শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

পাক-ভারতকে আলোচনায় বসার পরামর্শ দুই সাবেক গোয়েন্দা প্রধানের

৯ অক্টোবর, পার্সটুডে, হিন্দুস্তান টাইমস : পাকিস্তান ও ভারতের সাবেক দুই গোয়েন্দা প্রধান তাদের দুই দেশের প্রতি অবিলম্বে কূটনৈতিক আলোচনা ও যোগাযোগ শুরুর আশু প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেছেন, তা হবে দেশ দুটির জাতীয় স্বার্থের সহায়ক।
লন্ডন স্কুল অব ইকনমিকস’ (এলএসই)-এর শেখ জায়েদ থিয়েটারে আয়োজিত এক জমজমাট গণবিতর্কে অংশ নিয়ে পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল এহসানুল হক ও ভারতের রিসার্চ এন্ড এনালাইসিস উইং (র)’র সাবেক প্রধান অমরজিৎ সিং দৌলত এ কথা বলেন।
সাউথ এশিয়া সেন্টার, এলএসই’র পাকিস্তান ডেভলপমেন্ট সোসাইটি ও সাউথ এশিয়া ফিউচার ফোরাম এই বিতর্কের আয়োজন করে।
পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধ কোনো বিকল্প হতে পারে না বলে দুই গোয়েন্দা প্রধানই ঐকম্যত পোষণ করেন। তাদের মতে, দুই দেশের নেতৃবৃন্দকে প্রতিটি ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনার পথে এগুতে হবে এবং যোগাযোগ বয়কট পরিহার করতে হবে।
অনুষ্ঠানে হক ও দৌলত তাদের নিজ নিজ দেশের গুপ্তচরবৃত্তির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন এবং শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এক প্রশ্নের জবাবে জেনারেল এহসান বলেন, এমনকি কূটনৈতিক সম্পর্ক ভেঙ্গে পড়লেও আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে। গোয়েন্দা চ্যানেলগুলোকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, এগুলোই পরস্পরের ক্ষোভ প্রকাশ ও সংকট আগেভাগে নিরসনের সর্বশেষ অবলম্বন। রাজনৈতিক পর্যায় থেকে এই উদ্যোগ নিচের দিকে নেমে আসতে হবে। যোগাযোগ চ্যানেল বন্ধ করে দিয়ে ভারত সরকার এই অঞ্চলের জন্য কল্যাণকর কিছু করছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, দৌলত বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এক সময় পারভেজ মোশাররফের জীবন রক্ষা করেছিলো, তা স্বীকার করা হয়েছে। তাই আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
 জেনারেল এহসান তার বক্তব্যের শুরুতে দর্শকদের বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মতবিরোধের কারণে পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রধান কারণ মূলত অনিষ্পন্ন কাশ্মীর সমস্যা। পাকিস্তানের জন্য কাশ্মীর একটি কোর ইস্যু। তাই কাশ্মীরিদের সমর্থন প্রদানের জন্য ভারত বেলুচিস্তানে সমস্যা উষ্কে দিচ্ছে এবং তালিবানদের মাধ্যমে পাকিস্তানের অন্যান্য স্থানে গোলযোগ সৃষ্টি করছে।
সাবেক এই গোয়েন্দা প্রধান বলেন, কুলভূষণ যাদব গ্রেপ্তারের পর বেলুচিস্তান ও পাকিস্তানের অন্যান্য স্থানে সন্ত্রাসী কার্যকালাপে ভারতের হাত থাকার অনেক অকাট্য প্রমাণ পাকিস্তানের কাছে এসেছে।
তিনি বলেন, গত এক বছরে শতাধিক কাশ্মীরী তরুণকে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্যালেট গান দিয়ে হত্যা করে, যা একটি অত্যন্ত নৃশংস যুদ্ধ কৌশল।
সাবেক এই গোয়েন্দা প্রধান বলেন, কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ নতুন প্রজন্মের হাতে চলে গেছে। আর নরেন্দ্র মোদী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে কঠোর বাগাড়ম্বর করছেন তা মূলত রাজনৈতিক ও নির্বাচনে জয়ের হাতিয়ার। তিনি রাজনৈতিক কারণে জনগণের মানসিকতাকে উস্কে দিচ্ছেন।
দৌলত স্বীকার করেন, ভারতীয় সেনারা অধিকৃত কাশ্মীরে অনেক তরুন-যুবককে হত্যা করেছে। তবে, তিনি বলেন, বহু সংখ্যক ভারতীয় সেনাকেও হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ভারত সন্ত্রাসবাদের জ্বালায় জ্বলছে এবং পাকিস্তানও সন্ত্রাসবাদের কারণে ভুগছে।
বিশ্বের সবদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক থাকলেও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকার কোনো অর্থ নেই বলে ভারতীয় সাবেক গোয়েন্দা প্রধান মনে করেন।
তিনি বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের সবচেয়ে উত্তেজনার দিনগুলোতেও সিআইএ ও কেজিবি পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করেছে। তারা এই বিশ্বকে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ থেকে রক্ষা করেছে। তাহলে পাকিস্তান ও ভারতের সংস্থাগুলোর সহযোগিতা করতে না পারার কোনো কারণ নেই। ভালো ও খারাপ দু’সময়েই তারা প্রত্যাশিত ফল দিয়েছে, আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হবে।
পাকিস্তানের সন্ত্রাসী দলগুলোকে রাজনীতিতে নিয়ে আসার চেষ্টা নিয়ে বিতর্ক সম্পর্কে জেনারেল এহসান বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সব দেশ অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তিনি উদাহরণ হিসেবে উত্তর আয়ারল্যান্ড, বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্র এবং তালিবানদের ব্যাপারে আফগানিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, গ্রেট বৃটেন আইরিশ রিপাবলিকানদের সন্ত্রাসী বলতো। কিন্তু তাদেরকে চরমপন্থা থেকে ফিরিয়ে এনে মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।
দৌলত বলেন, গত ১৫ মাসে পাকিস্তান কাশ্মীরের নাম উচ্চারণ করেনি এবং ২০১৩ সালের নির্বাচনেও পিএমএলএন বা পিটিআই কেউই এই ইস্যুকে সামনে আনেনি।
তিনি বলেন, ভারত কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় না, কারণ সে কাশ্মীরকে নিজের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে।
দুই সাবেক গোয়েন্দা প্রধানই মনে করেন যে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য পাকিস্তান ও ভারতকে ক্রিকেট খেলা উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ