শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

শালিখায় নবগঙ্গা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন ॥ বাড়িঘর-হাটবাজার হুমকির মুখে

শালিখায় নবগঙ্গা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে

শালিখা (মাগুরা) সংবাদদাতা : শালিখায় নবগঙ্গা নদী থেকে সারা বছর ধরে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে আসছে পানিঘাটা পরমেশরপুর গ্রামের কতিপয় ব্যক্তি। বালি উত্তোলনের ফলে গঙ্গারামপুর বাজার সহ নদীর দুধারের প্রায় ৫ হাজার পরিবার হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোন সময় দোকানপাট ও বাড়ী ঘর ধসে নদীর গর্ভে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বালি উত্তোলন কারিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার কেউ সাহস পায়না কিছু বলার। মাঝে মাঝে স্থানীয় পুলিশ দুই একজনকে  গ্রেফতার করলেও বালি উত্তোলন থেমে থাকে না।
জানা যায় গঙ্গারামপুর বাজারের খেয়া ঘাটের ঠিক পূর্বে পাশে  সারা বছর ধরে ড্রেজারের মাধ্যমে বালি উত্তোলন করে আসছে বালি খেকো নামে পরিচিত কয়েকজন।  দিনরাত ধরে নদীতে ড্রেজার লাগিয়ে ৫-৬ জন শ্রমিক বালি উত্তোলন করে হাজার হাজার ট্রাক বালি বিক্রি করছে। বালি উত্তোলনের জায়গায় ছোট ঘর তৈরী করে নিয়েছে তারা। সেখানে বালি খোকোরা চা নাস্তা করে এবং তাস জুয়া খেলে আড্ডা মারে। নদীর পাড়ে ইতিমধ্যে বালি উত্তোলন করায় বড় বড় তিনটি পুকুর তৈরি হয়েছে। সেখানেই তারা গায়ের জোরে মাছ চাষ করে আসছে। নদীর মাছখানে পাইপ দিয়ে বালি উত্তোলন করায় নদীর ভিতরে সুড়ঙ্গ সৃষ্টি হয়েছে।
গঙ্গারামপুর বাজারের নদী সংলগ্ন প্রায় ৫ শতাধিক দোকান, একটা ঐতিহ্যবাহী হাই স্কুল, দুইটা কেজি স্কুল, ১টা মোবাইল টাওয়ার সহ বড় বড় গাছপালা রয়েছে যাহা নদী গর্ভে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা  রয়েছে।
সম্প্রতি বড় বড় গাছ নদীর দিকে ঝুকে পড়েছে। বালি খোকোরা স্থানীয় কয়েকজন নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে এই অবৈধ ব্যবসা করছে। পাশেই পুলিশ ক্যাম্প থাকলেও তোমন কোন পদক্ষেপ নেয় না। সংশ্নিষ্ট স্থানীয় তহসিল অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এই ব্যবসা চলছে বলে অনেকের ধারনা। চেয়ারম্যান মোঃ আলী মিয়া বলেন অনেকবার নিষেধ করলেও তারা বালি উত্তোলন বন্ধ করেনি। যে ভাবেই হোক বালী উত্তোলন বন্ধ করতে হবে ।
এ ব্যাপারে স্থানীয় নহাটা তহসিল অফিসের কর্মকর্তারা বলেন, আমাদের সাথে তাদের কোন অর্থনৈতিক লেনদেন নেই। আমারা বিষয়টা জেনে তাদের নিষেধ করেছি। কিন্তু তারা এখনও থামেনি। শুনেছি তাদের হাত অনেক লম্বা। তবে আমরা অতিসত্তর বিষয়টি পদক্ষেপ নেব। জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে বালি উত্তোলন অতিদ্রুত বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ