শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

রোহিঙ্গাহত্যা বৃহৎ শক্তিগুলোর মুসলিম নিধনের অংশমাত্র

জিবলু রহমান : [ছয়]
এই একই সময়ে ইসরাইলি প্রাইভেট সেক্টরে পরিচালিত সামরিক খাত তুলনামূলকভাবে লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়। এর শীর্ষে ছিল Elbi: ১৯৯১ সালে যার বিক্রির পরিমাণ ৪১০ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার, লাভ ৩৫.৫ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার, ১৯৯২-এ বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৪৮৩ মিলিয়ন আমেরিকান ডলারে। অন্যান্য লাভজনক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল EI-OP.
ইসরাইলী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, সমর শিল্পে এই তীব্র সঙ্কটই তাদের ব্যাপক কাঠামোগত পরিবর্তনের সুযোগ করে দেয়। সরকার তিন থেকে চার বছরে এক বিলিয়ন আমেরিকান ডলার অনুদান হিসেবে সমর শিল্পে বরাদ্দ করে। ইসরাইল তার রণনীতি ও রণকৌশলগত পরিবর্তন ঘটায় যার ফলে সে ছোট ও অন্যান্য অস্ত্রের পরিবর্তে দীর্ঘসময়ের জন্য শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করে, ইন্টেলিজেন্সের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শক্তিশালী নির্ভুল অস্ত্র তৈরিতে মনোনিবেশ করে। IDF তার ডিফেন্স ডকট্রিনে রূপান্তর ঘটায়। ১৯৫০ সালের ডিফেন্স ডকট্রিন আধুনিকীকরণ করে, কারণ তাদের মতে ইসরাইলী শত্রুরা এখন ব্যালিটিক ক্ষেপণাস্ত্র অধিকারী এবং তারা পারমাণবিক শক্তি অর্জনেরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইল তার প্রধান শত্রু হিসেবে ইরাক ও ইরানকে চিহ্নিত করে এবং ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র দ্রুত যুদ্ধের প্রস্তুুতি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল অস্ত্র তৈরি করা শুরু করে। আরো অন্যান্য পদক্ষেপ হিসেবে তারা জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গড়ে তোলে। ওউঋ আরো পরিকল্পনা গ্রহণ করে যে তাদের সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য পর্যায়ে কর্মীর সংখ্যা কখনো, যুদ্ধংদেহী ভূমিকা গ্রহণ করা, ইন্টেলিজেন্স ও চালকবিহীন বিমান (ইউএভি বা আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল) এবং অন্যান্য যানবাহন তৈরিতে প্রচুর বিনিয়োগ নিশ্চিতকরণ। এসব আধুনিকীকরণের পরিকল্পনার মধ্যে তারা যুক্ত করে Merkava MK3 যুদ্ধ ট্যাঙ্ক এবং উন্নতমানের Gil antiank রকেট।
ইসরাইলী ডিফেন্স ফার্মগুলো ট্র্যাডিশনাল অস্ত্র তৈরি করার চেয়ে এখন নজর দিচ্ছে উন্নতমানের বিভিন্ন প্রকার অত্যাবশ্যকীয় ইলকট্রনিক্স সাবসিস্টেম তৈরি করার দিকে। তারা বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত কিছু অস্ত্রের পার্ট বা যন্ত্রাংশের যোগাদনদার। এর মধ্যে রয়েছে জার্মানট্যাঙ্ক, আমেরিকার জঙ্গি হেলিকপ্টার এবং ডাচ্ মিলিটারি কমান্ড সিস্টেমের প্রকৌশল। তারা ২০-৩০ বছরের পুরনো অস্ত্রের নতুন সংস্করণ তৈরি এবং আরো উন্নত মান দান করেছে। (সূত্র: দৈনিক যায়যায়দিন ৬ আগস্ট ২০০৬)
অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যের মূল সমস্যা হিসেবে প্যালেস্টাইনকেই চিহ্নিত করা হয়। যদি এ সমস্যার সমাধান হয় তবে মধ্যপ্রাচ্য হবে স্থিতিশীল। অথচ এটাই কামনা করে না আমেরিকা। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের অফুরন্ত তেল ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ কুক্ষিগত করারসহ আরব বিশ্বের ওপর স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের জন্যই এই সঙ্কটকে জিইয়ে রাখা একান্ত প্রয়োজন। অন্যদিকে একটি স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের জন্ম কিছুতেই মেনে নেবে না ইরাইল। ফলে উভয়ের স্বার্থ একই বিন্দুতে মিলে যাওয়ায় ইসরাইলের জন্য আমেরিকানদের অকৃপণ সহায়তা থাকবে সবসময়। আর প্যালেস্টিনিয়ানদের ঘোরের মাঝে রেখে ধ্বংস করার জন্য শান্তিচুক্তি স্বাধীনতার কথা বলবে বারবার।
ইসরাইলের সঙ্গে ভারতের সামরিক সম্পর্ক ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। ইসরাইলের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ শক্তি ভারতের সামরিক সখ্য বাড়ানোর এই প্রক্রিয়া এ অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। বিষয়টি বাংলাদেশসহ অন্য প্রতিবেশীদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে। ইসরাইল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে ট্রেনিং ও যুদ্ধ সরঞ্জাম দিচ্ছে। সীমান্ত নীতি থেকে শুরু করে অনেক বিষয়েই ভারত এখন ইরাইলী উপদেষ্টাদের পরামর্শ মতো চলছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ভারতই হচ্ছে ইসরাইলি অস্ত্রের ক্রেতা। এর মধ্যেই প্রতি বছর ইসরাইল থেকে ভারতে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ও সামরিক যন্ত্রাংশ ক্রয়ের ব্যয় ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ইসরাইল থেকে ভারত সমরাস্ত্র ক্রয় শুরু হয় গত শতকের নব্বইয়ের দশকে। তবে ২০০০ সাল পর্যন্ত ভারত সব ধরনের আধুনিক সরঞ্চামের জন্য নব্বই ভাগ নির্ভরশীল ছিল রাশিয়ার ওপর। কিন্তু কারগিল যুদ্ধের সময় ভারত রাশিয়া থেকে সরবরাহ পেতে দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষায় না থেকে হঠাৎ করেই জরুরি ভিত্তিতে ইসরাইলে থেকে উচ্চমূল্যে অর্ডন্যান্স সাপ্লাই ও সার্ভেইল্যান্স সিসটেম সংগ্রহ করে। এরপর থেকে একের পর এক অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ক্রয়ে ভারত অনেকটা ইসরাইলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক বছর ধরে উন্নত মান, স্বল্প সময়ের সরবরাহের নিশ্চয়তা ও সহজলভ্যতার কারণে ভারত অস্ত্রের জন্য ইসরাইলের দিকে ঝুকেছে। ইসরাইল সরাসরি অস্ত্র ছাড়াও সমর প্রযুক্তি সরবরাহ করছে ভারতকে। অত্যাধুনিক যেসব অস্ত্র ভারত ইসরাইলের কাছ থেকে সংগ্রহ করছে তার মধ্যে রয়েছে মনুষ্যবিহীন প্লেন, অ্যান্টি মিসাইল ডিফেন্স সিসটেম, যুদ্ধ জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, অ্যাওয়াকস প্লেন, রাশিয়ান মিগ প্লেন ও টি-৭২ ট্যাঙ্ক আধুনিকীকরণের জন্য ইলেকট্রনিক সার্ভেইল্যান্স সিসটেমসহ অন্যান্য উপকরণ। বিএসএফের জন্য আধুনিক ক্ষুদ্রাস্ত্র, সীমান্ত এলাকায় মোতায়েনযোগ্য নাইট লেজার ভিশন প্রভৃতিও রয়েছে সংগ্রহ তালিকায়। এছাড়া ভারত ইসরাইলের সঙ্গে রিসার্স এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের জন্য প্রযুক্তি আদান-প্রদানও শুরু করেছে। ভারত ২০০০ সাল থেকেই ইসরাইল থেকে কেনা মনুষ্যবিহীন প্লেন ব্যবহার করছে বাংলাদেশের সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় সার্ভেইল্যান্স ও রিকনাইসেন্স (তথ্য সংগ্রহ) কাজে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব, ভারতের সাত রাজ্যের লাগোয়ো বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় স্বাধীনতাকামী ভারতীয় গেরিলাদের অবস্থান চিহ্নিত করার নামে এ ধরনের প্লেন ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভারত সরকার ইসরাইল থেকে সংগৃহীত আধুনিক সাব-মেশিনগান ও নাইট লেজার ভিশন দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে মোতায়েন বিএসএফ ব্যাটালিয়নগুলোকে সজ্জিত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি বিএসএফ ব্যাটেলিয়নগুলোর একটি করে কোম্পানিকে বিশেষ কমান্ডো ট্রেনিং দেয়ার কাজে নিয়োগ করা হয়েছে ইসরাইলি প্রশিক্ষকদের।
প্রায় ১১ বছর আগের কথা। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইরানের পরমাণু প্রযুক্তি অর্জনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মার্কিন স্বার্থে ভারত তাদের পক্ষে ভোট দেয়ায় ইরানের সাথে ভারতের দীর্ঘদিনের সমঝোতা ভেঙ্গে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র কোনো সময় ইরান আক্রমণ করলে ভারতকে হয়তো তার সহযোগী হতে হবে। আমেরিকা যখন আফগানিস্তান দখল অভিযান চালিয়েছিল, তখন পাকিস্তানকে বাধ্য করেছিল বুশ প্রশাসন সব ধরনের সামরিক, কৌশলগত ও লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে। ভবিষ্যতে যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরান আক্রমণ করে সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের পক্ষে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র অক্ষের পক্ষে অবস্থান নেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
উঠতি বিশ্ব অর্থনৈতিক পরাশক্তি গণচীনকে কনফ্রন্ট করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সাথে একটা কৌশলগত সামরিক ও প্রাযুক্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এর সাথে যুক্তরাষ্ট্র তার বণিক বৃত্তির স্বার্থটাও দেখছে। ১০০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত ভারতে কম করে হলেও ৩০ কোটি মধ্যবিত্তের বাজার অর্থনীতি দখল করার ব্যাপারে মার্কিন পুঁজিতান্ত্রিক মুক্তবাজার ব্যবস্থার কর্ণধারদের বিপুল আগ্রহ রয়েছে। এ ছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি ক্রেতার তালিকায় ভারতের স্থান অনেক ওপরে। তবে গণচীন এখনও অন্তর্মুখী কূটনীতি অনুসরণ করছে।
গণচীন নতুন করে শুরু হওয়া স্নায়ুযুদ্ধে নিজেকে জড়াতে চায় না। তার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতি এখনও প্রতিরক্ষামূলক। ফলে এ অঞ্চলে যে সব দেশ যুক্তরাষ্ট্র প্রভাব বলয় এড়িয়ে অথবা যুক্তরাষ্ট্র প্রভাব বলয় বিস্তার প্রতিরোধে গণচীনকে অবলম্বন করে একটা নয়া শক্তির মেরুকরণ করতে চায়, তারাও দিশেহারা ও নিঃসঙ্গ। গণচীনের সাথে পাকিস্তান ও ইরানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এ দুটি দেশকে মার্কিন-ভারত বা ইঙ্গ-ইসরাইলী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যুহ তৈরীতে সহায়তা করবে কিনা অথবা গণচীনের নেতৃত্বে মার্কিন, ভারত মেরুকরণের বিরুদ্ধে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অনেকেরই হয়তো মনে থাকবে যে ৯/১১ এর পর মার্কিন ‘নিওকনদের’ মুখপাত্র যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্ট বুশ তার তথাকথিত সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ শুরুর সূচনায় বলেছিলেন যে, তার সাথে যে সব দেশ সহযোগিতা করবে না, তাদের শত্রু হিসেবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিহ্নিত করবে। সকলেই জানেন, ইরাইলী লবীই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির নিয়ন্ত্রণ করে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন অধ্যাপক লিখেছিলেন যে, পর্দার আড়াল থেকে ইহুদী লবীই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ন্ত্রণ করে।
পাশ্চাত্য তথা মার্কিন বিরোধিতা উপেক্ষা করে ইরান তার পরমাণু প্রযুক্তি উন্নতকরণ ও পরমাণু অস্ত্র তৈরীর সংকল্প বাস্তবায়ন করায় ইরান ইঙ্গ-ইরাইল-মার্কিন অক্ষশক্তির সরাসরি টার্গেট হয়েছে। তেল স্বার্থ ছাড়াও আমেরিকার সাদ্দাম হোসনকে উৎখাত ও ইরাক দখলের পেছনে ইসরাইরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। কার্যতঃ ইসরাইল হচ্ছে ঐ এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির স্থায়ী কেন্দ্র। ইরাক দখল কিংবা আফগানিস্তানে অভিযান চালানোর সময় ইরান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমেরিকাকে সহায়তা করেছে।
ইরাকের মতো ইরানে ব্যাপক হামলা করার ব্যাপারে সামরিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আরব বিশ্বের প্রতিক্রিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনায় রাখছে। এ জন্যই ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা প্রশাসনের চরম হুমকি উচ্চারণের পরও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে মার্কিন যুদ্ধ কুশলীরা ইরানের সীমিত পর্যায়ে বিমান হামলা ও কমান্ডোদের মাধ্যমে আত্মঘাতী অভিযান চালিয়ে ইরানের পরমাণু প্রযুক্তির অর্জনকে ধ্বংস করতে চায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারেন। বিশ্লেষকদের অভিমত, ইরান পরমাণু বোমা থেকে মাত্র একধাপ দূরে। অবশ্য শুরু থেকেই ইরান দাবী করে আসছিল যে, তার পরমাণু প্রকল্প শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে গৃহীত। পরমাণু অস্ত্র অর্জনের কোন ইচ্ছা ইরানের নেই। শান্তিপূর্ণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপানের জন্য তারা পরমাণু প্রযুক্তি অর্জন করছে। ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ইরানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচী পুনরায় শুরু হওয়ার পর জাতিসংঘ তা বন্ধে ইরানকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচী ধারণার চেয়েও বেশি উন্নত। মার্কিনীরা সবসময় বলে আসছেন যে, জাতিসংঘকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ইরান বলছে, অন্যান্য জাতির মতোই ইরানের অধিকার রয়েছে পরমাণু প্রযুক্তি অর্জনের। এ অধিকার থেকে তাকে কেউ বিরত রাখতে পারবে না। ইরান জাতীয় নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও স্বার্থের সাথে কোন আপোষ করবে না।
কয়েক বঝর আগে জাতীয় সেনা বাহিনী দিবসের ভাষণে সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমদিনেজাদ বলেছিলেন, যে কোন হানাদারের হাত কেটে ফেলা হবে এবং লজ্জা ঢাকতে শত্রুরা পালাতে বাধ্য হবে। ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বিগত নির্বাচনে আহমদিনেজাদের সাথে পুনঃপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় হেরে যাওয়া প্রবীণ ইরানী নেতা আলী আকবর হাশেমী রাফসানজানি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা প্রতিরোধে ইরান ৪৭ হাজার সদস্যের একটি আত্মঘাতী বাহিনী গঠন করেছে। এদের প্রথম লক্ষবস্তু হবে ইসরাইল। এর সাথে মার্কিন ও বৃটিশ লক্ষ্যবস্তুুতে আত্মঘাতী স্কোয়াড হামলা চালাবে।
মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করছেন যে, ইরাকের চেয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ হবে তাদের জন্য আরও বেশী ক্ষতিকর। ক্লিনটন ও বুশ প্রশাসনের সন্ত্রাস বিরোধী নীতির সমন্বয়কারী রিচার্ড ক্লার্ক ও স্টিভেন সিমন নিউইয়র্ক টাইমস-এ লিখেছিলেন ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা বহুবিধ জটিলতা সৃষ্টি করবে। ইরান প্রথমেই পারস্য উপসাগারীয় তেল স্থাপনাসমূহে হামলা চালাবে। ফলে তেলের মূল্য ৮০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া ইরান তার আত্মঘাতী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে। এ ছাড়া ইরান আক্রান্ত হলে ইরাকে মার্কিনীদের সংকট আরও জটিল হবে। বিশেষ করে শিয়া-সুন্নী বিভাজন রেখা মুছে গিয়ে গোটা মুসলিম বিশ্বের তৃণমূল জনগণের ঐক্য আরও সংহত হবে এবং মার্কিন বিরোধী একটা ভয়াবহ গেরিলা যুদ্ধ বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়বে। (সূত্র: দৈনিক সংগ্রাম ১ মে ২০০৬)
ক্ষমতা রক্ষা ও অধিক ক্ষমতা প্রাপ্তির লোভে নিষ্পেষিত হচ্ছে  রোহিঙ্গারা। সু চি এবং সেনাবাহিনীর ঠেলাঠেলিতে মামানমারের কোনো সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। ১৯৯২ সালে আবার ক্ষমতা বদল হয়েছিল। ক্ষমতায় আসেন জেনারেল থান সুয়ে। বিশ্ব জনমনের প্রবল চাপের মুখে ১৯৯৫ সালে ‘নিরাপত্তা হেফাজত’ থেকে সু চিকে মুক্তি দেয় সরকার। কিন্তু বাস্তবে সু চি ছোট কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বন্দী হয়ে গেলেন বড় কারাগারে। সরকার তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার নেয়ার জন্য নরওয়ের রাজধানী অসলোতেও যেতে দেয়নি। বৃটেনে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। ১৯৯৯ সালে সু চিকে স্বামীর লাশ দেখাতে লন্ডনে যাওয়ার অনুমতি দিলেও তিনি তা নাকচ করে দেন এই ভেবে যে, একবার দেশের বাইরে গেলে সামরিক সরকার আর দেশে ফিরতে দেবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ