মঙ্গলবার ০৯ মার্চ ২০২১
Online Edition

টানা বৃষ্টিতে খুলনা নগরতলীতে পানিবদ্ধতা নাগরিক জীবনে চরম ভোগান্তি

খুলনা অফিস : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে মংলা সমুদ্র বন্দরসহ সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় তিন নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল আছে। এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে বন্দরে অবস্থানরত জাহাজের পণ্য খালাস-বোঝাইয়ের কাজ। সাগরে অবস্থানকারী জেলেদের নিরাপদে আশ্রয়ের জন্য বলেছে আবহাওয়া অফিস।

শনিবার মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার ওলিউল্লাহ বলেন, ‘এখন মংলা বন্দরে একটি ক্লিংকার (সিমেন্টের কাঁচামাল), তিনটি সার, চারটি চাল, একটি মেশিনারিজ এবং একটি সারবাহীসহ মোট ১৩টি জাহাজ অবস্থান করছে। আরও একটি সারবাহী জাহাজ আজ বন্দরে আসার শিডিউল রয়েছে। তবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এসব জাহাজে পণ্য খালাস-বোঝাই ব্যাহত হচ্ছে।’

বন্দর ব্যবহারকারী নুরু অ্যান্ড সন্স-এর মালিক এইচ এম দুলাল জানান, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে জাহাজের পণ্য খালাস বোঝাই সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। 

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ‘নিম্নচাপটি বর্তমানে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। তবে এটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। আজ থেকে এ অবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং বৃষ্টিপাত কমে যাবে।’ 

এদিকে, নিম্নচাপে সৃষ্ট টানা বৃষ্টিতে খুলনা মহানগরীর অধিকাংশ রাস্তায় পানি জমে গেছে। থেমে থেমে বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ জলবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেক সড়কে হাঁটু পানি জমে গেছে। আবার এই পানির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা। এছাড়া প্রবল বর্ষণে শীতকালীন শাক-সবজির বীজতলা ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

নগরীর গোবরচাকা গাবতলা মোড়ে হাঁটু পানি। টানা মুষলধারে বৃষ্টি থাকায় অধিকাংশ দোকান ছিল বন্ধ। মৌলভীপাড়া, মিয়াপাড়া পাইপের মোড়, টুটপাড়া কবরখানা প্রধান সড়ক, হাজী মহসিন রোড, আহসান আহম্মেদ রোড, বাবু খান রোড, রয়্যাল মোড়, সাতরাস্তার মোড়, ময়লাপোতা মোড়, দোলখোলা মোড়, কেডিএ এভিনিউ ঘুরে দিনভর অবিরাম বর্ষণে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। বৃদ্ধি পেয়েছে নগরবাসীর ভোগান্তি। কেডিএ এভিনিউ দুই লেনে ভিন্ন অবস্থা বিরাজ করছে। একপাশে জলাবদ্ধতা না থাকলেও অন্যপাশে রয়েছে পানিতে সয়লাব। জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পেতে এ সড়কে অনেক গাড়ি উল্টোপথে চলতে বাধ্য হচ্ছে। নগরীর ব্যস্ততম সড়কের দুই পাশে কেন দু’অবস্থা এ প্রশ্ন জনমনে বিরাজ করছে। খালিশপুর লাল হাসপাতাল সড়কের পিপলস গোল চত্বর থেকে মানসী বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানিতে সড়কটির বেশির ভাগ অংশ ডুবে যায়। এতে করে জুম্মার দিন মসজিদে আসা মুসল্লিদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। ওই সড়কের মেগার মোড়ে পুরোটা পানিতে ডুবে যায়। আনন্দ মাল্টি মিডিয়া স্কুলের সামনের সড়কটি পানিতে ডুবে যায়। জোড়াগেট বিমানের সামনের পুরাতন যশোর রোডটি পানিতে ডুবেছে। খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে খুলনায় টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সঙ্কেত ও নৌবন্দরগুলোকে দুই নম্বর স্থানীয় সতর্ক সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। নিম্নচাপের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

অপরদিকে নি¤œচাপের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড়ে উপকূলীয় খুলনার পাইকগাছায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে উড়ে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিনের ছাউনি। ধ্বসে পড়েছে ছোট ছোট কাঁচা ঘর-বাড়ী। ভারী বৃষ্টিপাতে তলিয়ে গেছে বিস্তৃর্ণ এলাকার ফসলী জমি। নদ-নদীতে বৃদ্ধি পেয়েছে জোয়ারের পানি। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ওয়াপদার বেড়িবাঁধ। বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জন-জীবন। সাগরে গভীর নি¤œচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার থেকে পাইকগাছার সর্বত্রই শুরু হয় গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টি। গভীর রাত থেকে শুর’ হয় ভারী বৃষ্টি। যা শুক্রবার দিনভোর অব্যাহত থাকে। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় মানুষের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যক্রম। এদিন কোন কাজ করতে পারেনি নিম্মআয়ের শ্রমজীবি মানুষেরা। স্থবির হয়ে পড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুর’ করে সব ধরণের কার্যক্রম। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পৌরসভা, গদাইপুর, চাঁদখালী, গড়ইখালী ও দেলুটির বিস্তৃর্ণ এলাকার ফসলী জমি ও চিংড়ি ঘের তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। ঝড়ে উড়ে যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাউনি। 

দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ একটি ঘুর্ণিঝড় এলাকায় আঘাত হানে। ১৫ মিনিটের স্থায়ী এ ঝড়ের কবলে পড়ে দারুনমল্লিক ডিএইচকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের টিনের চালের ছাউনি সম্পূর্ণ উড়ে যায়।  এছাড়া অসংখ্য কাঁচা ঘর-বাড়ি ধ্বসে পড়ে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ২২ নং পোল্ডারের বিস্তৃীর্ণ এলাকার ফসলী জমি তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। নিম্মচাপের প্রভাবে নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বিভিন্ন পোল্ডারের ক্ষতিগ্রস্থ ওয়াপদার বেড়িবাঁধ। 

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট স.ম. বাবর আলী জানান, দেলুটির একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাউনী উড়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। এছাড়া এলাকায় তেমন কোন ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভারী দৃষ্টিপাতের কারণে কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট স.ম. বাবর আলী জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ