বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ব্যাংকিংয়ে আস্থাহীনতা বাড়ছে

অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা প্রভৃতি কারণে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা দিন দিন কমতে শুরু করেছে। এই আস্থাহীনতা দেশের ব্যাংকিংখাতের জন্য মোটেও সুখকর নয়। স্বস্তিকর নয় অর্থনীতির জন্যও। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শুরু করে অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও অনিয়ম আর দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি এবং তারও আগে সোনালী ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হবার পর ব্যাংকব্যবস্থার প্রতি আমানতকারীদের আস্থায় ভাটা পড়তে শুরু করে। সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের নোয়াখালী শাখা থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা মেরে দেবার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ব্যাংকটির ডিজিএম-সহ ৫ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে দুদক। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল নোয়াখালীর সুধারাম থানায় ৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এদের মধ্যে ৫ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, গ্রাহক ও অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশের মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে সোনালী ব্যাংকের নোয়াখালী শাখা থেকে বিল-ভাউচার তৈরি করে ঋণের নামে ১ কোটি ৯৭ লাখ ১৬ হাজার ৭০০ টাকা উত্তোলন করে মেরে দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
টাকা ব্যাংকে রেখে এখন আর লাভ নেই বললেই চলে। কোনও কোনও বাণিজ্যিক ব্যাংকে টাকা আমানত রাখলে ১০ থেকে ১২ পার্সেন্ট লাভ পাওয়া যেতো। কিন্তু সেটা এখন একদম তলানিতে নেমে এসেছে। এখন ব্যাংকে টাকা বাড়ে না। বরং বিভিন্ন ট্যাক্স কাটবার পর আসলও কমে যায়। অর্থাৎ যা জমা রাখা হয় তা থেকেও কমে যায়। পরিস্থিতি এমন হলে কোন আহাম্মক এখন ব্যাংকে টাকা রাখবেন? যাদের অঢেল টাকা তারা অবশ্য নিরাপত্তার জন্য টাকা ব্যাংকে রাখবেন। কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়টিও এখন প্রশ্নববিদ্ধ। যাদের টাকার পরিমাণ কম তারা অন্য কোনও ব্যবসায়ে টাকা বিনিয়োগ করবেন বাধ্য হয়ে। কাজেই অদূর ভবিষ্যতে ব্যাংকব্যবস্থার দুর্দিন অপেক্ষা করছে বলে ধরে নেয়া যায়। ইতোমধ্যে ইসলামী ব্যাংকের বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মূলধন নিয়ে যেতে শুরু করেছেন বলে রিপোর্ট বেরিয়েছে। এছাড়া এ বিশাল ব্যাংকটি সরকারি প্রভাববলয়ে চলে যাওয়ায় অনেকেই আমানত তুলে নিচ্ছেন বলে জানা যায়। যদিও এব্যাপারে ব্যাংকের তরফ থেকে কিছু প্রকাশ করা হয়নি। তবে এ ব্যাংকের লভ্যাংশে যে বড়রকম টানাপোড়ন চলছে তা বুঝতে অসুবিধে হয় না।
প্রভাবশালীরা হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে ফেরত দেন না। আবার সরকারও নানাভাবে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত প্রায়ই দেয় না। এভাবে ব্যাংকের লোকসান বেড়েই চলছে। বলতে দ্বিধা নেই, এই লোকসান পুষিয়ে নিতে আমানতকারীদের লভ্যাংশে হাত দিতে হয়। তাই প্রতিবছরই লভ্যাংশ শূন্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অর্থাৎ আমানতের লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেয়ে ফেলছে প্রতিনিয়ত। সোনালী ব্যাংকের লুট হওয়া টাকা এখনও পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত পাওয়া যাবেÑ তারও নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ করা অর্থ আমেরিকার ব্যাংক থেকে যারা চুরি করেছে তারাতো আর ফেরত দেবার জন্য এ কাজ করেনি। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও অনেকে এ চুরির সঙ্গে জড়িত। শুধু কি তাই? কোনও কোনও রাঘব বোয়ালও জড়িত বলে প্রকাশ। কাজেই ব্যাংকিংয়ে আস্থাহীনতা বাড়বে না কেন?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ