বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০
Online Edition

আখিলাকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হয়নি

১০ অক্টোবর, এশিয়ানেট নিউজ : ভারতের কেরালার হিন্দু তরুণী অশোকান ওরফে হাদিয়া আখা আখিলাকে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়নি বলে সিবিআইয়ের তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, হাদিয়া পুরোপুরি তার নিজের সিদ্ধান্তেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন।কেরালার আরনাকুলাম ক্রাইম ব্রাঞ্চের এসপি সন্তোষ কুমারের নেতৃত্বাধীন তদন্ত টিম রাজ্যের অপরাধ শাখার ডিজিপি হেমচন্দ্রনের নিকট এই তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে।রিপোর্টে বলা হয়েছে, হাদিয়া নিজেই এই বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে যে, কোনো সন্ত্রাসী বা সাম্প্রদায়িক দল তাকে ধর্মান্তরের জন্য প্রভাবিত করছেন- এরূপ কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।ভারতীয় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনআইএ) তদন্তের বিরোধিতা করে শনিবার রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা জমা দেয়। রাজ্য সরকারের ওই হলফনামায় বলা হয়, রাজ্য পুলিশের তদন্ত সুষ্ঠুভাবে চলছে। এনআইএ এর তদন্ত বাতিলের জন্য হাদিয়ার প্রাক্তন স্বামী শেফিন জাহানের আবেদন খারিজের সময় রাজ্য সরকার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিল।গত ১৬ আগস্ট তারিখে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি জে এস খেহারের নেতৃত্বাধীন একটি ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য এনআইএর অপরাধ শাখার কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। তবে, শেফিন এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানান। ওই আবেদনে তিনি বলেন, তার স্ত্রী ২০১৪ সালে সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছাতেই ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছেন এবং ধর্মান্তরের পর তাদের বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।এরপর, প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ আদেশ দেন যে, তাদের বিবাহ বাতিলের হাইকোর্টের রায় এবং এনআইএ’কে দেয়া তদন্তের আদেশ বৈধ ছিল কিনা তা আদালত পর্যালোচনা করবে। সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি আবারো বিবেচনা করবে। গত ১০ জুলাই আখিলা তার কাসারাগদ জেলার উদুমার বাড়ি ত্যাগ করেন। বাড়ি ত্যাগ করার আগে তিনি ১৫ পৃষ্ঠার একটি চিঠি লিখে যান। এতে তিনি তার অভিজ্ঞতা ও ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন।বাড়ি ছাড়ার পর তিনি তার মামার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে জানান যে, তিনি তার বাড়িতে শান্তি খুঁজে পেতে সমর্থ হন নি।কানুর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের পর তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, কানুরে তিনি তার এক বান্ধবীর সঙ্গে ছিলেন এবং তার বাবা-মা তাকে ইসলামি জীবন-যাপনের অনুমতি দিলে তিনি তাদের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন। তিনি জানান, তিনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছেতেই ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছেন এবং কেউ তাকে এ জন্য বাধ্য করেনি।আখিলা বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অনেক কাল্পনিক অভিযোগ ছড়ানো হয়েছিল যে, আমি ইসলামিক স্টেটে যোগদান করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বাড়ি ছাড়ার সময় আমি আমার পাসপোর্টও সঙ্গে নেইনি। আইএসের সঙ্গে আমাকে জড়ানোর কারণে আমি কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলাম, কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সংযোগ নেই।’আখিলা অশোকান (২৪) পেশায় একজন হোমিওপ্যাথি ডাক্তার।ইসলাম গ্রহণের পর তিনি নিজের নাম রাখেন হাদিয়া এবং কোল্লামের মুসলিম যুবক শেফিনকে বিয়ে করেন। তার বাবা মে মাসে হাইকোর্টের কাছে অভিযোগ করেন যে, তার কন্যাকে মগজ ধোলাইয়ের পর জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। পরে হাইকোর্ট এই বিয়ে বাতিল করে এবং হাদিয়াকে তার বাবার হেফাজত পাঠানোর নিদের্শ দেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ