বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০
Online Edition

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির ফের শুনানি ৩ ডিসেম্বর

স্টাফ রিপোর্টার : নিম্ন আদঅলতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশে সরকারকে আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। শুনানিতে এটর্নি জেনারেল বলেছেন, বিচারপতিদের সঙ্গে বসে এ বিষয়ে আলোচনা করতে চান আইনমন্ত্রী।
গতকাল রোববার সরকারের সময় চেয়ে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো.আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে আপির বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে সরকার পক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
শুনানিতে এটর্নি জেনারেল জানান, বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট প্রকাশের সুরাহা করতে আপিল বিভাগের সঙ্গে বসতে চান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আগামী বৃহস্পতিবার এ আলোচনা হতে পারে।
এরপর এটর্নি জেনারেল নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলায় আমরা আবারও ৪ সপ্তাহ সময় নিয়েছি। আদালতকে জানিয়েছি, এ বিষয়ে আলোচনার জন্য আইনমন্ত্রী ওনাদের সঙ্গে বসতে চান। আগামী বৃহস্পতিবার এ বৈঠক হতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা যেভাবে চাইতেন, রুলসটা যেভাবে হোক, তাতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় নানা রকম কার্টেল হওয়ার একটা বিষয় দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। তাই সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের আলাপ আলোচনার মাধ্যমে জিনিসটা কিভাবে সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তি হতে পারে সরকার সে চেষ্টা করছে। গতকাল আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আমার এ ধরণের কথা হয়েছে।
এরআগে গত ৮ অক্টোবর সরকার পক্ষের ৪ সপ্তাহ সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে ৫ নবেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন আদালত। এর আগে গত ২০ আগস্ট প্রধান বিচারপতির সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ শুনানি শেষে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত গেজেট প্রকাশের সময় বাড়িয়েছিলেন। এর আগে গত ৬ আগস্ট দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে বৈঠকের কথা বলেছিলেন সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু এর মধ্যে সরকার ও আদালতের মধ্যে কোনো বৈঠক হয়নি।
গত ৩০ জুলাই প্রধান বিচারপতি এস কে আদালতে এটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত (৩০ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত) দুপুর ২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আমি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতিরা আপনাদের (সরকার) সময় দেব। বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধিমালা নিয়ে আর রশি টানাটানি নয়। আইনমন্ত্রীসহ সরকারের যেকোনো বিশেষজ্ঞ আসবেন, বৈঠকে বসব। আপনিও থাকবেন।’
১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেনের মামলায় (বিচার বিভাগ পৃথককরণ) ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের ভিত্তিতে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের এ নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।
গত বছরের ২৮ আগস্ট শুনানিতে আপিল বিভাগ খসড়ার বিষয়ে বলেন, শৃঙ্খলা বিধিমালা সংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ; যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ