শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

খুলনায় সাপের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

খুলনা অফিস : খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার কলেজ ছাত্র মানিক (২৩)। বাড়ির কাজ করতে গিয়ে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন-১ এ ভর্তি। একমাত্র উপার্জনক্ষম দিনমজুর পিতার পক্ষে সাপে কামড়ের চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। অথচ খুমেক হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই হাতে গোনা দুই একটি ছাড়া সব ওষুধই তাকে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। শুধু মানিক নয়, একই অবস্থা গত ১৫ দিনে সাপের কামড়ে আক্রান্ত  হয়ে খুমেক হাসপাতালে আসা ২৭ জন রোগীর। বিষ মুক্তের জন্য একমাত্র ওষুধ এন্টিভেনর আইসিউতে থাকার কথা বললেও ওয়ার্ডের রোগীরা তা পাচ্ছে না।
হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্ট্রার ও বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, গত ১৫ দিনে এখানে ২৭ জন সাপে কাটা রোগী ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে ২১ জন পুরুষ ও ৯ জন মহিলা। এর মধ্যে বিথি শেখ (২৬), ইসমাইল (২৫), আমিনুর (৩৫), মানিক (২৩), আজহারুল (৪০), রিয়াজ (৫০), সুশীল কুমার দেবনাথ (৫৬), হেমায়েত মৃধা, মঙ্গল, আলী আদনান, শুভ্রদেব হালদার, তাপসী (৩৫), খাদিজা (৫০), খুকুমনি (২৭), নাদিরা (৫২) ভর্তি আছেন খুমেক হাসপাতালের মেডিসিন ৫, ৬, ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডে।
অনেকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আবার অনেকে সরাসরি হাসপাতালে আসলেও তাৎক্ষণাৎ চিকিৎসা মিলছে না। হাতে গোনা ওমিপ্রাজল ও ওমিপ্রাজল গ্রুপের কয়েকটি গ্যাসটিকের ট্যাবলেট আর ইনজেকশন ছাড়া সাপে কাটা রোগীদের জন্য তেমন কোন সেবা নেই এ হাসপাতালে। ওয়ার্ড ইনচার্জ ও অন্যান্য নার্সরা বলেছেন। ডাক্তাররা যে সকল ওষুধ লেখেন এর মধ্যে সাপ্লাই থাকা ওষুধ গুলো তাদের দেয়া হয়। বাকি ওষুধ না থাকার কারণে বাইরে থেকে কেনাতে হয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রচন্ড গরমের কারণে খুলনাসহ আশেপাশের এলাকায় গর্তের ভিতর থেকে বিভিন্ন ধরনের সাপ লোকালয়ে বেরিয়ে আসায় সাপের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। এর বেশির ভাগ মানুষই শ্রমজীবী হয়ায় ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার খরচ মেটানো তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। শরীরে বিষক্রিয়ার প্রতিরোধে ব্যবহৃত একমাত্র বিশেষায়িত ওষুধ এন্টিভ্যানম ইনজেকশন, যার বাজার মূল্য ১০ হাজার টাকার বেশি।
এদিকে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে আইসিউতে ভ্যান্টিলেটর লাগাতে হয়। ২৪ ঘন্টা বেসরকারি হাসপাতালে ভ্যান্টিলেটর খরচ ৩০ হাজার টাকার বেশি। যশোর কেশবপুরের বাসিন্দা আলফাজ উদ্দিন-এর ছেলে আজহারুল (৪৫), ঝিকরগাছার জামাল বিশ্বাস-এর ছেলে আমিনুর (৩৫), বাঘারপাড়ার গণি মোল্লার ছেলে রিয়াজ (৫০)-এর সাথে কথা বলে জানা যায়, খুমেক হাসপাতাল থেকে দুই-একটি ছাড়া তেমন কোন ওষুধ পায়নি। খুমেক হাসপাতালের মধ্যে সরকারি সাপ্লাই ওষুধ নিয়ে রোগীদের মেডিসিন-১ এর ওয়ার্ড ইনচার্জ বিথিকা মালাকরসহ অন্যান্য নার্সদের প্রশংসা করেন।  তবে সাপে কাটা রোগীদের জন্য ইনজেকশন না দিতে পারায় জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ওষুধ কিনছেন তারা।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এসএম কামাল হোসেন বলেন, সাপের কামড়ের রোগীদের ইনজেকশন এন্টিভেনম যে একদম নেই তা নয়। মাঝে শুনেছিলাম ওষুধ নাই, তারপর আমি ঢাকা থেকে কিছু ওষুধ আনিয়েছি। সংকটের কথা জানানেই, খোঁজ নিতে হবে। কাউকে সাপে কামড়ালে দড়ি দিয়ে কামড়ানো যায়গার বাধার রেওয়াজ প্রচলিত থাকলেও বিষয়টি সঠিক নয়। সাপে কামড়ালে ক্ষত জায়গা কোন ভাবেই নাড়াচারা করা যাবে না। পায়ে কামড়ালে চেয়ারে বসিয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা নিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ