বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০
Online Edition

দিল্লি নাখোশ হলেও ইসলামাবাদ সফরে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১০ অক্টোবর, দি হিন্দু : ভারত সফরে এসে কোনো বিদেশী অতিথির একই সঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানে সফরসূচি রাখা দিল্লির পছন্দ না হলেও চলতি মাসের শেষে একই সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তান সফরের কর্মসূচি নিয়ে উপমহাদেশে আসছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। দিল্লি ও ওয়াশিংটনের সূত্রে এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি ও তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে, ওয়াশিংটনে নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর ভারতে এটা হবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের চতুর্থ সফর। গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার দিল্লী সফর করেন। এরপর জুলাইয়ে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক কর্মকর্তা এলিস ওয়েলস। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাট্টিস সফর করে গেলেন সেপ্টেম্বরে।মজার বিষয় হলো ম্যাকমাস্টার ও ওয়েলস একই সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তান সফর করেছেন। এবার টিলারসনও একই কর্মসূচি অনুসরণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যা হবে বিগত ওবামা ও বুশ প্রশাসনের নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। ওই দুই প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কর্মকর্তা একই সঙ্গে দিল্লি ও ইসলামাবাদ সফর করেননি। কারণ, ভারত ও পাকিস্তানকে একই মাপে বিবেচনা করা (হাইফেনশন) দিল্লির পছন্দ নয়।  নতুন আফগান নীতি
দি হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও আফগানিস্তানে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। ট্রাম্পের নতুন দক্ষিণ এশিয়া নীতিতে আফগানিস্তানের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে আরো বেশি বিনিয়োগের জন্য দিল্লিকে যেমন উৎসাহিত করা হয়েছে, তেমনি পাকিস্তানকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করা হয়েছে জঙ্গিদের আশ্রয় দেয়ার জন্য।এর পরিপ্রেক্ষিতে ধারণা করা হয় যে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের অ-ন্যাটো মিত্রের মর্যাদা বাতিল, সামরিক ও বেসামরিক সাহায্য কমানো ও দেশটির সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন কিছু ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে।তবে দি হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নীতি এড়িয়ে চলাকে ভারত স্বাগত জানালেও দিল্লির অনেকের তা পছন্দ নয়। তারা মনে করেন এর ফলে মনে হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের মধ্যে দূতিয়ালি করছে।যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্যে ভারতে অস্বস্তিচলতি বছরের গোড়ার দিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জানান, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।
টিলারসনও পরামর্শ দেন ভারত যেন পাকিস্তানের সঙ্গে বিরোধ নিস্পত্তির জন্য কিছু আপোসমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এই বক্তব্যে ভারত নাখোশ হয়।ট্রাম্প প্রশাসন আফগান-পাকিস্তান ডেস্ক (পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির দফতর) মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া দফতরের সঙ্গে একীভূত করার যে সিদ্ধান্ত নেয় তাকেও ভালো চোখে দেখছে না দিল্লি। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করতে ভারত ও পাকিস্তানকে এক করার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের যাত্রা আরো স্পষ্ট হয়।এরই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত অরুন সিং দি হিন্দুকে বলেন, ‘এর ফলে আফগানিস্তানের ভাগ্য পাকিস্তান-ভারতের সঙ্গে একীভূত হয়ে যেতে পারে।’তবে উপমহাদেশের দুই দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দুই দিকে এগুচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।
সাবেক এই কূটনীতিকের মতে যুক্তরাষ্ট্র এখন আফগানিস্তান এবং সম্ভবত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের প্রতি মনযোগ দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ক অনেক বিস্তৃত। তাই পাকিস্তান-ভারত সম্পর্ক হাইপেনশন করা হলেও তা আগের মতো হবে না বলে তিনি মনে করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ