মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সিংড়ায় অটোরিকশা চালকদের জিম্মি করে চাঁদা আদায়

সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা: নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ১ হাজার অটোরিকশা আছে।  যাদেরকে চাঁদা দিয়ে রাস্তায় নামতে হয়। চাঁদা না দিলে ফোন কেড়ে নেয়া হয়, গাড়ির চাবি কেড়ে নেয়া হয়। হুমকি ধামকি দেয়া হয়। কাউকে অভিযোগ দিলে গাড়ি রোডে চালাতে দেয়া হয় না। অসংখ্য  চালকদের প্রতিনিয়ত অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনের কোন ব্যবস্থা নেই। নেই কারো কোন ভ্রুক্ষেপ। একরকম অসহায় এবং জিম্মি অটোরিকশা চালকরা। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান তাদের অভিযোগের কথা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চালকরা জানান, আমাদের অনেকে গ্যারেজে গাড়ি চার্জ দেয় সেখানে প্রতিদিন ১৫০ টাকা দিতে হয়। আবার রোডে গাড়ি বের করলে ৩০ টাকা দিতেই হবে। মোট ১৮০/ ২০০ টাকা খরচ হয়। বাড়িতে বাজার করে নিয়ে যাবার মত অবস্থাও থাকে না। তবু চাঁদাতে মাফ নেই। নিজস্ব নিয়মে টাকার বিনিময়ে তারা রোড পারমিট দেয়।
চালকরা আরো জানান, সিংড়া উপজেলায় নিজেদের সমিতি রয়েছে কিন্তু সমিতির কোন কর্তৃত্ব নাই। নিয়ন্ত্রণ করে কিছু  নেতা। এসব টাকার ভাগ চলে যায় কিছু নেতার পকেটে, যারা থানা পুলিশসহ সকল ঝক্কি ঝামেলার নিয়ন্ত্রণ করে। বিশেষ করে বড় বড় নেতাদের হাত করার দায়িত্ব দেয়া আছে কারো উপর। যার কারণে চালকদের প্রতিনিয়ত মারপিটের শিকার হলেও কোন বিচার নাই।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর হতে আব্দুল ওহাব নামে এক ব্যক্তি রশিদ নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। বাহির থেকে অটোরিকশা এলে তাদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করা হয়। এ বিষয়ে আব্দুল ওহাবকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে জানায় এটা শ্রমিকলীগের নেতা রঞ্জুর নির্দেশে আদায় করা হচ্ছে।
জানা যায়, সিংড়া বাসস্ট্যান্ড ইজারা দেয়া আছে। নিয়মমাফিক প্রতিদিন পৌরসভায় ৫ টাকা জমা হয়। অথচ সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় ১হাজার অটোরিকশা চলাচল করে।
এসব  অটোরিকশা প্রত্যক চালকদের কাছ থেকে দৈনিক ৩০ টাকা করে নেয়া হয়। এর মধ্য ১০ টাকা পৌরসভা,১০ টাকা চেইন মাস্টার এবং ১০ টাকা সমিতির কল্যান বাবদ নেয়া হয়। কোন টাকা সমিতির তহবিলে জমা রাখা হয় না। পুরো টাকা রাতারাতি ভাগাভাগি হয়।  বর্তমানে উপজেলা শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি রঞ্জু নিয়ন্ত্রন করে। সে সিএনজি সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও মাস খানেক আগে দায়িত্ব নেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম স্বপন সাংবাদিকদের জানান,
আমরা এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সোচ্চার। কারন টাকা তোলা হলেও টা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়না।
এসব টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়।
সিংড়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সমিতির অনুমোদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতি বছর আমরা অডিট করি, অডিটে টাকা তোলার তথ্য গোপন রাখা হয়। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে নিয়ম ভঙ্গকারী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, আমরা এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিংড়া পৌরসভার মেয়র মোঃ জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, সিংড়া বাসস্ট্যান্ড সোহাগ নামে একজনকে ইজারা দেয়া আছে। বাস ২০ টাকা,মিনিবাস ১০ টাকা এবং অন্যান্য ৫ টাকা করে আদায় করতে পারবে। এর বাইরে কারো আদায় করার এখতিয়ার নাই।
তিনি আরো বলেন, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যেসব শ্রমিক সংগঠন রয়েছে তারা সমবায় থেকে রেজিষ্টেশন করা। কিন্তু তারা যে টাকা আদায় করে তার কোন হিসাব তারা সেখানেও দেয় না। এসব টাকা বেশিরভাগ শ্রমিক কল্যাণে ব্যয় হয় না। শুধুমাত্র মটর শ্রমিক সমবায় সমিতির টাকা বিধি সম্মত এবং শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ