বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ভাঙন-জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে সুতারখালী ইউনিয়নের ৪০ হাজার মানুষ

খুলনা অফিস: অজানা আশংকায় সুতারখালী ইউনিয়নবাসী। ভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝড়ঝাপ্টা নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীবেষ্টিত এ ইউনিয়নের ৪০ হাজার মানুষের জীবনযাত্রা হয়ে পড়েছে দুর্বিষহ ও হুমকির সম্মুখিন।  বৈরি আবহাওয়ার কারণে গত ৩ দিনে সুতারখালী ইউনিয়নের কালাবগী শিবসা তীরবর্তী ঝুলন্তপাড়া, নলিয়ান রেঞ্জ অফিসের সামনে ও গুনারী এলাকার অবনী বৈদ্য ও জালাল গাজীর বাড়ির সামনের পাউবোর রাস্তা ভেঙে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ক্ষতি হয় লাখ লাখ টাকার মৎস্য সম্পদ, আমন ধান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা। চলতি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পাউবোর রাস্তা নির্মাণের যে কাজ করছে তার মান নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। এ ব্যাপারে স্থানীয় পরিষদবর্গ ও সুশীল সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ অসন্তোষ প্রকাশ করা সত্ত্বেও তারা খামখেয়ালীভাবে রাস্তার নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে। এতে করে ৩২নং পোল্ডারের সুতারখালী ইউনিয়নের গ্রামরক্ষা বাঁধগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যার অংশ বিশেষ কালাবগী শিবসা তীরবর্তী ঝুলন্তপাড়া এলাকা ভেঙে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে করে ৫ শত পরিবার, এক শত ৫০ একর জমির আমন ধান, দু’টি মসজিদ, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদরাসা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে করে ওই সব প্রতিষ্ঠানগুলো অঘোষিত ছুটি ভোগ করছে। স্থানীয় পরিষদবর্গ, জমির মালিক ও গ্রাম উন্নয়ন কমিটির যৌথ উদ্যোগে ভাঙন কবলিত এলাকা পানিমুক্ত করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পানি আটকানো সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির জানান।
অপরদিকে নলিয়ান রেঞ্জ অফিসের সামনে গ্রামরক্ষা বাঁধ ভেঙে একই দিনে প্রায় ৪ শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এতে করে মিষ্টি পানির পুকুর, মৎস্য সম্পদ ভেসে যেয়ে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতিসাধিত হয়েছে। যেনতেন করে বাঁধ আটকানো হলেও তা যে  কোন মুহূর্তে ভেঙে যেয়ে প্লাবিত হয়ার আশংকা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তাটি নির্মাণের জন্য গত ১৬-১৭ অর্থ বছরে সরকারি (কাবিটা) ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই টাকার সম্পূর্ণ কাজ না করে হরিলুঠ করার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গাজী আবু মুছা ও অন্যান্যরা জানান, একই জায়গায় কর্মসৃজন লোক দিয়ে রাস্তার কাজ করা হয়েছে। যা সরকারি বিধি বহির্ভূত। চলতি বছর ওই স্থান দিয়ে এযাবত একাধিকবার ভেঙে প্লাবিত হয়ায় এ ৪ শত পরিবারের জীবনযাত্রার মান থুবড়ে পড়েছে। এ জায়গাটি এখন জনপ্রতিনিধিদের জন্য একটি আশীর্বাদের দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। গুনারীর ২নং ওয়ার্ডের ২টি পয়েন্ট ভেঙে ভিতরে পানি প্রবেশ করলে তা স্থানীয় ইউপি সদস্য ভবতোষ মন্ডল লোকজন নিয়ে আটকাতে সম্ভব হয়েছে বলে জানান।
সুশীল সমাজের অভিযোগ, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে যে কাজ চলছে (ধীরগতিতে) তাতে করে ৩২নং পোল্ডার আগামী পূর্ণিমার গোনে আইলার মত ব্যাপক বিপর্যয়ের সম্মুখিন হতে পারে। তারা জানান, ৩২নং পোল্ডারের মধ্যে সুতারখালী ইউনিয়নরে পাউবোর রাস্তার অধিকাংশই ঝুঁকির মধ্যে। বিশেষ করে কালীবাড়ি লঞ্চঘাট, গুনারী, নলিয়ান, কালাবগী মালেক শেখের হ্যাচারী থেকে কালাবগী ঝঁলন্তপাড়া ক্লোজার, কালাবগী সুন্দরবন মসজিদ থেকে কালাবগী বাজার, কালাবগী মডেল বাজার, সুতারখালী ঢালী বাড়ি, সিরাজ মল্লিকের বাড়ি হতে কেওড়াতলি গেট, সুতারখালী পূর্বপাড়া প্রাইমারি স্কুল থেকে তেলিরকোনা বাজার পর্যন্ত। এসব জায়গায় পূর্ণিমার গোনের পূর্বে বাঁধ না দিলে পানি ছাপিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলে আমন ধান ও মৎস্য ঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করায় পাউবোর কোন বরাদ্দ নাই। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা নির্মাণ না করে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তারা তাদের খামখেয়ালী মতো কাজ করছে। এতে করে এই ইউনিয়নের ৪০ হাজার মানুষ চরম আশংকার মধ্যে দিনাতিপাত করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ