মঙ্গলবার ০৯ মার্চ ২০২১
Online Edition

খুলনায় প্লাটিনাম জুট মিলের ৩০ নিরাপত্তা প্রহরী হয়রানির  শিকার : একজন সাসপেন্ড

 

খুলনা অফিস : খালিশপুর প্লাটিনাম জুট মিলের ৩০ জন নিরাপত্তা প্রহরী নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিলের নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্কট থাকলেও একজন নিরাপত্তা প্রহরীকে দিয়ে গেস্ট রুমে বয়ের কাজ করানো হচ্ছে। আর এই বয়ই গার্ড কমান্ডারের পক্ষে মিলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে ৩০ জন নিরাপত্তা প্রহরীকে হয়রানি করছে। তারা বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দেয়ায় হয়রানির মাত্রা আরও বেড়ে উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে আন্দোলনকারী নিরাপত্তা প্রহরী উজ্জ্বল হোসেনকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় আন্দোলনকারী বাকীরা চাকরি হারানোর ভয়ে দিন অতিবাহিত করছেন বলে অভিযোগকারীরা জানান।

আন্দোলনকারী আলী আজগরসহ অনেকে বলেন, নোমান নিরাপত্তা প্রহরী হয়েও গেস্ট হাউজে বয়ের চাকরি করেন। তিনি মিলের বড় সাহেবদের খুবই কাছের লোক। এ নোমানকে ব্যবহার করে ভারপ্রাপ্ত গার্ড কমান্ডার মফিজুল ইসলাম তাদের ৩০ জন নিরাপত্তা প্রহরীকে নানাভাবে হয়রানি করছে। তার অত্যাচার থেকে বাঁচতে তিনি গত ৭ জুন’১৭ মিলের উপ মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এর নিকট দরখাস্ত দেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা তারা জানতে পারেননি। তবে মফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার পর আরও বেপরোয়া আচরণ করছে তাদের সাথে বলে তিনি জানান।

অভিযোগকারী নিরাপত্তা প্রহরী কালাম মোড়ল বলেন, তাকে গার্ড কমান্ডার মফিজুল ও তার জামাই সুমন মারধর করে। এ ঘটনায় তিনি কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দেন। কর্তৃপক্ষ তদন্ত টিমও গঠন করেন। তবে তদন্ত শেষ হয়েছে কি না তা তিনি জানতে পারেননি। তিনি বলেন, মফিজুলের বিরুদ্ধে যে ৩০ জন নিরাপত্তা প্রহরী অভিযোগ দিয়েছে। তিনি তাদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। অভিযোগ দেয়ার পর আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। এছাড়া নিরাপত্তা প্রহরী হয়ে মূল কাজ না করে গেস্ট হাউজে অতিথি সেবা করে আসছে নোমান। এই নোমানই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে অভিযোগকারী ৩০ জন নিরাপত্তা প্রহরীর ওপর আরো বেশি স্টীম রোলার চালাচ্ছে। তবে তারা বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই বিজেএমসি ঢাকা অফিসে যোগাযোগ করবেন বলে তিনিসহ আন্দোলনকারী অনেকে জানান।

নিরাপত্তা প্রহরী নোমান জানান, তিনি নিরাপত্তা প্রহরী পদে চাকরি পেলেও সাবেক প্রকল্প প্রধান জাহাঙ্গীর হোসেন তাকে গেস্ট হাউজে বয়ের কাজে দায়িত্ব দেন। সে থেকেই তিনি এখানে কাজ করছেন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাকরির সুবাদে তিনি মফিজুলকে শুধু চেনেন। অতিরিক্ত কোন সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন।

মিলের নিরাপত্তা বিভাগীয় প্রধান দীপক চন্দ্র রায় বলেন, ভারপ্রাপ্ত গার্ড কমান্ডার মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় অভিযোগকারীরা মফিজুলের দ্বারা হয়রানির শিকার হবে এ অভিযোগ সত্য নয়। তবে উজ্জ্বল নামের একজন নিরাপত্তা প্রহরীকে গত ১৮ অক্টোবর সাসপেন্ড করা হয়। তিনি নিয়মিত ডিউটি করেন না। এমন কি জুয়া খেলাসহ নানা ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

মিলের নিরাপত্তা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত গার্ড কমান্ডার মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্তকারী টিমের প্রধান ব্যবস্থাপক (যান্ত্রিক) আব্দুল মান্নান বলেন, ৩০ জন নিরাপত্তা প্রহরীর সাক্ষরিত অভিযোগে তিনটি বিষয়ে তদন্ত করা হয়। তদন্তে মফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের সাথে খারাপ আচরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। গত মাসেই তদন্ত রিপোর্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে নিরাপত্তা প্রহরী উজ্জ্বল হোসেন বলেন, মাত্র চার ঘন্টা ডিউটিতে যোগদান করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আগে তাকে শোকজ করার নিয়ম থাকলেও গার্ড কমান্ডারের প্ররোচনায় হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তাকে সরাসরি সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এর চেয়ে আরো বড় অপরাধ করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না।

মিলের প্রকল্প প্রধান মো. শাহজাহান বলেন, গার্ড কমান্ডার মফিজুলের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগ তদন্তে কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ জন্য তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, একজন গার্ড কমান্ডার ৩০ জন নিরাপত্তা প্রহরীকে হয়রানি করছে, তা কিভাবে সম্ভব। নিরাপত্তা প্রহরী নোমান গেস্ট হাউজে বয়ের কাজ করে মফিজুলের পক্ষ নিয়ে কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করছে কি না তা তিনি জানেন না বলে জানান।

উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই নিরাপত্তা বিভাগের নিরাপত্তা প্রহরী আলি আজগর, কালাম মোড়ল, আলমগীর হোসেন (১), সাইফুল ইসলাম (১), রাসেল হাচান মোল্লা, খোরশেদ আলম, চান মিয়া, ইমাম হাসান, তোকাব্বর মোল্লা, নুরে আলম, লোকমান হোসেন, জামাল মোল্লা, হাফিজুর রহমান, ওহিদুল ইসলাম, জোহরা খাতুন, রাজু আহমেদসহ ৩০ জন নিরাপত্তা প্রহরী ভারপ্রাপ্ত গার্ড কমান্ডারের বিরুদ্ধে মিল কর্তৃপক্ষের নিকট তার অন্যায়, অত্যাচার ও অনিয়মের বিচারের দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থাপক (যান্ত্রিক) আব্দুল মান্নানকে প্রধান করে একটি তদন্ত টিম গঠন করেন। ইতোমধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে করে অভিযুক্ত গার্ড কমান্ডার অভিযোগকারীদের সাথে আরো রুঢ় আচরণসহ নানাভাবে হয়রানি করে চলেছে বলে সাক্ষরকারী ৩০ জন নিরাপত্তা প্রহরী অভিযোগ করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ