শনিবার ০৬ জুন ২০২০
Online Edition

কবুতরের সবচেয়ে বড় হাট খালিশপুরে

খুলনা অফিস : খুলনায় কবুতরের সবচেয়ে বড় হাট খালিশপুরে। দূর-দূরান্ত থেকে কবুতর প্রেমীরা ছুটে আসেন এই হাটে। বিক্রেতারাও প্রস্তত থাকেন নানা জাতের বাহারি কবুতর নিয়ে। এগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, নামও তেমন চমকৎকার। এদের কারও নাম কিং কবুতর, জ্যাকোবিন, কারও নাম গিরিবাজ, কোনোটি পরিচিত গোল্ডেন সুইট নামে। কোনো কবুতরের জোড়া দুইশ’ টাকা থেকে হাজার, আবার কোনোটির দাম ছাড়িয়ে যায় ১৫ হাজার টাকার ঘর! প্রতি শুক্রবার কবুতরের বাকবাকুম শব্দে মুখর হয়ে ওঠে এই হাট। এখানে শুধু কবুতর নয়, সাথে রয়েছে ঘুঘু, টিয়া, ময়না, টার্কিসহ দেশি অনেক পোষা পাখি। আছে খরগোশও। এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাখি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে। এ হাটে যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঢাকা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পোষা পাখির ক্রেতা-বিক্রেতারা আসেন। মহানগরীর আরও কয়েকটি বাজারে কবুতর উঠলেও সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় খালিশপুরের এই হাট। সৌখিন কবুতর ক্রেতা-বিক্রেতারা জানায়, খালিশপুর পৌর সুপার মার্কেট সংলগ্ন রোডে এ হাট বসে প্রতি শুক্রবার। এদিন সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ হাট চলে জুম্মা’র আগ পর্যন্ত। পৌরসুপার মার্কেট ছাপিয়ে এ হাট চলে যায় নয়াবাটি ক্লাব মোড় পর্যন্ত। রাস্তার দু’পাশ জুড়ে বিক্রেতারা সারিবদ্ধভাবে খাঁচায় কবুতর সাজিয়ে রাখে। এখানে কবুতরের পাশাপাশি নানা প্রজাতির পাখি এবং পাখির খাঁচাও বিক্রি করা হয়।
জানা গেছে, মহানগরীর গল্লামারী ও ফুলবাড়িগেট এলাকায় কবুতরের হাট বসলেও তা খালিশপুরের মতো এতো বড় পরিসরের নয়। এছাড়া হাট বসে কাজদিয়ায়। খালিশপুরের এ হাটে চার থেকে পাঁচ’শ কবুতর বিক্রেতাদের সমাগম ঘটে। ছুটির দিন থাকায় এখানে কবুতর প্রেমী ক্রেতা-বিক্রেতাদের মিলন-মেলায় পরিণত হয়। মহানগরীর বয়রা এলাকার থেকে খাঁচায় করে কবুতর নিয়ে এই হাটে এসেছেন বিক্রেতা রাশেদ মল্লিক। তার সামনে যেতেই তিনি খাঁচা থেকে হাটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ জ্যাকোবিন নামে একটি কবুতর বের করে হাতে নেন। নানা কসরত দেখাতে ওস্তাদ এই কবুতর। গলা থেকে ঘাড় পর্যন্ত পালকগুলো উল্টিয়ে রাখে এরা।
রাশেদ মল্লিকের সাথে কথা হয় বলেন, পোষা কবুতর। দেখতেও খুব সুন্দর। হাটে নানা ধরনের কবুতরের মধ্যে এটি আকর্ষণীয়। এটির এক জোড়ার দাম চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। এ হাটে দুইশ’ থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকার কবুতর আনা হয়। যার মধ্যে তিন থেকে চার হাজার টাকা মূল্যের কিং কবুতর বিক্রি হয়। তার দেয়া তথ্য মতে, ঘিয়া চুল্লি কবুতর পাঁচ থেকে আট হাজার ও বল কবুতর তিন থেকে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হয়। পাঁচশ’ থেকে পাঁচ হাজার টাকায় পাওয়া যায় গিরিবাজ কবুতর। শুধু এসব কবুতরই নয়, আছে সোয়া চন্দন, লক্ষা, সিরাজী, আউলসহ নানা ধরনের কবুতর। তিনি আরো বলেন, প্রতি শুক্রবার এ হাটে চার থেকে পাঁচশ’ কবুতর বিক্রেতা আসে। ক্রেতা সমাগমও ব্যাপক।
গল্লামারী এলাকা থেকে এসেছেন লিপু নামে এক কবুতর ক্রেতা। তিনি বলেন, খুলনার গল্লামারী ও ফুলবাড়িগেট এলাকায়ও হাট বসে। তার দেখা মতে কবুতরের সবচেয়ে বড় হাট এটি। তিনি বলেন, তিনটি গিরিবাজ কবুতরের বাচ্চা ৬৮০ টাকা দিয়ে কিনেছি। এ হাটে যেমন বেশি দামের কবুতর রয়েছে, তেমনই স্বল্প দামেও পাওয়া যায়। সে জন্য এখানে এসেছি। দিঘলিয়া থেকে হাটে আসা ইমরান হোসেন বলেন, একটি গিরিবাজ কবুতরের বাচ্চা কিনলাম মাত্রা দুইশ’ টাকা দিয়ে। কম দামেই পেয়েছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ