শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

যাত্রী আছে ট্রেন নেই ॥ ডেমুতে তোলাবাজ

তোফাজ্জল হোসেন কামাল , চাঁদপুর ঘুরে এসে : সামনে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ( আরএনবি) সদস্য শাহ আলম , পেছনে রেলওয়ে পুলিশের ( জিআরপি ) কনস্টেবল খালেক আর মাঝখানে সুদর্শন টিটিই ( নাম জানা যায়নি ) লাইন ধরে এ বগি থেকে ও বগি হেঁটে হেঁটে যাত্রীদের টিকিট তল্লাশি করছেন । যাদের কাছে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে তাদের টিকিটে ওই টিটিই বল পেনের আচঁড় দিয়ে একের পর এক এগিয়ে যাচ্ছেন । আর যাদের কাছে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না তাদেরকে জরিমানাসহ নির্ধারিত গন্তব্যের ভাড়া দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন । যারা এ আহ্বানে সাড়া দিতে অপারগ তাদেরকেই দু‘চারটে আইনী কথা শুনিয়ে যাচ্ছিলেন ওই টিটিই । এর মধ্যেই তার সামনে ও পেছনে লাইন ধরে হাঁটতে থাকা ওই দু‘জন টিকিটবিহীন যাত্রীদের সাথে আর্থিক লেনদেনের দফারফা করছেন । প্রার্থিত লেনদেনের দরকষাকষির পর যা পাওয়া যাচ্ছে , তাই ওই দু‘জন তুলে দিচ্ছেন টিটিইর হাতে । মাঝে মাঝে তিনি নিজ হাতেই কোন কোন যাত্রীর কাছ থেকে যা পাওয়া যাচ্ছে , তাই তুলে নিচ্ছেন । দু‘ভাবেই তুলে নেয়া লেনদেনের অর্থ টিটিইর হাতে থাকা ভ্রাম্যমাণ টিকিটের খাতার পাতায় পাতায় ভরে উঠছে । আবার দু‘একজনকে ভ্রাম্যমাণ টিকিটের খাতা থেকে দু‘একটি পাতা ছিঁড়ে দিতেও দেখা গেছে । এই বর্ণনা লাকসাম-চাঁদপুর লাইনের রেলপথের । ১১ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল পৌনে দশটায় চাঁদপুর বড় স্টেশন ছেড়ে আসার পর ডেমু ট্রেনে এ তোলাবাজির দৃশ্য চোখে পড়েছে। ট্রেনটির গন্তব্য ছিল কুমিল্লা ।

আসাম-বাংলার গেটওয়ে খ্যাত নদীবন্দর চাঁদপুরকে বাণিজ্যিক গুরুত্ব দিয়ে ব্রিটিশ আমলে তৈরি হয় চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথ। ২০১৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার এই রেলপথে ( চাঁদপুর-লাকসাম-কুমিল্লা ) ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডেমু) ট্রেন উদ্বোধন করা হয়। তৎকালীন রেলমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ট্রেনের উদ্বোধন করলেও দু‘দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর রোববার থেকে চাঁদপুর-কুমিল্লা রেলপথে ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল-বিকেল দুবার করে চলাচল শুরু করে। তখন ভাড়া নির্ধারিত করা হয় ৩৫ টাকা করে। তবে চাঁদপুর থেকে প্রতি স্টেশনে ১৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হলেও এখন নেয়া হচ্ছে ২০ টাকা।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং লাভজনক । এ রেল পথ হয়ে আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেন ও সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেন চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম চলাচল করে। এছাড়া চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটের ড্যেমু ট্রেন এ রেলপথ হয়ে চলাচল করে। প্রতিদিন দক্ষিনাঞ্চলের শত শত যাত্রী আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনে চট্টগ্রাম যাতায়াত করে। বৃটিশ আমলে আঠার শতকের শেষ দিকে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথ নির্মাণ করা হয়। এক সময়ে এই রেলপথের গুরত্ব বাড়লেও রেল কতৃপক্ষের কাছে এটি গুরত্ব হারায় ।অবহেলার শিকার হওয়া এই রেলপথটি নির্মানের পর বড় ধরনের কোন সংস্কার করা হয়নি। অনেক আগেই মেয়াদউত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার কারনে রেলপথের লাইনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠার কারনে এ রেলপথে কম গতিতে ট্রেন চলাচল শুরু করে। এ অবস্থাতেও কেটে যায় যুগের পর যুগ । ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের কারনে চাঁদপুর থেকে লাকসাম যেতে যাত্রী সাধারনকে সময় গুনতে হতো দ্বিগুন । ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথের উন্নয়নের জন্য ৩ বার রেল মন্ত্রনালয় থেকে অর্থ বরাদ্ধ দেওয়া হয়। কিন্তু নানা জটিলতার কারনে এ পথে কাজ না হওয়ায় বরাদ্ধের সেই অর্থ কেটে নিয়ে লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথের উন্নয়ন কাজ করা হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের ঋন সহায়তায় ১৬২ কোটি টাকা ব্যায়ে চাঁদপুর-লাকসাম রেল পথ আধুনিকায়নের একটি প্রকল্প গ্রহন করা হয়। চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে ৩টি প্রকল্পের ১শ’ ৬২ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের মধ্যে রেলপথ উন্নয়ন বাবদ ১শ’ ৬ কোটি, স্টেশন ভবন রি-মডেলিংয়ের জন্য ৪০ কোটি এবং ৩৮টি ব্রিজ মেরামতের জন্য ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। চাঁদপুর-লাকসাম ৫১ কিলোমিটার রেলপথ উন্নয়নের কাজ ২০১৩ সালের জুলাই‘র প্রথম সপ্তাহে শুরু হয়। এর আগে ২০১১ সালে একনেকের এক বৈঠকে প্রায় ২শ’ বছর আগের ব্রিটিশ আমলে নির্মিত জরাজীর্ণ চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পায়। অনুমোদন লাভ করার ২ বছর পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভারতীয় কালিন্দি কোম্পানি কাজ শুরুর কথা ছিল।

কাজ শুরুর পর চুক্তি মোতাবেক চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথকে আধুনিকায়ন ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মতো মেইল ট্রেন চলাচলের উপযুক্ত করার লক্ষ্যে আগের ৬০ পাউন্ড ওজনের রেলপাত পরিবর্তন করে ৭৫ পাউন্ড ওজনের রেলপাত স্থাপন করা হয়। এজন্য চীন থেকে ৫ হাজার ১শ’ ৭০ মেট্টিকটন রেললাইন আমদানি করা হয়েছে। আগের রেলপাত পরিবর্তন করে রেলপথের ৭২ হাজার কংক্রিট ষিøপার ব্যবহার করে তার ওপর রেললাইন বসিয়ে বর্তমান রেললাইন থেকে ১৮ ইঞ্চি উঁচু করে রেলপথ স্থাপন করা হয়। প্রতি স্কয়ার মিটার রেলপথে ১৬ সিএফটি পাথর বসানো হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান , চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথ হবে মেইল লাইন স্ট্যান্ডার্ড। পরিপূর্ণ রেলপথে রূপ নিলে চাঁদপুর থেকে লাকসাম যেতে সময় লাগবে কম। এছাড়া ৬টি স্টেশন ভবন নতুন করে রি-মডেলিং ও ২টি স্টেশনভবন মেরামতের জন্য ৪০ কোটি টাকার বরাদ্দ পেয়ে কাজ করছে ঢাকার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাশেম। বলাখাল, হাজীগঞ্জ, শাহতলী স্টেশনের রি-মডেলিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার পথে। অপর ৩টি স্টেশন চিতোষী, মেহের ও মধুরোড স্টেশন ভবনের কাজ চলছে। আর বাকি ২টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন চাঁদপুর ও চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনের মেরামতের কাজ আধুনিক ডিজাইনে চলছে। ২০১৪ সালের আগস্টে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ব্রিজগুলোর কাজ শুরু হয়।

 রেলপথ মন্ত্রনালয়ের অধীনে এবং ভারতের কালিন্দী রেল নির্মাণ ইঞ্জিনিয়ারিং লিঃ কোম্পানির তত্ত্বাবধানে এখন সেই কাজ এগিয়ে চলছে । চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথ আধুনিকায়ন নামক প্রকল্পের কাজ ২০১৫ সালের জুন মাস নাগাদ শেষ হওয়ার কথা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কালিন্দি গ্রুপ আগেই জানিয়েছিল। কিন্তু আজও সে কাজ চলছে ঢিমেতালে ।

প্রকল্পটির কাজ শুরুর পর রেল কতৃপক্ষ দাবী করে , চাঁদপুর-লাকসাম রেল পথের আধুনিকায়নের কাজ সম্পন্ন হলে ট্রেন চলাচলের গতি বৃদ্ধি পাবে। চাঁদপুর থেকে লাকসাম যেতে বর্তমানে দু’ঘন্টার স্থলে এক ঘন্টার কম সময় লাগবে। যাত্রীদের দুর্ভোগ লাগব হবে। পাশাপাশি এ রেলপথ আধুনিকায়নে চাঁদপুর বাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পুরণ হবে।

 ডেম্যু ট্রেনে তোলাবাজ

২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চাঁদপুর-কুমিল্লা রেলরুটে আধুনিক ডিজেল ইলেক্ট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডেমু) ট্রেন চালুর পর নতুন স্বপ্নে বিভোর হন যাত্রী সাধারন । রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ‘র সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রতিদিন দুবার এটি কুমিল্লা-চাঁদপুর চলাচল করার কথা অনুযায়ী ট্রেনের সময়সূচি নির্দারিতও হযেছিল । প্রথম দিকে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে লাকসাম থেকে ছেড়ে চাঁদপুর পৌঁছবে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে। চাঁদপুর থেকে ছাড়বে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে এবং কুমিল্লা পৌঁছবে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে। কুমিল্লা থেকে ছাড়বে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে এবং চাঁদপুর পৌঁছবে বিকাল সাড়ে ৫টায়। আবার বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে কুমিল্লা ছেড়ে চাঁদপুর পৌঁছবে রাত ৯টা ১০ মিনিটে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেম্যু ট্রেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলেও এ লাইনে চলবে শীতাতপ ছাড়া। এতে টয়লেটের কোনো ব্যবস্থা নেই। চাঁদপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ভাড়া হবে ৩৫ টাকা এবং লাকসাম পর্যন্ত ২৫ টাকা। ন্যূনতম ভাড়া ১৫ টাকা। ট্রেনটির তিনটি বগিতে আসন থাকবে ১৫৩টি। বাকিরা দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করবেন। যাত্রী চলাচল বাড়লে পরে অতিরিক্ত বগি যোগ করা হবে। প্রতিদিন কমপক্ষে সাড়ে ৬শ’ থেকে ৭শ’ যাত্রী এই ট্রেনে চলাচল করতে পারবে।

কিন্তু এখনকার বাস্তবতা ভিন্ন ।

 ট্রেন চলাচলের সময়সুচীতে পরিবর্তন আনা হয়েছে । পরিবর্তিত হয়েছে নূনতম ভাড়ার হারও ।পরিবর্তিত সময়সুচীতেও ডেমু ট্রেনটিকি চলতে দেখা যায়নি । ১১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর স্টেশন ছাড়ার নির্ধারিত সময থাকলেও ডেমু ছেড়েছে পৌনে দশটায় । তা ছাড়া স্টেশনের বাইরেও ট্রেনটিকি দাঁড়াতে দেখা গেছে । ওই স্থানটি ছিল বলাখাল স্টেশনের আগে । সেখান থেকে কয়েকজন নারী যাত্রী ওঠেন । তাদের সাথে ট্রেনটির পরিচালকদের সখ্যতা ছিল বলেই স্টেশনের আগে ডেমুকে থামতে হয় । অবশ্য নারী যাত্রীরা ওঠার পরই একজন তাদেরকে মাঝবগি থেকে চালকের আসনের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান ।এ সময় অন্য যাত্রীদেরকে বিরক্ত প্রকাশ করতে দেখা গেছে । তারা জানান , স্টেশনের বাইরে সিগন্যাল ছাড়া ট্রেন দাঁড়ানোর কোন সুযোগ নাই । এখন পরিচয়ের কারনে স্টেশনের বাইরে থেকে যাত্রী ওঠা নামার কাজও চলে । জানতে চাইলে বেশ ক‘জন যাত্রী এ প্রতিবেদককে জানান , এই রেলপথে যাত্রীর অভাব নেই ।কিন্তু নানা কারনেই তারা রেলমুখী নয় ।আগে ৭ টি ট্রেন চলাচল করতো । এখন নানা ছুতায় চলছে মাত্র ৩ টি । তারও চলাচলের ঠিকঠিকানা নাই ।সময়মতো ছাড়েনা,সময়মত গন্তব্যে পৌছাঁনো যায় না ।ডেমুতে কোন টয়লেট/বাথরুম নেই । যার কারনে নারী যাত্রীরা পড়েন বেকায়দায় ।তারা জানান ,চাঁদপুর থেকে কুমিল্লা যেতে ডেমু ট্রেনটির সময় লাগে ৩ ঘন্টারও বেশি । এই সময়টাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে সমূহ বিপদেই পড়তে হয় । যার কারনে অনেকেই এ পথ মাড়ান না । ন্যূনতম ভাড়া ছিল ১৫ টাকা , সেখানে এখন রাখা হচ্ছে ২০ টাকা । তারও কোন টিকিট নেই । যে ক‘টা টিকিট দেয়া হচ্ছে,তা পুরানো আমলের মোটা কাগজের তৈরী । তাতে নূনতম ভাড়ার হার লেখা ৬ টাকা ।

জানা গেছে , ওই রেলপথে যাত্রীর সংখ্যা প্রচুর । তারপরও পরিকল্পিতভাবে লোকসান দেখিয়ে ট্রেনের সংখ্যা কমিয়ে তিনটিতে আনা হয়েছে ।এর একটি ডেমু । অপর দুটিই চট্টগ্রাম-চাঁদপর পথে চলাচল করে । এক সময়ে চাঁদপুর থেকে সিলেটের ট্রেন চলাচল করতো । ভৈরব যেতো । তা ছাড়া ছিল লাকসাম-চাঁদপুরের পথে কয়েকটি লোকাল ট্রেনও । কিন্তু সেগুলো নেই এখন । অব্যবস্থাপনা আর রেল কতৃপক্ষের উদাসীনতার কারনেই ট্রেনের সংখ্যা কমে গেছে । যার কারনে যাত্রীরা বিকল্প পথে চলাচল করছেন ।

 ডেমুতে যে পরিমান যাত্রী ওঠানামা করেন,তাদের অনেকেই নানা কারনে টিকিট কাটা থেকে দূরে থাকেন । আর এ সুযোগটাকে কাজে লাগায় অসাধুরা ।যেটা গত ১১ সেপ্টেম্বরও দেখা গেছে । যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মিত তোলাবাজী করা হয় বলে অভিযোগে প্রকাশ । যাত্রীর সংখ্যা অনুসারে টিকিট বিক্রি হলে কোন ট্রেনই লোকসানে পড়ার কথা নয় বলে অভিমত ওই পথের যাত্রীদের ।

এ ছাড়া ওই রেলপথের আধুনীকায়নের কাজের মধ্যে কয়েকটি স্টেশনের কাজ হওয়ার কথা ।দেখা গেছে , অনেকগুলোরই কাজ অর্ধেক অবস্থায় পড়ে আছে । স্টেশনের প্লাটফর্মের কাজ না হওয়ার কারনেও অনেককেই ডেমুতে ওঠানামা করতে বিপদের মধ্যে পড়তে হচ্ছে । বিশেষ করে নারী যাত্রীদেরকে ওঠানামায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় নিয়ত ।

যাত্রীদের অভিযোগ , লাকসাম-চাঁদপুর রুটের রেলপথের যাত্রীর তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা কম । পরিচালনাগত ত্রুটি ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারনে যাত্রী থাকার পরও একের পর এক ট্রেনের সংখ্যা কমিয়ে এখন তিনটিতে আনা হয়েছে । এই তিনটি ট্রেনই ঘুরেফিরে ওই রুটে চলাচল করছে । যাত্রীদের সুযোগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে রেল কতৃপক্ষের অনীহার কারনেই যাত্রীরা ট্রেন ছেড়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে গিয়ে তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে । যে তিনটি ট্রেন এখন নিয়মিত চলাচল করছে সে গুলোতেও যাত্রীর পরিমান ঠাসা থাকছে । তারপরও কেন আর্থিক লোকসানের কথা বলে ট্রেনের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে তা তাদের কাছে বোধগম্য নয় ।ডেম্যু ট্রেনেও যাত্রীদের আধিক্য দেখা গেলেও তোলাবাজীর কারনে এক সময়ে হয়ত: লোকসানের কথা বলে সেটির চলাচলকেও বাধাগ্রস্ত করা হতে পারে বলে ভুক্তভোগী যাত্রীদের আশংকা।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের মহা ব্যবস্থাপক-পূর্ব ( জি এম ) আব্দুল হাই বলেন , তোলাবাজীর বিষয়ে অভিযোগ পেলে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে । অন্যান্য বিষয়ের ব্যাপারে তিনি বিভাগীয় ব্যবস্থাপক-পূর্ব ( ডি আর এম ) জাহাঙ্গীরের সাথে আলাপ করার পরামর্শ প্রদান করেন ।

ডি আর এম ( পূর্ব ) জাহাঙ্গীর জানান , রেল লাইনের সমস্যার কারনে কয়েকটি ট্রেনের সংখ্যা কমানো হয়েছে । রেল পথের সংস্কারসহ আধুনীকায়নের কাজ চলছে । শিগগিরই কাজ শেষ হলে ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে । তোলাবাজীর বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিতে সুবিধা । তারপরও গনমাধ্যমে সংবাদ এলে তার ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে এ প্রতিবেদককে তিনি আশ্বস্ত করেন ।

তিনি জানান , ডেম্যু চালুর পর যে ভাড়া নির্ধারিত ছিল , তা এখন কিছুটা বেড়েছে । নতুন টিকিট না হওয়ার কারণে এখন পুরানো আমলের টিকিট দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ