মঙ্গলবার ০৯ মার্চ ২০২১
Online Edition

শেষ ম্যাচে আজ জয়ের শেষ সুযোগ মাশরাফিদের

 

স্পোর্টস রিপোর্টার : দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে একটি জয় পাওয়ার শেষ সুযোগ আজ বাংলাদেশের সামনে। প্রথম দুটি ওয়ানডে ম্যাচ হেরে ইতিমধ্যে সিরিজ হারিয়েছে মাশরাফিরা। ফলে আজ তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে জয়ের শেষ সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। আর হারলেই টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ হতে হবে টাইগারদের। তাই স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে আজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। তবে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিশ্চিত করা দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে সুযোগ শেষ ম্যাচটি জিতে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করা।  ইস্ট লন্ডনের বাফেলো পার্কে আজ বাংলাদেশ সময় বেলা ২টায় শুরু হবে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যেকার তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি।  

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এবার মোটেও ভালো করতে পারেছে না টাইগাররা। একের পর হারের কারণে মনোবলও হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ দল। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে দুটি টেস্টে হারার পর ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছিল মাশরাফিরা। কিন্তু প্রথম দুটি ওয়ানডে ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারায় মানসিক ভাবেও ভেঙ্গে পড়ে দলের সদস্যরা। এছাড়া ইনজুরি সমস্যাও দলকে কম ভোগায়নি। ফলে আজ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ক্রিকেটাররা নিজেদের কতটুকু তুলে ধরতে পারবেন তা বলা মুশকিল। তবে শেষ ম্যাচে আজ ভালো করা ছাড়া বিকল্প নেই টাইগারদের সামনে। না হলে ওয়ানডে সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ হতে হবে বাংলাদেশকে। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুশফিকের সেঞ্চুরিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৭৯ রানের টার্গেট দিয়ে বাংলাদেশ হেরেছিল ১০ উইকেটে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ হারে ১০৪ রানে।  দ্বিতীয় ম্যাচেও ৬০ রানের ইনিংস এসেছিলো মুশফিকের ব্যাট থেকে। কিন্তু দলের অন্যান্য ব্যাটসম্যানরা ব্যাট হাতে নিজেদের মেলে ধরতে পারছেন না। শুরুটা ভালো করেও তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন মাহমুদুল্লাহ-সাকিব-সাব্বিরা। ফলে প্রথম দুটি ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারতে হয় দলকে। এই সিরিজে ব্যাটসম্যানদের চেয়ে বোলারদের ব্যর্থতা আরও বেশি। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কোন উইকেটই শিকার করতে পারেনি টাইগাররা বোলাররা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬ উইকেট শিকার করলেও,ডি ভিলিয়াসকে সহজে আটকাতে পারেনি। বোলারদের এমন ব্যর্থতার পেছনে ফিল্ডারদের অবদান কম ছিলনা। আর ক্যাচ ড্র’পের কাজটা বেশ দক্ষতার সাথেই করেছেন তারা। এই সুযোগে জীবন পেয়ে নিজেদের ইনিংসটা বড় করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা। তবে ব্যাটিং-এর সময় দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডারদের হাতে জীবন পেয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাও। কিন্তু তারপরও নিজেদের  ইনিংস বড় করতে পারেননি মাহমুদুল্লাহ-সাকিব-সাব্বিরা। তবে শেষ ওয়ানডেতে ম্যাচে আজ বাংলাদেশের সামনে শেষ সুযোগ ভালো করার। এ জন্য সবাইকে আজ দলের হয়ে খেলতে হবে। পারফরমেন্স করে দলকে এগিয়ে রাখতে হবে। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং সব দিকেই নিজেদের তুলে ধরতে হবে। তবেই শেষ ম্যাচে সুযোগটা কাজে লাগাতে পারবে বাংলাদেশ। অবশ্য শেষ ম্যাচে সুযোগ আছে বলে দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, ‘আমাদের জন্য এখনো একটা সুযোগ আছে। আমরা দল হিসেবে ভালো খেলতে পারছি না। একজন-দু’জন ভালো খেললে হবে না। সবাইকে এক সাথে ভালো খেলতে হবে। দ্বিতীয় ম্যাচে ইমরুল-মুশফিক ভালো ব্যাটিং করেছে, কিন্তু অন্যরা পারেনি। বোলিং-এ রুবেল-সাকিব ভালো করেছে। তবে অন্য বোলাররা ব্যর্থ।’

এদিকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশের পর ওয়ানডে সিরিজেও নিজেদের সেরাটা ধরে রেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করেছে স্বাগতিকরা। কিম্বার্লিতে প্রথম ওয়ানডেতে দুই ওপেনার কুইন্ট ডি কক ও হাশিম আমলার ব্যাটিং দৃঢ়তায় ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয়ের স্বাদ নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।  এরপর পার্লে ১৭৬ রানের দানবীয় ইনিংস খেলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১০৪ রানের জয় এনে দেন সাবেক অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। ফলে এক ম্যাচ আগেই ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে ফেলে প্রোটিয়ারা। এবার বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ পেয়েছে দলটি। এমন সুযোগ কাজে লাগানোর কথাই বললেন প্রোটিয়া দলের ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি, ‘আমরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের চেষ্টা করবো। আমরা কোন দলকে ছোট করছি না এবং বাংলাদেশ গেল কয়েক বছর ধরে নিজেদের সেরা ক্রিকেটই খেলছে। সম্প্রতি টেস্ট ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে তারা। এমনকি কয়েক বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিজেদের মাটিতে দু’টি ওয়ানডেতেও হারিয়েছিলো। তাই বাংলাদেশকে শক্ত প্রতিপক্ষ ভেবেই তৃতীয় ওয়ানডের জন্য আমাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছি। সেরা পারফরমেন্স দেখিয়ে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেও জিততে চাই আমরা।’ বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ৪টি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে । এরমধ্যে ৩টি প্রোটিয়ারা ও ১টি বাংলাদেশ জয় করে। ৩টি সিরিজের সবক’টিতেই বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করেছিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে আজও আরেকটি হোয়াইটওয়াশ হওয়ার শংকা থেকেই যাচ্ছে বাংলাদেশের সামনে।

বাংলাদেশ দল : মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদি হাসান, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মোস্তাফিজুর রহমান, নাসির হোসেন, রুবেল হোসেন, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার ও তাসকিন আহমেদ।

দক্ষিণ আফ্রিকা দল : ফাফ ডু প্লেসিস (অধিনায়ক), আইডেন মার্করাম, টেম্বা বাভুমা, ফারহান বেহার্দিয়েন, কুইনটন ডি কক (উইকেটরক্ষক), এবি ডি ভিলিয়ার্স, জেপি ডুমিনি, ইমরান তাহির, ডেভিড মিলার, ওয়েইন পারনেল, ডেন পিটারসন, আনডিলে ফেলুকুয়ায়ো, ডুয়াইন প্রেটোরিয়াস ও কাগিসো রাবাদা। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ