মঙ্গলবার ০৯ মার্চ ২০২১
Online Edition

বুথিদংয়ে বড় মসজিদ ভাংচুর ও কুরআন অবমাননা করেছে উগ্র রাখাইনরা

 শাহনেওয়াজ জিল্লু : বুথিদংয়ের গুদামপাড়া বড় জুমা মসজিদ ভাংচুর ও মসজিদে সংরক্ষিত পবিত্র কুরআনের অবমাননামূলক গর্হিত কাজ করেছে সেদেশের উগ্রপন্থী ও সাম্প্রদায়িক রাখাইনরা।

সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার গুদামপাড়ায় রাখাইন ও মগের সম্মিলিত একটি দল গিয়ে মসজিদের বিভিন্ন আসবাবপত্র লুট করে নেয়। দরজা, জানালা, গ্রিল কেটে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় মসজিদের অভ্যন্তরে সংরক্ষিত কুরআনের কপিগুলো মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে। কুরআনের কপিতে মূত্র ত্যাগ করার মত গর্হিত কাজ করেছে বলেও অভিযোগ মিলেছে।

সূত্র আরো জানিয়েছে, ইতোপূর্বে  গুদাম পাড়া অগ্নিসংযোগ করেছিল বর্মী বাহিনী। জীবন বাঁচাতে দুই তৃতীয়াংশ মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এখনো কিছু মানুষ পাহাড়ে, বনে-জঙ্গলে লুকিয়ে আছে। খাদ্য সংকট প্রবল আকার ধারণ করায় তাদের জীবন সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের জন্য ভাসানচরকে উপযোগী করছে সরকার

এদিকে বার্মার আরাকান থেকে নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রিত লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিচ্ছিন্ন ভাসানচরে অস্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ঘোষণার পর চরটিকে ঘিরে নানামুখী আলোচনা সমালোচনা চলছে এবং পাশাপাশি কৌতূহলও দেখা দিয়েছে। একই সাথে ভাসানচরকে মানুষের বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে নৌবাহিনীর মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ঘোষণার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ভাসানচর এলাকা ঘুরেও এসেছেন। চরটির সম্ভাব্য উন্নয়নের নানা দিক নিয়েও বিশ্লেষণ চলছে। তবে কোন পদ্ধতিতে রোহিঙ্গাদের সেখানে পুনর্বাসন করা হবে সে সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত দুটি পদ্ধতিতে তাদের পুনর্বাসনের চিন্তাভাবনা করছে স্থানীয় প্রশাসন। পদ্ধতিগুলো হচ্ছে গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ন প্রকল্প। এরমধ্যে পুনর্বাসনের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্প থেকে গুচ্ছগ্রাম পদ্ধতিটি ভালো বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল এ তথ্য জানিয়েছেন।

ভাসানচর সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ভাসানচরে  বর্তমানে জমির পরিমাণ ১৩ হাজার একর। এরমধ্যে অতি জোয়ারে জলমগ্ন থাকে দুই হাজার ৬০০ একর। পুরো চরটিতে খাল ও শাখা খালের জমির পরিমাণ এক হাজার ৫০০ একর। এতে পাঁচ হাজার একর জমিতে গুচ্ছগ্রাম বা আশ্রয়ন প্রকল্প করা যেতে পারে। বাকি তিন হাজার ৯০০ একর ভূমি বেড়িবাঁধ, রাস্তাঘাট, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, স্যানিটেশন, নলকূপ, পুকুরসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে ব্যবহৃত হতে পারে।

এ ব্যাপারে বিশ্লেষকরা বলছেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন না করে যত তাড়াতিাড়ি সম্ভব তাদেরকে স্বদেশে নাগরিক অধিকারসহ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করাটা উত্তম হবে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ