বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

দ: আফ্রিকার বিপক্ষে দেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক

স্পোর্টস রিপোর্টার : দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। গতকাল প্রথম ওয়ানডেতে মুশফিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরিসহ করেন ১১০ রান। মুশফিকের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে হারিয়ে করে ২৭৮ রান। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। তার মধ্যে জিতেছে ৩টিতে। হেরেছে ১৪টিতে। আগের ১৭ ম্যাচের বাংলাদেশের হয়ে কেউ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকাতে পারেনি। অধরা সেই কাজটি গতকাল কিম্বার্লিতে করে দেখিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে প্রায় প্রত্যেক ব্যাটসম্যানের সঙ্গে ছোট ছোট কার্যকরী জুটি গড়েন। তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। আর বিদেশের মাটিতে এটা তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।  এর আগে তিনি সবশেষ ২০১৫ সালের নভেম্বওে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন। প্রায় দুই বছর পর আবার হাসল টেস্ট অধিনায়কের ব্যাট। গতকাল ১৬০ মিনিট ক্রিজে থেকে ১১৬ বল  খেলে ১১০ রানে অপরাজিত থাকেন মুশফিক। তার এই ইনিংসে ১১টি চারের পাশাপাশি ২টি ছক্কার মারও রয়েছে। মুশফিক এমন একটা সময়ে সেঞ্চুরি করলেন যেটা তার ক্যারিয়ারের জন্য খুবই দরকার ছিল। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার আগে থেকেই নানা সমালোচনার শিকার হচ্ছিলেন বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। কখনও ম্যানেজমেন্ট আবার কখনও কোচের সাথে জড়িয়েছেন বিতর্কে। টেস্ট সিরিজে বাজেভাবে হারার কারণে সময়টা আসলে খারাপই যাচ্ছিল টাইগার টেস্ট অধিনায়কের। তবে সেই খারাপ সময় থেকে বেরিয়ে এসে সব সমালোচনার জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেই করে বসলেন এক সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি করতে তিনি খরচ করেছেন ১০৮টি বল। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হওয়া মুশফিক এ নিয়ে মোট ১৭৭ ওয়ানডে খেলছেন। এর আগে দুই ওপেনার ভালো শুরু করলেও, খুব  বেশি দূর যেতে পারেননি। লিটন ২১ আর ইমরুল ৩১ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন। সাকিব কিছুটা লড়াই শুরু করলেও ইমরান তাহিরের ঘূর্ণিতে ২৯ রানে সেও বিদায় নেন। তবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন মুশফিক। ৫২ বলে করেছিলেন ৫০ রান। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে ৫৯ রানের জুটি গড়েছিলেন সাকিব-মুশফিক। তাদের এই জুটিতে ভর করেই ১০০ রান পার করে বাংলাদেশ।
তবে সাকিবকে বেশি দূর যেতে দেননি ইমরান তাহির। মাত্র ২৯ রান করেই তাহিরের ঘূর্ণিতে হাশিম আমলার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এ বিশ্বসেরা অল রাউন্ডার। তবে সাকিবের বিদায়ের পর নতুন ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের ভালোই জবাব দিচ্ছিলেন মুশফিক। যদিও ২৬ রানে মাহমুদুল্লাহর পর সাব্বিরও ফিরে যান। এরপর নাসিরকে নিয়েই লড়াই চালিয়ে যান মুশফিক। শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরিসহ ১১০ রানে অপাজিত থেকে দলকে নিয়ে যান ২৭৮ রানে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ