বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০
Online Edition

পুজদেমনের ওপর চাপ বাড়ছে

১০ অক্টোবর, রয়টার্স/বিবিসি : আঞ্চলিক পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার আগে স্পেন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিকল্পনা ঝেড়ে ফেলতে কাতালান প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুইজদেমনের ওপর চাপ বাড়ছে।
গতকাল মঙ্গলবারের ভাষণে তিনি এ মাসের শুরুতে হওয়া গণভোটের সূত্র ধরে একতরফাভাবে কাতালুনিয়ার স্বাধীন ঘোষণা করতে পারেন বলে ধারণা করা হয়।
এমনটা হলে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর সমর্থন মিলবে না।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রভাবশালী সদস্য ফ্রান্স ও জার্মানি এরই মধ্যে অখ- স্পেনের পক্ষে তাদের অবস্থানের কথা জানান দিয়েছে।
কাতালুনিয়ার ভেতরেও স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে দোদুল্যমান পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বার্সেলোনার মেয়র আদা কোলু স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট পুজদেমনকে পার্লামেন্টের ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি কাতালুনিয়ায় মাদ্রিদের সরাসরি শাসন চালুর চিন্তা প্রত্যাহারে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখয়ের প্রতিও দাবি জানিয়েছেন।
দুই নেতাকে কাতালান সঙ্কট নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ জানান কোলু।
“আলোচনা ও মধ্যস্থতার সম্ভাবনা সঙ্কুচিত হয়ে যায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত যেন তারা না নেন সেজন্য অনুরোধ করছি। এটাই হবে এই মুহুর্তে সবচেয়ে সাহসী পদক্ষেপ,” বলেন মেয়র।
স্পেনের বিরোধীদল সোশালিস্ট পার্টির নেতারাও কাতালুনিয়ার স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দলটির নেতা পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত তিনি।
বার্সেলোনায় সাংবাদ সম্মেলনে করা মন্তব্যে পেদ্রো বলেন, কাতালান আঞ্চলিক সরকার স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হলে তার দল স্পেনিশ সরকারের পক্ষে নেবে।
 “একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হলে তা সামাজিক ঐক্য নষ্ট করবে এবং এই ধরনের যে কোনো সম্ভাবনায় আমরা মাদ্রিদ সরকারের পক্ষ নেবো।”
স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশাল বিশাল সমাবেশ দেখছে বার্সেলোনা। রোববার এক সমাবেশে অখণ্ড স্পেনের প্রায় সাড়ে তিন লাখ সমর্থক কাতালুনিয়ার বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান জানিয়েছেন।
স্বাধীনতা ঘোষণা করলে স্পেনের পার্লামেন্ট সংবিধানের ১৫৫ অনুচ্ছেদ জারি করে কাতালুনিয়ার স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপ করারও হুমকি দিয়েছে।
বিবিসি বলছে, বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের সদরদপ্তর ও নিবন্ধিত কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়ায় অর্থনৈতিকভাবেও চাপে পড়তে পারে কাতালুনিয়া।
নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আবেরতিস, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ইনমোবিলিয়ারি কলোনিয়াল ও টেলিকম কোম্পানি সেলনেক্সসহ অনেকেই তাদের প্রতিষ্ঠান কাতালুনিয়া থেকে সরিয়ে মাদ্রিদে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ছাপাখানা প্রতিষ্ঠান গ্রুপ প্লানেতা জানিয়েছে, স্বাধীনতার ঘোষণা এলে তারাও প্রতিষ্ঠান বার্সেলোনা থেকে মাদ্রিদে সরিয়ে নিবে।
কাইজা ব্যাংক ও সাবদেলের মতো প্রতিষ্ঠানও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল থেকে পাততাড়ি গোটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এসব কারণে স্পেনের রপ্তানি আয়ের এক চতুর্থাংশ এনে দেওয়া সমৃদ্ধশালী কাতালুনিয়া বিপদে পড়তে যাচ্ছে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কাতালানদের স্বাধীনতার ঘোষণা ইইউভুক্ত দেশগুলোরও সমর্থন পাবে না।
আঙ্গেলা মেরকেলের এক মুখপাত্র সোমবার বলেছেন, স্পেনের নেতা মারিয়ানো রাখয়কে করা ফোনে জার্মানির চ্যান্সেলর ‘স্পেনের অখ-তার প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন’।
ফরাসী সরকারের মন্ত্রী নাতালি লুইজিও জানান, তার দেশ কাতালুনিয়ার স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেবে না।
 সোমবার থেকে কাতালুনিয়ার পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই অধিবেশনেরই ভাষণ দেবেন কার্লেস পুজদেমন।
গত ১ অক্টোবরের গণভোটে স্বাধীনতার পক্ষে রায় পাওয়ায় তিনি পার্লামেন্ট সদস্যদের একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার আহ্বান জানাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গণভোটের রায় পক্ষে গেলে স্বাধীনতার ঘোষণা সুগম করতে গত মাসে একটি আইন পাস করেছিল আঞ্চলিক সরকার। পুজদেমনের আহ্বান পেলে সেই আইন অনুযায়ী স্বাধীনতা ঘোষণায় ৪৮ ঘণ্টার সময় পাবে কাতালান পার্লামেন্ট।
এদিকে পুজদেমনের দলের এক নেতা বিবিসিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সব বিবেচনায় নিয়ে এখনি স্বাধীনতার ঘোষণা নাও দেয়া হতে পারে। তাদের পরিকল্পনায় একতরফা স্বাধীনতার ঘোষণা না দিয়ে তার বদলে ‘প্রতীকি বিবৃতি’ দেওয়ারও চিন্তা করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ