মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কথা

এডভোকেট আব্দুস সালাম প্রধান : [চার]
১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে সংস্কার পন্থি মিখাইল গর্ভাচভ সোভিয়েত কমুনিষ্ট পার্টির সেক্রেটারী জেনারেল নিযুক্ত হন। তিনি সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পেরেস্ত্রোয়েকা ও গ্লাসনস্ত নামে সংস্কারের ধারা চালু করেন। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৭৮-১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আফগানিস্তানে সোভিয়েত দখলদারিত্তের সময়কাল থেকে ঐ দেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ পাকিস্তান ও ইরানে আশ্রয় নেয়। ১১ টি সংগঠনে বিভক্ত হয়ে সোভিয়েত দখলদার বাহিনীর হাত থেকে আফগানিস্তানকে মুক্ত করার জন্য আফগান জনগণ শসস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। তারা মার্কিন যুদ্ধরাষ্ট্র, সৌদি আরব এবং ন্যাটো, জোটের কাছে অস্ত্র ও অর্থ সাহায্য লাভ করে। পাকিস্তান তাদের মাটিতে এসব সংগঠনকে ট্রেনিং গ্রহণ করে আফগানিস্তানে অভিযানের ক্ষেত্রে সহায়তা করে। ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে প্রেসিডেন্ট গর্ভাচভ আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত বাহিনী প্রত্যাহার করে নেন। একই ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে সকল শসস্ত্র মুজাহিদ সংগঠন দুর্বল ভংগুর আফগান সরকারকে পরাজিত করে কাবুল দখল করে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নজিবুল্লাহকে একটি বিদেশি দুতাবাস থেকে গ্রেফতার করে প্রকাশ্যে ফাঁসিতে লটকায়। যুদ্ধ শেষে শসস্ত্র মুজাহিদ বাহিনী গুলোর মধ্যে গৃহ যুদ্ধ শুরু হয়। ফলে সোভিয়েত আগ্রাসনোত্তর আফগানিস্তান আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠে। সোভিয়েত বাহিনী প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তান একাধিক গ্রুপের অধীনে দেশটি বিভক্ত হয়ে পড়ে। পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের আফগান উদ্ধাস্ত শিবির গুলোতে আশ্রয়  নেয়া আফগানদের হাজার হাজার সন্তান শিশু কিশোর তরুণ ঐ সময়ে ভারতের দেওবন্দ মাদরাসায় আদলে প্রতিষ্ঠিত অনেক মাদরাসায় অধ্যয়নরত ছিল। সোভিয়েত মুক্ত আফগানিস্তনের গৃহ যুদ্ধকালে ঐ সমস্ত মাদরাসায় অধ্যয়নকারী ছাত্রদেরকে তালেবান বা ছাত্র বলা হয়। তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে একত্র করে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্র একটি নুতন বাহিনীর জন্ম দেয়। এই বাহিনীর নাম তালেবান। এরা মোল্লা ওমর ও আব্দুল গনী বেরাদরের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী শসস্ত্র বাহিনী হিসাবে আত্ম প্রকাশ করে এবং আফগানিস্তানে প্রবেশ করে। এদের অভিযানের সামনে পরস্পর দ্বন্দে লিপ্ত বিভিন্ন সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা মুজাহিদ গ্রুপগুলো টিকতে না পেরে একে একে আত্মসমর্পন করতে থাকে। এরা রাজধানী কাবুলসহ সমগ্র আফগানিস্তান দখল করতে সমর্থ হয়। এক পর্যায়ে এক সন্ত্রাসী জেনারেল আব্দুর রশিদ দোস্তামের হাত থেকে মাজার শরীফ প্রদেশ মুক্ত করে। ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তাদের দ্বারা গোটা আফগানিস্তান একটি একক সরকারের অধীনে চলে আসে। এদের সরকারকে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয় এবং পরস্পর রাষ্ট্র দূত বিনিময় করে। তালিবানরা পৃথিবীর প্রথম শসস্ত্র হানাফী সুন্নি গোষ্ঠী যারা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলে নিতে সমর্থ হয়। এরা আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে যুদ্ধ করলেও আফগানিস্তানকে দখল করে হাজার বছরের পূর্ব যুগে ফিরায়ে নিয়ে যাওয়ার অবাস্তব প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়। এরা ইসলামের সৌন্দর্য্য ও যৌক্তিকতা আফগান জনগনের কাছে কখনই তুলে ধরে নাই। বরং এরা গায়ের জোরে সেদেশের পুরুষদেরকে দাড়ী রাখতে, পাগড়ী পড়তে বাধ্য করে এবং দেশের সমস্ত টিভি চ্যানেল ও রেডিও স্টেশন বন্ধ করে দেয়। দেশের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ করে দেয়। তার বদলে ভারতের দেওবন্দ মাদরাসার আদলে নেসাবের অসংখ্য মাদরাসা চালু করে। বোরকা না পড়লে মেয়েদের বেত্রাঘাত করতে শুরু করে। এ দলটির সদস্যদের ইসলামের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, পারিবারিক আইন, আন্তজার্তিক আইন ও যুদ্ধনীতির কোন জ্ঞান বা ধারনা ছিল না। তাদের ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মনগড়া পদ্ধতি অচিরেই সেদেশের জনগনের কাছে অস্বস্তিকর ও বিরক্তিকর প্রমাণিত হওয়ায় বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। আফগানিস্তান কয়েক বছরের জন্য মধ্যযুগের অন্ধকারে চলে যায়। তারা ইসলামের আলোকে কোন শাসনতন্ত্র বা দন্ডবিধি বা কোড ধরনের আইন প্রনয়ন না করে শুধুমাত্র তাদের দৃষ্টিতে যা সুন্নত মনে হয়েছে তাই সেদেশের জনগনের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। ২০০১ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারী মাসের ১১ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে একটি সন্ত্রাসী হামলা হয়। সেখানে একটি আন্তজার্তিক ট্রেড সেন্টার ছিল। ঐ ঘটনায় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের হাইজ্যাক করা পরিবহন বিমান দ্বারা আঘাত করা হয়। ফলে টাওয়ার দুইটি বিধ্বস্ত হয়ে রহস্যজনকভাবে ধুলা বালির আকারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ঐ সন্ত্রাসী ঘটনায় ৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। ঐ দিন সন্ত্রাসী হামলাকারীদের হাইজ্যাক করা আরো দুটি বিমান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হেড কোয়ার্টার পেন্টাগন ও ওয়াশিংটনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিকট আছড়ে পরে বিধ্বস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জজ বুশ টুইন টাওয়ারে হামলার জন্য আফগানিস্তানে অবস্থানকারী আরব যোদ্ধা যারা সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই এর জন্য এসেছিল, তাদের দায়ী করে। এই বাহিনীর নাম ছিল আল কায়েদা। তাদের কমান্ডার ছিলেন ওসামা বিন লাদেন। এ বিষয়ে পরে আলোচনা করব ইনশাল্লাহ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জজ বুশ ঐ হামলার পরিকল্পনাকারী আখ্যা দিয়ে ওসামা বিন লাদেন ও তার সহযোগীদের যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার দাবী করে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার আফগানিস্তানের প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী ঐ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য সেদেশের বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধিদের সাথে পরামর্শের জন্য “লয়া জিরগা” আহবান করে। লয়া জিরগার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তালেবান সরকার ওসামাবিন লাদেন ও তার সহযোগী যোদ্ধাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রত্যর্পন করতে অস্বীকৃতি জানায়। তার প্রতিক্রিয়ায় ২০০১ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই সেপ্টেম্বর মার্কিন নৌবহর ভারত মহাসাগর থেকে আফগানিস্তানে মিশাই্ল ও বিমান হামলা শুরু করে। এক সময়ে পাকিস্তান হয়ে মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তানে হামলা চালায়। হামলার এক পর্যায়ে তালেবান সরকার পরাজিত হয়। ৭ অক্টোবর ২০০১ মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান দখল করতে সমর্থ হয়। আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত সরকার ক্ষমতাসীন হয়। বর্তমানে এই তালেবান যোদ্ধারা দেশের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় অস্ত্রসহ অবস্থান করছে। এরা কখনই আফগানিস্তানের জনগনের কাছে তাদের জন্য কোন সমর্থন চায় নাই। বরং তারা ইচ্ছে করলে একটি ইসলামী রাজনৈতিক দল গঠন করে আফগান জনগনের কাছে তাদের উদ্দেশ্য আদর্শ তুলে ধরে সমর্থন চাইতে পারতো। অস্বাভাবিকভাবে এদের জন্ম হওয়ায় এরা কখনও সেই লাইনে যায় নাই। একটি আধুনিক রাষ্ট্র ইসলামের বিধান মতে পরিচালনার মত কোন মেধা বা যোগ্যতা এদের ছিলনা। তাদের মনগড়া পদ্ধতিতে পৃথিবীর কোথাও কখনই কোন ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম হবে না। বরং এদের ভুল সিদ্ধান্তের কারনে বিশ্বের ইসলাম বিরোধী শক্তিগুলো চিরদিন মুসলমানদের অভিযুক্ত করে আধিপত্য বিস্তার করার সুযোগ পেতে থাকবে। এ দলটির নেতা মোল্লা ওমর সম্প্রতি মৃত বরন করেছেন। তার মৃত্যুতে দলটির নেতৃত্বে কোন্দল দেখা দিয়েছে। এদের চাপিয়ে দেয়া ইসলাম এর ফলাফল এই যে, এদের পতনের পর অনেক মানুষকে কাবুলের রাজপথে প্রকাশ্যে দাড়ী মুন্ডন করতে দেখা গেছে। ইসলাম একটি কালজয়ী আদর্শ। এই আদর্শের আলোকে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, আধুনিক মিডিয়া, সেনাবাহিনী সব কিছুকে ঢেলে সাজানো যায়। বিজ্ঞান এর আবিষ্কার বা তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে ইসলামের কোন বিরোধ নাই।
৫। আল কায়েদা : বর্তমান মুসলীম বিশ্বে বেশ কিছু সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামের নাম ব্যবহার করে নানাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তারা অনেক নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। এরা তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞানে অগ্রসর হলেও কোরআন হাদীস বা ইসলামী শরিয়তের জ্ঞানের ক্ষেত্রে মেধাশুন্য। এরা হঠাৎ করে যেন মাটি ফুঁড়ে দুনিয়াবাসীর সামনে আবির্ভত হয়েছে। এরা কোন আদর্র্শে বিশ্বাসী, কি করতে চায়, পৃথিবীতে মানুষ বা মুসলমানরা তা আজো অজ্ঞাত। আল কায়েদা শব্দটির অর্থ অনেকেই করে থাকেন ভিত্তি হিসাবে। কিন্তু আরবী কায়েদ শব্দের অর্থ নেতা দলপতি বা কমান্ডার। এই নাম গ্রহনের স্বার্থকতা কি তা দলটির প্রতিষ্ঠাকারীরাই জানেন। বিশ্ববাসী এ ব্যপারে অজ্ঞাত। উদ্ভূত এই নামের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। পূর্বেই আলোচনা করেছি। ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৮৯ সালের মধ্যে সমগ্র আফগানিস্তান সোভিয়েত ইউনিয়নের দখলে যায়। তারা সেখানে তাদের অনুগত শাসক গোষ্টিকে ক্ষমতায় বসায়। ঐ সময় আফগানিস্তানের বিভিন্ন গোত্র ধর্মীয় গোষ্ঠির নেতারা ১১ টি মুজাহিদ দল গঠন করে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সমর্থনে তাদের যোদ্ধা দলকে অস্ত্র ট্রেনিং দেয়। সৌদি আরবসহ মুসলিম বিশ্ব এদের আর্থিক সহায়তা করে। ঐ সময় সৌদি আরব, ইয়েমেন, মিশর প্রভৃতি রাষ্ট্রের অনেক উৎসাহি যোদ্ধা জিহাদের সওয়াব লাভের আশায় পাকিস্তানে আসে। এই দলে সৌদি আরবের বিখ্যাত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিন লাদেন গ্রুপের একজন অংশীদার ধনকুবের ওসামা বিন লাদেন, মিশরের আয়মান জাওয়াহেরী সহ অনেক আরব যোদ্ধা আফগান যুদ্ধে শরীক হয়। আফগান যুদ্ধকালে ওসামা বিন লাদেন ও আয়মান আল জাওয়াহেরী আরব যোদ্ধাদের নিয়ে একটি মুজাহিদ দল গঠন করে। তাদেরকে অস্ত্র ও ট্রেনিং দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরা আফগানিস্তান ঢুকে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে সোভিয়েত বাহিনীর প্রত্যাহার ও মুজাহিদ বাহিনীগুলোর কাবুল দখলের পর এরা আফগানিস্তান থেকে যায়। ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে আফগানিস্তানে মার্কিন হামলা করার পর এই দলটিকে যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস করে ফেলতে পেরেছে মনে হলেও তারা পাকিস্তান, আফগানিস্তানের দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলে আত্মগোপনে থেকে উভয় রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিঘœ করতে থাকে। তারা আফগান তালেবান, পাকিস্তান তালেবান, হক্কানী নেটওয়ার্ক প্রভৃতি সন্ত্রাসী দলের সাথে এক হয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে মনে করা হয়। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে ইরাকের নেতা সাদ্দাম হোসেন কুয়েত দখল করে সেটাকে তাদের প্রদেশ হিসাবে ঘোষনা দেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের মিত্র অতিক্ষুদ্র ধনাঢ্য দেশ কুয়েত রাষ্ট্রটির পতণে তাদের স্বার্থের জন্য বিরাট ক্ষতি মনে করে। এক পর্যায়ে উপসাগরীয় এলাকার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ সৌদি আরব, আরব আমিরাত তাদের দেশে মার্কিন সৈন্যদের ঘাটি স্থাপনের অনুমতি দেয়। পূর্ব সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে মার্কিন সৈন্যদের ঘাটি স্থাপিত হয়। এক পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র বৃটেন, ইরাক আক্রমণ করে দেশটিকে একেবারেই বিধ্বস্ত করে দেয়। একপর্যায়ে সাদ্দাম হোসেন এর বা’স পার্টির শাসনের অবসান হয়। বর্তমানে সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুগত সরকার ক্ষমতায় আছে। ইরাক যুদ্ধের পর সৌদি আরবের দাম্মাম এর মার্কিন ঘাটিতে আল কায়েদা ২/১ একটি সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনা করেছে। এছাড়াও ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল এদের দখলে আছে বলে মনে করা হয়। এরা কেনিয়ার মুম্বাসা বন্দর ও ইয়েমেনের এডেন বন্দর এর বিদেশীদের অবস্থান করা কিছু হোটেলে কিছু আত্মঘাতী হামলা পরিচালনা করেছে মর্মে আন্তজার্তিক গণ মাধ্যমের খবরে জানা যায়। দলটির নেতা ওসমা বিন লাদেন পাকিস্তানের সমারিক ঘাটির শহর এবোটাবাদে পরিবার পরিজন নিয়ে আত্ম গোপনে বসবাসরত থাকাবস্থায় ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ২রা মে রাত ১ ঘটিকায় মার্কিন নৌ কমান্ডোদের হামলায় নিহত হন। তারপর থেকে মিশরীয় নাগরিক আয়মান আল জাওয়াহেরী এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে শোনা যায়। পাশ্চাত্যের গণ মাধ্যমে এদেরকে ওয়াহাবী ইসলামী মিলিট্যান্ট নামে অবহিত করে থাকে। তবে এরা তাদের কার্যক্রম দ্বারা কি ধরনের ইসলাম কায়েম করতে চায় তা বিশ্বের মুসলমানরা বা আমরা কেউ জানিনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ