রবিবার ০৭ মার্চ ২০২১
Online Edition

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ক্ষমতাসীন আ’লীগ ‘বন্ধুহীন’ হয়ে গেছে --------- আমীর খসরু

 

স্টাফ রিপোর্টার: রোহিঙ্গা ইস্যুতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ‘বন্ধুহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল শনিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় রোহিঙ্গা সমস্যার বর্তমান অবস্থা চিত্র তুলে ধরে তিনি এই মন্তব্য করেন। আমীর খসরু বলেন, আমরা দেখেছি, এই অঞ্চলে যে আঞ্চলিক সহযোগিতার ব্যাপার ছিলো সেখানে আমাদের কোনো বন্ধুই নাই। যারা আমাদের বন্ধু বলে বলেছিলো এতোদিন, এই সরকার প্রচারণা করেছিলো তারাও কেউ পাশে আসেনি। বরঞ্চ এরা সবাই মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে। আমরা একটা বন্ধহীন অবস্থায় একদিকে। অন্যদিকে নিজেকে আমরা দুর্বল অবস্থায় নিয়ে গেছি। আমরা ইস্যুটাকে ডায়লুট করে ফেলেছি, যে ইস্যুটা ছিলো পরিষ্কার-স্বচ্ছ। যার কারণে আজকে রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধান একটা কঠিন পর্যায় চলে গেছে। রোহিঙ্গা সমস্যার শুরুতে থেকে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার ব্যর্থতা এজন্য দায়ী বলে মনে করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে ‘আন্তর্জাতিক আইনের রোহিঙ্গা সমস্যা এবং বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা, সমাধান ও করণীয়’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়। আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক এসএম হাসান তালুকদার। সংগঠনের চেয়ারম্যান কবীর মুরাদের সভাপতিত্বে ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহহিল মাসুদের পরিচালনায় আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লুৎফর রহমান, অধ্যাপক এমতাজ হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান, অধ্যাপক ফিরোজা বেগম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, যদি প্রথম দিন থেকে আপনার (সরকার)অবস্থান মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতেন, কূটনৈতিক অবস্থান নিতেন এবং সাথে সাথে আপনি মানবিক অবস্থান নিতেন তাহলে বিশ্বের সামনে আমাদের অবস্থান ভিন্ন হতে পারতো। বাংলাদেশের জনগণ এই ইস্যুতে একতাবদ্ধ ছিলো। আমরা বিএনপি‘র পক্ষ থেকে বলেছি এখানে কোনো রাজনীতি নয়, আমাদের সবাই একতাবদ্ধ হতে হবে।

১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও ১৯৯২ সালে খালেদা জিয়ার আমলে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিএনপির ‘সফল’ সমাধানের কথা উল্লেখ করে খসরু বলেন, এই সমস্যা সমাধান করার জন্য আমাদের অভিজ্ঞতা আছে। দুই-দুই বার এই সমস্যা সমাধান বিএনপি করেছে। আমরা এ বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) তো সহযোগিতা নেবে না। কারণ সমস্যার মূল যেখানে সেখানেই তারা এটা শেষ করে দিয়েছে। যেখানে সমাধানের মূল ছিলো তারা সেখানে ভ্রান্ত পথে চলেছে। গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিতারণে সেনা অভিযানের  প্রেক্ষাপটে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করে। এখনো তারা বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত ভালো ভালো কথা শুনবেন। কিন্তু আজকে রোহিঙ্গা ইস্যু যে জায়গা গিয়ে পৌঁছেছে সেখান থেকে ফেরত নিতে হলে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা আছে। নির্বাচিত সরকার, প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের প্রয়োজন আছে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রয়োজন আছে, আইনের শাসনের প্রয়োজন আছে। তাহলেই বিশ্বব্যাপী আপনার(সরকার) অবস্থান অনেক শক্তিশালী হবে। আপনার অবস্থান শক্তিশালী হলে কূটনৈতিক অবস্থানও শক্তিশালী হবে।

মিয়ানমার সেখানে গণহত্যা করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মিয়ানমার জাতি নিধন, গণহত্যার মতো কাজ করছে। এই কাজটি করার জন্য তারা (মিয়ানমার) একতাবদ্ধ। অংসান সু চি নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন এটা উনি ভুলে গেছেন। রোহিঙ্গার ব্যাপারে সু চির সরকার, মিয়ানমার সেনাবাহিনী একতাবদ্ধভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, যে দেশ তাদের দেশের একটি জাতিগোষ্ঠীকে নিধন করার জন্য বাংলাদেশকে টার্গেট করে রোহিঙ্গাদের এখানে পাঠিয়েছে। তারা খুব ভালো করে জানে এরা কেউ ভারতে যেতে পারবে না, থাইল্যান্ডে যেতে পারবেন না, এরা কেউ চীনে যেতে পারবে না। যেখানে আমার দেশ মিয়ানমারের পরিকল্পনার আক্রমণের শিকার সেই দেশ যখন পরিকল্পনাকারী দেশের সাথে এক সুরে গান গায়, এক সুরে কথা বলে সেখানেই তো আমাদের অবস্থান শেষ হয়েছে গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ