মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কলাগাছ থেকে মূল্যবান আঁশ

ঠাকুরগাঁও জেলায় কলা উৎপাদন হচ্ছে কয়েক দশক ধরেই। এ জেলার পাশের জেলা পঞ্চগড় এবং দিনাজপুরেও কলার চাষ হচ্ছে। কলাগাছ একফসলি অর্থাৎ একবার ফল দিয়ে মরে যায়। কলাচাষে কৃষকরা লাভবান হলেও এর গাছ নিয়ে এতোদিন বিপাকে পড়তে হতো তাদের। কারণ কলার কাইন্দ অপেক্ষা এর গাছটি কয়েক গুণ বড় হয়ে থাকে। এতো কলাগাছ কোথায় ডাম্পিং করা যায় তা নিয়ে ছিল দুশ্চিন্তা। কারণ কলাপাতা গরু-ছাগলে খেলেও এর কা- বৃহদাকার প্রাণি হাতি ব্যতীত আর কোনও প্রাণিই খায় না। উত্তরাঞ্চলে বনজঙ্গল না থাকায় হাতিও নেই। তাই কলাগাছ নিয়ে কৃষকরা ছিলেন দুর্ভাবনায়। কিন্তু সম্প্রতি সেটার অবসানতো হয়েছেই বরং কলাগাছ এখন অর্থকরী পণ্য হিসেবে গণ্য হতে শুরু করেছে ঠাকুরগাঁও তথা উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য। তাই কলাবাগানের মালিকরা এখন বেজায় খুশি।
উল্লেখ্য, আগের দিনে দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামীণ নারীরা কলাগাছের ডোঙা ও মাসকলাইয়ের কুটো শুকানোর পর ছাই ভিজিয়ে ছেঁকে নিয়ে তা দিয়ে কাপড় সেদ্ধ করে পরিষ্কার করতেন। এখন কলাগাছের কাণ্ড এবং ডোঙা থেকে পাটের মতো মূল্যবান আঁশ প্রস্তুত হচ্ছে। এ আঁশ প্রতি কেজি ১২০/= টাকা দরে কিনে বিদেশে রফতানি করছেন ব্যবসায়ীরা। আসছে  বৈদেশিক মুদ্রা। আর কলাগাছ থেকে আঁশ উৎপাদনের জন্য দিনাজপুরেই উদ্ভাবিত হয়েছে মেশিন। এতে আখের মতো চেপে রস বের করে দিয়ে বেরুচ্ছে চমৎকার আঁশ। ছোবড়া থেকে তৈরি হচ্ছে পশু ও মাছের খাবার। রস থেকে প্রস্তুত হচ্ছে জমির জৈবসার। ব্যবহার কমে যাচ্ছে রাসায়নিক সারের। বাড়ছে জমির উৎপাদন ক্ষমতাও। যেন সোনায় সোহাগা। তাই কলাচাষে কৃষকদের উৎসাহ বাড়ছে। কলা যেমন খাদ্যগুণসম্পন্ন পুষ্টিকর ফল, তেমনই এর কাণ্ড ও ডোঙাও অর্থকরী পণ্য। তাই কলার কোনও অংশই এখন আর ফেলনা নয়।
কলাগাছ থেকে আঁশ উৎপাদনের ভিডিও ক্লিপসহ উদ্ভাবনার খবরটি সম্প্রতি সম্প্রচার করেছে একটি টিভি চ্যানেল। ধন্যবাদ সংশ্লিষ্ট টিভি রিপোর্টার ও চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে। তবে এখানেই শেষ নয়। কলাগাছের আঁশের বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন ও উপযুক্ত বাজারজাতকরণ জরুরি। এ আঁশ থেকে পাটজাত পণ্যের মতো পরিবেশবান্ধব ও টেকসই থলে, বস্ত্র, জুতো ইত্যাদি প্রস্তুত করেও এর উন্নয়ন সম্ভব। কিছু দিন আগে ফেলনা পাটখড়ি থেকে মূল্যবান কার্বন বা চারকোল পণ্য নিয়ে একটি সম্পাদকীয় লেখা হয়েছিল এ কলামে। সেখানে পাটখড়ির সম্ভাবনার সঙ্গে সঙ্গে হতাশার কথাও লিখতে হয়েছিল। কলাগাছের আঁশ নিয়ে অমিত সম্ভাবনার কথা লেখার পর যেন এর বিপরীত কিছু লিখতে না হয় সে প্রত্যাশাই আমরা করবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ