মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ছড়া/কবিতা

রেল লাইনের ধারে
রওশন মতিন

রেল লাইনের ধারে শান্তির পায়রা উড়ে,
আকাশের ছাদ-নীল আকাশটা খুঁড়ে
প্রজাপতি মেঘ উড়ে বৃষ্টির হাত ধরে,
ঝিকঝিক ট্রেন আসে-ট্রেন যায় রেল পথ জুড়ে।

কত মানুষের আনাগোনা, বর্ণিল যাত্রী মিছিল,
আকাশ ছড়িয়ে আছে আকাশে শান্তির নীল।
শান্তির সুবাতাস বয়ে যায় প্রাণের ভিতর,
আশা জাগানিয়া চেয়ে থাকে নীরব-নিথর-
রেল পথে, ট্রেন আসে, ট্রেন যায় প্রীতি বন্ধনে,
ঝাপখোলা দোকানে শান্তির পায়রা উড়ে কথার গুঞ্জনে।


কাটুক আঁধার-রাত
মুহাম্মাদ আলী মজুমদার

দলে দলে রোহিঙ্গারা
আসছে আমার দেশে
কেউবা এলো পায়ে হেঁটে
কেউবা নৌকোয় ভেসে।

মা-হারালো, বাপ হারালো
হারালো ঘর-বাড়ি
একটুখানি বাঁচার আশায়
দিচ্ছে সাগর পাড়ি।

এসো সবাই তাদের পানে
বাড়াই দয়ার হাত
মানবতার বিজয় আসুক
কাটুক আঁধার-রাত।


হেমন্তের হাল
মোস্তফা কামাল সোহাগ

কার্তিক অগ্রহায়ণ হেমন্তকাল
মাঠে মাঠে ধান
চাষী মাঠে ধান কাটে
খুশি অফুরান।

গগন জুড়ে শুভ্র মেঘ
হাওয়ার সাথে ভাসে
সাঁঝ সকালে শিশির পড়ে
মাঠের দুর্বা ঘাসে।
চাঁদনী রাতে সুবাস ছড়ায়
শিউলী হাসনাহেনা
গানে মাতায় হরেক পাখি
সব আমাদের চেনা।

হাওর বিলে বকের সারি
পাবদা পুঁটি খোঁজে
গাঁয়ের লোক হেমন্ত ঋতু
খুব সহজেই বোঝে।


হেমন্ত এই কালে
ফরিদ আহমেদ হৃদয়

ক্ষেত ভরেছে আমন ধানে
কাটছে কৃষক গানে গানে
হেমন্ত এই কালে
নবান্নের গান গাইছে পাখি
বসে গাছের ডালে।

কিষাণীরা ব্যস্ত অতি
বেড়ে গেছে কাজের গতি
ভরছে গোলায় ধান
নতুন চালের পিঠা-পুলি
রাতের বেলায় গান।


সোনালী দিন
বাতেন বাহার

কাল সকালে বৃষ্টি ছিল-অঝর ধারা রাতে
তালের পাতার ছন্দ দোলা, দুঃখ কলার পাতে।
আজ সকালে বৃষ্টি উধাও, মেঘরা পেজা তূলো
চোখ মেলেছে সূর্যি মামা, জ্বলছে মাটির চুলো।

কান্না ভুলে হাসছে আকাশ চোখ মেলেছে তারা
পালিয়ে গেছে দূর আকাশে দুখের শ্রাবণ ধারা।
সোনালী দিন তাই আকাশে আলোর কারুকাজ
আবির রঙে সেজেছে আজ লালচে মায়ার সাজ।

খেয়ার ঘাটে আড্ডা এখন, জাগছে মনে ছড়া
উঠছে হেসে নতুন করে চাঁদমনিদের ধরা।
পদ্ম পাতে জলের নাচন-লালশালুকের হাসি
শিউলীবাগে খোকা-খুকুর পুতুল খুঁজে মাসি।

চমকে শিশির আগাম ধানের সবুজ বরণ শীষে
না বলা সব কথামালায় হারায় কারা দিশে।
কাল সকালে বৃষ্টি ছিল- গোমরা খুকুর মুখ
হেমন্তে আজ সোনালী দিন, নাচায় কিশোর বুক।
জাগছে সারা শহর গাঁয়ে, মাতছে ফুলের বন
আগাম ধানের স্বপ্নে বিভোর কৃষাণ বধূর মন।


কুকুর
জয়নাল আবেদীন বিল্লাল

রাস্তার পাড়ে পলিথিনের চাল
ঐখানে থাকে কুকুরের পাল
প্রতিদিন ভোরে উঠে কোথা যায় ছুটি
করেনাকো ক্ষতি কারো এক সাথে জুটি।

সারাদিন দেখা নাই সন্ধ্যায় আসে
চোখের তারায় যেন মহারাজ ভাসে।
ওদের মধ্যে বড় যে সবার, চোখের মণি
তার কথা শুনে হয় মহাজ্ঞানী।

কুকুর হলেও ওরা প্রভুভক্ত প্রাণী
আমরা মানুষ কম বেশি সবাই কিন্তু জানি।


ভাবছে খোকন মৌ-মাসি
হোসাইন মোস্তফা

বাড়ির পাশে বকুল গাছে
হঠাৎ দেখি কাল
মৌমাছিরা বাঁধছে বাসা
নেচে তা ধিন্ তাল।

গুনগুনাগুন্ গুঞ্জরণে
করছে মুখরিত
তাইনা দেখে ডানপিটেরাও
ভীষণ রকম ভীত।

গাছে পেকে আছে কতো
ডাসা ডাসা কুল
ভুলেও তবু চড়ছে না কেউ
ফোঁটায় যদি হুল!

ফুরুত ফুরুত উড়ছে মাছি
ঘুরছে ঝাঁকে ঝাঁকে
পাড়া জুড়ে জাগলো সাড়া
জমবে মধু চাকে॥

ভাবছে খোকন আসলো বুঝি
তার সে প্রিয় মৌ-মাসি?
মাসি মাকে শ্বশুর বাড়ি
নোয়াখালীর চৌগাছি!


আমাদের বাংলাদেশ
মো. আব্দুল হাকিম

ও আমাদের বাংলাদেশ যে,
প্রিয় জন্মভূমি,
আমরা তোমায় ভালোবাসি
সদা দিবস যামী॥

তোমার সবুজ-শ্যামল হাসি,
প্রাণে সদা বাজায় বাঁশি,
তোমার প্রতি ধূলিকণা
সোনার চেয়েও দামী॥

তোমার কোলে তোমার বোলে,
শান্তি সুখে মনটা দোলে,
আমরা তোমার করব সেবা
রইব কল্যাণকামী॥

তোমার বিলীন চাইবে যারা,
ছাড় দেবো না তাদের আমরা,
হাসি মুখে জীবন দেবো
থাকবে স্বাধীন তুমি॥

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ