বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২০
Online Edition

কয়রায় প্রাকৃতিক উৎস্য থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

খুলনা অফিস : কালের গর্ভে যেন হারিয়ে যাচ্ছে মাছে-ভাতে বাঙালী প্রবাদ বাক্যটি। একটা সময় ছিল যখন বাঙালী মাছ ছাড়া ভাত খাওয়া কল্পনা করতে পারতো না। সেই বাঙালীর সব সাজে এখন মাছ খাওয়াটা যেন অনেকটা কল্পনার মতোই। বাড়ছে জনসংখ্যা, বাড়ছে চাহিদা। কিন্তু চাহিদার অনুপাতে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে প্রাকৃতিক উৎসের মাছের আবাস স্থল। জলবায়ু পরির্বতন, নদী-নালা, খাল-বিল, ডোবা, হাওড়-বাওড় ভরাটের ফলে বিলুপ্ত হতে চলেছে প্রাকৃতিক উৎসের মাছ। প্রাকৃতিক উৎসের মাছ যেমন পুষ্টিগুণ তেমনি খেতেও সু-স্বাদু। প্রায় এক দশক আগেও প্রাকৃতিক উৎসের মাছ প্রচুর পাওয়া যেত এ এলাকায়। বর্তমানে তা এখন আর পাওয়া যায় না বললেও চলে। বাজারে যা অল্প কিছু পাওয়া যায় তার আবার দাম অত্যন্ত চড়া। ফলে মাছে-ভাতে বাঙালী মানুষেরা অনেকটা বাধ্য হয়ে অপেক্ষাকৃত কম দামে কিনে খাচ্ছে চাষকৃত মাছ।

প্রকৃতিক মাছের জন্ম স্থল ও আবাসস্থল ভরাট ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিলুপ্ত হচ্ছে প্রাকৃিতক উৎসের দেশী প্রজাতির মাছ। অথচ এক সময় প্রাকৃতিক উৎসগুলো দেশীয় মাছে ভরপুর থাকতো। এর মধ্যে শিং, পুটি, টেংরা, মলা, ঢলো, পাবদা, চাঁন্দা, খলিশা, কৈ, শৈল, টাকি, বেলে, বাইন, গুলশা, বাতাশি, কাজরি, চাপিলা, কাকিলা, কুচো চিংড়ি, পোয়া, মাগুরসহ আরো অনেক জাতের মাছ। যা আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। আর এ কারণে এখন দণিাঞ্চলের মানুষকে নির্ভর করতে হচ্ছে চাষের মাছের উপর।

উপজেলার ৫নং কয়রা গ্রামের আবুল হোসেন গাজী (৬৫) বলেন, এখান থেকে ১০ বছর আগে এ রকম বর্ষা মওসুমে প্রচুর দেশী মাছ দেখা যেত। এ বছর বর্ষা শেষ তার পরেও কোন দেশী মাছ দেখা যায়নি।

জানা যায়, কয়রার শাকবাড়িয়া, কয়রাসহ অসংখ্য নদী মরে প্রাকৃতিক উৎসের মাছ প্রায় শূণ্য। যা দু’একটি জলাশয় রয়েছে তা অপরিকল্পিত ব্যবহার, দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় শীত ও খরা মওসুমে এসব জলাশয় শুকিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

সূত্রমতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত মাছ আহরণ, কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ আহরণ,অবাধে কীটনাশক ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে মাছের উৎপাদন হারিয়ে যাচ্ছে। মিঠা পানির ৫৪ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৩২ প্রজাতিই ছোট যার ৫ টি চরম বিপন্ন, ১৮টি বিপন্ন ও ৯টি সংকটাপন্ন বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া শুষ্ক মওসুমে নদ-নদীতে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ কমে যাওয়ার  ক্ষেত্রে মৎস্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত জনসংখ্যা বৃদ্ধ, বেশি পরিমাণ মৎস্য আহরণ, জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি না থাকা, জলাশয় ভরাট, অপরিকল্পিত বাঁধ, নদ-নদীতে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদি। চাষকৃত মাছ দ্রুত বৃদ্ধির জন্য দেয়া হচ্ছে রাসয়ানিক উপাদানসহ নোংরা খাবার। প্রাকৃতিক উৎসের দেশীয় প্রজাতির মাছ না পাওয়ায় অনেকটা বাধ্য হয়ে খেতে হচ্ছে চাষকৃত মাছ।

কয়রা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আলাউদ্দীন আহমেদ জানান, জমি ও জলাশয়ে কীটনাশক প্রয়োগ, মা মাছ ধরা দেশীয় মাছ হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন-তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণেও এমনটা হচ্ছে। তবে আমরা গবেষণার মধ্যদিয়ে কয়েকটা প্রজাতির দেশীয় মাছ সংরক্ষণের চেষ্টা করছি বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ