মঙ্গলবার ২৪ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

বৌদ্ধভিক্ষু সেজে শত শত কিশোরীর কুমারিত্ব নষ্ট

সংগ্রাম ডেস্ক : বৌদ্ধ ভিক্ষু সেজে কয়েক শত কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলে ‘খুনতান’। নিজেকে পরবর্তী বুদ্ধ দাবি করে যুবতীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে সে। কয়েকশ’ কিশোরীর কুমারিত্ব নষ্ট করেছে খুনতান। বিনিময়ে তাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হবে এমন ধারণা দেয়া হয়েছে। অভিভাবকরাও রীতি অনুযায়ী তাতে অনুমোদন দিয়েছেন।
মিয়ানমারের মন রাজ্য সরকার এ অভিযোগে খুনতানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। মন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. আয়েজান অনলাইন দ্য ইরাবতীকে বলেছেন, বৌদ্ধ ধর্মের অবমাননা করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছি আমরা। তবে খুনতান পালিয়ে গেছে। আমরা তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি। দ্য ইরাবতীর রিপোর্টে আরো বলা হয়, জাতলিটে নামেও পরিচিত খুনতান। মনে করা হচ্ছে তিনি শা নরাজ্যের তাঙ্গি জেলার হোপোং এলাকায় পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারে শান রাজ্য সরকারকে সহযোগিতা করছে মন রাজ্য সরকার। শীর্ষনিউজ।
মন রাজ্যের থাটনের অধিবাসী কোখুন অংমাইও থেইন বলেছেন, খুনতানের জন্ম হোপোং-এর কোনথা গ্রামে। সাত বছর বয়সের সময় তিনি থাটনে চলে যান ১৮ বছর আগে। তিনি স্থানীয় পাও জনগোষ্ঠীর সদস্য। বিশ্বাস করা হয়, পাও জাতিগোষ্ঠীর ভিক্ষু আলানতিয়া সায়াড অশিন সাক্কার হিসেবে তার মাধ্যমে পুনর্জন্ম হয়েছে। আলানতিয়া সায়াড অশিন সাক্কার’কে শুধু পাও জনগোষ্ঠীর বৌদ্ধরাই সম্মান করেন এমন না। সারা মিয়ানমার তাকে শ্রদ্ধা করে। তবে এ বিষয়ে কোখুন অংমাইও থেইন বলেন, আমি যতদুর জানি খুনতান তো ভালভাবে বার্মিজ ভাষাই বলতে পারে না। আমার মতে নিজেকে আলানতিয়া সায়াড অশিন সাক্কার হিসেবে ঘোষণা দিতে পারেন না। তবে ভুল খবর প্রচার করে দিচ্ছে কিনা তা জানি না। আলানতায়া এলাকার পাও সম্প্রদায়ের অভিভাবকদের খুনতান আশ্বস্ত করেছেন যে, তাদের মেয়েরা যখন পূর্ণতার দিকে অগ্রসর হবে তখন যদি তারা তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে তাহলে তারা আশীর্বাদপুষ্ট হবে।
মন রাজ্য সরকারের পাও সম্প্রদায় বিষয়ক মন্ত্রী সানউইন্ট খাইং বলেছেন, এমন ঘটনার শুরু ২০১২ সাল থেকে। এরই মধ্যে খুনতান কয়েকশ’ মেয়েকে শয্যাসঙ্গী করেছে। এসব মেয়ের বেশিরভাগেরই বয়স ১৫ বছরের কাছাকাছি। কোখুন অংমাইও থেইন বলেন, পাও সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি বিশ্বাস প্রচলিত আছে তাহলো, যদি ভাগ্যরেখা বা ভাগ্যগণনায় কারো ভবিষ্যত অশুভ দেখা যায় তাহলে তারা তা এড়াতে পারে একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে সেটা হলো, এমন একজন ব্যক্তিকে বিয়ে করতে হবে যার ভবিষ্যত উজ্জল। এটা একান্তই একটি রীতি। এ ধরনের বিয়ে নামমাত্র। এ রকম বিয়ে হলেই বর-কনেকে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হতে হবে এমন নয়। কিন্তু খুনতানের বিরুদ্ধে যুবতী মেয়েদের শয্যাসঙ্গী করার জন্য তাদের কুমারিত্ব দাবির যে অভিযোগ প্রকাশ পাচ্ছে মিডিয়ায় সে বিষয়ে আপত্তি আছে কোখুন অংমাইও থেইনের।
তিনি বলেন, খুনতান এমনটি করেছেন কিনা, কোনো কুমারির সঙ্গে শয্যা গ্রহণ করেছেন কিনা সে বিষয়ে তিনি কোনোই মন্তব্য করবেন না। ড. আয়েজান বলেছেন, দু’মাস ধরে খুনতানের ওপর নজর রাখছিল তার সরকার। তার বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ডও আছে। কিন্তু কেউ মামলা না করায় তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। এমন অভিযোগ যুবতীদের কাছ থেকে আসতে হয় কিন্তু তারা তো এমন অভিযোগ করেনি। তাই আমাদের সরকার এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে জটিলতার মুখোমুখি ছিল। তবে ২ অক্টোবর মন রাজ্য পার্লামেন্টের নারী ও শিশু অধিকার রক্ষা কমিটির কাছে একটি লিখিত অভিযোগ আসে। তাতে বলা হয়, খুনতান পাঁচজন কিশোরীকে যৌনসঙ্গী করেছে। এদের বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। আশপাশের গ্রামের তিনজনকে প্রলুব্ধ করেছে তাকে বিয়ে করতে। সরকারের একজন মন্ত্রী বলেছেন, স্থানীয়রা খুব কম শিক্ষিত। তারা বিশ্বাস করে যে, খুনতানই হয়তো প্রকৃত বুদ্ধ হতে যাচ্ছে। তাই তার কাছে তাদের কিশোরী মেয়েদের কুমারিত্ব বিলিয়ে দিলে তাদের কপাল খুলে যাবে। কিন্তু এর পিছনে রয়েছে অন্য কারণ। খুনতান ওইসব কিশোরীকে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য অর্থ পরিশোধ করেছে, না হয় তাদেরকে হুমকি দিয়েছে। ওদিকে থাটন জেলার জেনারেল প্রশাসনিক ডিপার্টমেন্ট এরই মধ্যে জায়িত চাউং গ্রামের এডমিনিস্ট্রেটরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তার কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে খুনতানের দুটি ধর্ষণের ঘটনা কেন থামাচাপা দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ