মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

বিদ্যুতের দাম কমানোর গণশুনানীতে ধরাশায়ী পিডিবি 

 

স্টাফ রিপোর্টার: পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি এক টাকা ৫৬ পয়সা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে কনজ্যুমার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ ক্যাব। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত বিদ্যুতের দাম কমানোর ওপর গণশুনানিতে অংশ নিয়ে এ প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে গণশুনানীতে ক্যাবের যুক্তির কাছে ধরাশায়ী হয়ে বিদ্যুতের দাম শর্ত সাপেক্ষে কমানো সম্ভব বলে মত দিয়েছে পিডিবি। প্রতিশ্রুত ভর্তুকির অর্থ পিডিবিকে দেয়, আগে দেওয়া ভর্তুকি বাবদ টাকা সুদসহ মওকুফ করে, তাহলে দাম বাড়ানোর বদলে কমানো সম্ভব বলে স্বীকার করেন পিডিবি’র জিএম (বাণিজ্যিক পরিচালন) কাওছার আমীর আলী। 

গতকাল বৃহস্পতিবার এ প্রস্তাব নিয়ে বিইআরসির গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়। গণশুনানি নেন বিইআরসি’র চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম, সদস্য  মিজানুর  রহমান, আবদুল  আজিজ  খান, রহমান  মুরশেদ ও মাহমুদউল হক ভুইয়া। বাম সংগঠনের নেতা, ব্যবসায়ী নেতা ও বিপুল সংখ্যক ভোক্তা গণশুনানিতে অংশ নেন।

সূত্র জানায়, ২০০৯ সাল থেকে গণশুনানি শুরু হলেও এতদিন কেবল দাম বাড়ানোর ওপর শুনানির আয়োজন করা হতো। গতকালের শুনানিতে দাম কমানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে যুক্তি তুলে ধরছেন কোম্পানিগুলো। আর বিদ্যুতের  দাম কমানোর  উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা। গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের  ওপর গণশুনানি শুরু হয়।

এবার পিডিবি পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ১৪ দশমিক সাত চার শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। আর বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানি গ্রাহক পর্যায়ে ৬ থেকে ১৫ দশমিক তিন শূন্য শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। আজকের শুনানির মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে এবারের গণশুনানি। শুনানির পর ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিদ্যুতের দাম পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে বিইআরসি। 

এদিকে কনজুমারস্ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) অকাট্য যুক্তির কাছে হার মেনেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। অবশেষে বলতে বাধ্য হয়েছে, বিদ্যুতের দাম কমানো সম্ভব। তবে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে। সরকার যদি প্রতিশ্রুত ভর্তুকির অর্থ পিডিবিকে দেয়, আগে দেওয়া ভর্তুকি বাবদ টাকা সুদসহ মওকুফ করে, তাহলে দাম বাড়ানোর বদলে কমানো সম্ভব বলে স্বীকার করেন পিডিবি’র জিএম (বাণিজ্যিক পরিচালন) কাওছার আমীর আলী।  বিদ্যুতের দাম কমানোর আবেদনের ওপর গণশুনানিতে এ স্বীকারোক্তি দেন কাওছার আমীর আলী। ক্যাবের হিসেব ও পরিসংখ্যান স্বীকার করে নিতেও বাধ্য হন তিনি।

শুনানীতে ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম হিসেব কষে দেখিয়ে দেন, কিভাবে বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে কমানো যায়। তিনি বলেন, ‘সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে বসিয়ে রেখে বেসরকারি কোম্পানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সরকার যদি সাশ্রয়ী মূল্যে উৎপাদনে প্রাধান্য দিতো, তাহলে ৭ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হতো। তাহলে এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না। বরং ইউনিটপ্রতি ১.৫৬ টাকা কমানো যেতো’।

 শামসুল আলম বলেন, ‘সরকারি বিদ্যুৎ  কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইউনিটপ্রতি জ্বালানি খরচ (গ্যাস) ৮৪ পয়সা। আর রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি খরচ হচ্ছে ৯২ পয়সা। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের  বিদ্যুতের দাম কম পড়ে। কিন্তু সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৪৩ শতাংশ হারে আর বেসরকারি বিদ্যু’  কেন্দ্রে  ৭০ শতাংশ হারে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে’।

‘সরকারি ৪ হাজার ৩৯৮ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার ৪৩.০৮ প্লান্ট ফ্যাক্টরে উৎপাদন হয় ১ হাজার ৬৫৯ কোটি ইউনিট। ৭০ শতাংশ হারে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে ২ হাজার ৬৯৬ কোটি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন করতে পারে। কিন্তু পিডিবি তা করছে না। এতে বছরে ৭৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা বেশি গুণতে হয়েছে (২০১৬-১৭ অর্থবছরে)’।

তিনি বলেন, ‘বিইআরসি’র স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, কম দামে উৎপাদনক্ষম বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আগে চালাতে হবে। তারপর ঘাটতি থাকলে ব্যয়বহুলগুলো চালাতে হবে। কিন্তু বিইআরসি’র এ নির্দেশনা মানছে না পিডিবি। ৪ টাকায় যে কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, সেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে রেখে ৩০ টাকা ইউনিট খরচ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ