ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আসামীদের বিরুদ্ধে দুই মামলায় অভিযোগ গঠন হয়। প্রত্যেক মামলায় ৯জন করে সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
আদালত প্রথম মামলার রায়ে রতন কুমার বিশ্বাসকে ৭ বছরের কারাদন্ডের পাশাপাশি আত্মসাত করা ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা পরিশোধের আদেশ দিয়েছেন।  জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আরো এক বছর কারাদন্ড ভোগ করতে হবে। দ্বিতীয় মামলার রায়ে ৭ বছর কারাদন্ডের পাশাপাশি ৮ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ