শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

পাইকগাছায় জলাবদ্ধতার কারণে শতাধিক বসতবাড়ির উঠানে পানি

খুলনা অফিস: খুলনার পাইকগাছায় জলাবদ্ধতার কারণে চার গ্রামের বিস্তির্ণ এলাকা এখনো প্লাবিত রয়েছে। শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ীর উঠান পর্যন্ত এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্ন রয়েছে যোগাযোগের রাস্তা। ভেঙ্গে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা। অনেক জমিতে হয়নি আমন ফসলের আবাদ। ফলে সীমাহীন দূর্ভোগে রয়েছেন জলাবদ্ধ এলাকার শত শত পরিবার।

জানা যায়, উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের মৌখালী, কমলাপুর, ঢেমশাখালী ও ফেদুয়ারাবাদ গ্রামের বিস্তির্ণ এলাকা এখনো পানিতে প্লাবিত রয়েছে। 

অত্র এলাকার পানি সরবরাহের একমাত্র মাধ্যম ফতেপুর সরকারী স্লুইচ গেটটি পলি জমে অকেজো হয়ে রয়েছে। ফলে বদ্ধ কাটাখালী নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে প্রতিবছর বাড়ছে জলাবদ্ধতার পরিমাণ। বর্ষা মওসুম আসলেই প্লাবিত হচ্ছে বিস্তির্ণ এলাকা। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও বর্ষার শুরুতেই প্লাবিত হয় মৌখালী, কমলাপুর, ঢেমশাখালী ও ফেদুয়ারাবাদ গ্রামের বিস্তির্ণ এলাকা। কয়েকমাস স্থায়ীত্ব হয় এ জলাবদ্ধতা। বর্ষা মওসুম শেষ হলেও পানি কমার সম্ভাবনা দেখছেন না এলাকাবাসী। 

ঢেমশাখালী গ্রামের রবিউল মোল্যা জানান, পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় ৪ গ্রামের শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ীর উঠানে এখনো পানি রয়ে গেছে। বিশেষ করে বদ্ধ কাটাখালী নদীর দুই ধারের বসতবাড়ীগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অনেক কাঁচা ঘরবাড়ী ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে। 

কমলাপুর গ্রামের আফসার আলী গাজী জানান, জলাবদ্ধতার কারণে এলাকার অনেক জমিতে এ বছর আমন ফসলের আবাদ করা যায়নি। এছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। 

গৃহবধূ সাবিনা বেগম জানান, জলাবদ্ধতার জন্য আমরা গত কয়েকমাস সাপ ও পোকা মাকড়ের সাথে বসবাস করছি। 

শেখ নূরুল ইসলাম জানান, অনেকেই বসতবাড়ীর উঠানে ধানের আবাদ করেছে। এতে প্রমাণিত হয় এলাকার মানুষ কতটা দূর্ভোগে রয়েছেন।

পাইকগাছা উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি জিএম ইকরামুল হক জানান, জলাবদ্ধতার কারণে চাঁদখালী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে প্রতিবছর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে এলাকার মানুষের দূর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি ফসল ও চিংড়ি ঘেরের ব্যাপক তি হয়। জলাবদ্ধ এলাকা গুলোর মধ্যে মৌখালী, কমলাপুর, ঢেমশাখালী ও ফেদুয়ারাবাদ অন্যতম। 

তিনি বলেন, মৌখালী, ঢেমশাখালীর সীমানার তাজেল কবিরাজের বাড়ীর পশ্চিম পাশে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা গেলে এলাকার জলাবদ্ধতা থাকতো না। কারণ এর দুই পাশে রয়েছে সরকারী খাল। এখানে একটি কালভার্ট করা গেলে বদ্ধ কাটাখালী নদীর মাধ্যমে আঙ্গারী খাল হয়ে মিনহাজ নদীর সাথে সরাসরি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন হবে।

পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট স ম বাবর আলী জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইচ গেটগুলো অকেজো হয়ে রয়েছে। 

তাতে পানি সরবরাহে বিঘেœর সৃষ্টি হচ্ছে। স্লুইচগেট গুলো সচল করা হলে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ