শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

রাখাইনে মানবিক বিপর্যয় দেখলেন কূটনীতিকরা

সংগ্রাম ডেস্ক : বিভিন্ন দেশের ২০ কূটনীতিক উত্তর রাখাইনের সংঘাত কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন মিয়ানমার সরকারের তত্ত্বাবধানে। গত সোমবার সেখানে গিয়ে তারা সেখানকার মানবিক বিপর্যয় প্রত্যক্ষ করেন।

এদিকে রাখাইন রাজ্যকে মিয়ানমার সরকার অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। পোস্ট জানায়, সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে না দিলেও প্রকৃতপক্ষে কি ঘটছে তার কিছুটা হলেও তথ্য মিলেছে ওখানকার রোহিঙ্গাদের মোবাইল ফোন কল থেকে।

অপরদিকে গতকাল মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৯২ সালের যৌথ ঘোষণার ভিত্তিতেই রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন হবে। সাউথ এশিয়া মনিটর/ শীর্ষ নিউজ/ বাংলা ট্রিবিউন।

মানবিক বিপর্যয়

বিভিন্ন দেশের ২০ কূটনীতিক উত্তর রাখাইনের সংঘাত-কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। মিয়ানমারের ডি-ফ্যাক্টো সরকারের তত্ত্বাবধানেই তারা সোমবার রাখাইন পরির্দশন করেন। তা সত্ত্বেও সেখানকার পোড়া গ্রামগুলো ওই কূটনীতিকদের চোখ এড়ায়নি। রাখাইন পরিদর্শন শেষে সেখানকার পরিস্থিতিকে মানবিক বিপর্যয়ের সামিল বলছেন ওই কূটনীতিকরা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের পূর্ণ তদন্ত এবং সহিংসতা বন্ধ করে মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা জাতিসংঘ তথ্যানুসন্ধানী মিশনকে রাখাইন পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়াসহ কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। ওই কূটনীতিকরা আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি- আরসা’র কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম উল্লেখ করে তা বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

২৫ আগস্ট নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের হামলার পর ক্লিয়ারেন্স অপারেশন জোরদার করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তখন থেকেই মিলতে থাকে বেসামরিক নিধনযজ্ঞের আলামত। পাহাড় বেয়ে ভেসে আসতে শুরু করে বিস্ফোরণ আর গুলীর শব্দ। পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো থেকে আগুনের ধোঁয়া এসে মিশতে শুরু করে মৌসুমী বাতাসে। মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে শূন্যে ছুঁড়ে দেয় সেনারা। কখনও কখনও কেটে ফেলা হয় তাদের গলা। জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় মানুষকে। ওই সহিংসতায় পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু পালিয়ে গেছে। সেই ২৫ আগস্টের পর প্রথমবারের মতো রাখাইনে প্রবেশাধিকার পেলেন কূটনীতিকরা।

দক্ষিণ এশীয় সংবাদমাধ্যম সাউথ এশিয়ান মনিটর জানায়, সোমবারের ওই পরিদর্শনে বিদেশী দূতাবাস, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, জাতিসংঘ সংস্থা, মন্ত্রিসভা এবং ইরাবতীসহ বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের ৬৬ জন সদস্য অংশ নেয়। এদিকে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কূটনীতিকরা তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ওই এলাকার ছয়টি গ্রামের স্থানীয় রাখাইন, মুসলিম, ম্রো ও হিন্দু জনগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।

মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন চালানোর সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে বলে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা দাবি করেছে। এরইমধ্যে জাতিসংঘ সেখানে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ ও ‘জাতিগত নিধন’র আলামত পেয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি স্যাটেলাইট ইমেজে সেই নিধনযজ্ঞের প্রমাণ হাজির করেছে। দাবি করেছে দেশটির বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের। ডি-ফ্যাক্টো সরকার ওই এলাকায় মিশন পাঠাতে জাতিসংঘকে অনুমতি দিচ্ছে না। রাখাইন পরিদর্শন শেষে মিয়ানমারে নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত কেরেম দিভানলিগ্লু কূটনীতিক ও সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, সংঘাতে মুসলিম, হিন্দু ও আরাকানি বৌদ্ধ সম্প্রদায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তুর্কী সরকার ওই অঞ্চলে মানবিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মিয়ানমারে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত পল সেগা রাখাইন পরিস্থিতিকে ‘মানবিক বিপর্যয়’ আখ্যা দেন। তিনি জানান, কয়েকজন হিন্দু, মুসলিম ও আরাকানির সঙ্গে কথা বলেছেন যারা শান্তিপূর্ণভাবে একত্রে বাস করতে চায়।

 রোহিঙ্গা সংকট

পরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক ও জার্মানিসহ দূতাবাসগুলোর সম্মিলিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সাউথ এশিয়ান মনিটর জানায়, বিবৃতিতে রাখাইন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমারের বন্ধুরা সহায়তা করবে। একদিনের সফর শেষে এক বিবৃতিতে কপেল ও অন্যান্য কূটনীতিকরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাখাইনে মানবিক সহায়তা যেন পৌঁছাতে পারে সেই পদক্ষেপও নিতে বলা হয়।

অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম সিডনি মর্নি হেরাল্ডের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায, বিবৃতিতে রাখাইন রাজ্যের এমন পরিস্থিতির জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা দেখেছি, আগুনে পুড়ে গ্রামগুলো মাটিতে মিশে গেছে। কোনও বাসিন্দা নেই সেখানে। এটা অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত। নিরাপত্তা বাহিনীর উচিত সবাইকে রক্ষা করা। কোনোরকম বৈষম্য না করেই তাদের দায়িত্বপালন করা উচিত।’

রাখাইন রাজ্য অবরুদ্ধ

রাখাইন রাজ্যকে মিয়ানমার সরকার অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

 সেখানে নিরপেক্ষ কোনো মিডিয়া বা সাহায্য দাতা সংগঠনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ভিতরে প্রবেশ করতে না দিলেও প্রকৃতপক্ষে কি ঘটছে রোহিঙ্গাদের ভাগ্যে তার কিছুটা হলেও তথ্য মিলছে ওখানে থাকা রোহিঙ্গাদের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে।

অনলাইন ওয়াশিংটন পোস্টে এসব কথা লিখেছেন ম্যাক্স বিয়ারাক। তিনি লিখেছেন, মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি দাবি করেছেন, তার দেশে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ হয়েছে। সেখানে জনজীবন স্বাভাবিক। কিন্তু গত পাঁচ সপ্তাহে রাখাইন থেকে কমপক্ষে ৫ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছেন বাংলাদেশে। এ এক অপ্রত্যাশিত শরণার্থীর প্রবাহ। এ জন্য গত এক সপ্তাহে এক ডজনেরও বেশি রোহিঙ্গার সাক্ষ্য নিয়ে, রাখাইনে অবস্থানরতদের সঙ্গে কথা বলে এটা বলা যেতে পারে, মিয়ানমারের নেতারা রাখাইন নিয়ে হয়তো ভুল তথ্য দিচ্ছেন, না হয় উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভুল কথা বলছেন। ম্যাক্স বিয়ারাক লিখেছেন, ২৫ শে আগস্ট মিয়ানমারে পুলিশ পোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। শীর্ষ নিউজ।

এরপর রাখাইনে ‘কিøনজিং অপারেশনস’ শুরু করে সেনাবাহিনী। সন্ত্রাসীদের মূলোৎপাটন করা হচ্ছে বলে দাবি করে তারা। কিন্তু জাতিসংঘ বলছে, এটা জাতি নিধন। এমন ভয়াবহ অভিযানের ফলে রোহিঙ্গারা বাড়িঘর, দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। ১৯৯৪ সালে রোয়ান্ডায় গণহত্যার পর এই হারে দেশ ছাড়ার ঘটনা দেখা যায় নি আর। তবে গত দু’সপ্তাহে রোহিঙ্গা আসার হার কিছুটা মন্থর হয়েছে। মিয়ানমারে যে পরিস্থিতিতে তারা থাকেন তার চেয়ে শোচনীয় অবস্থায় বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবস্থান করছেন এসব মানুষ। যেসব মানুষের সঙ্গে কথা হয়েছে তারা সবাই নানা রকম মর্মপীড়ায় ভুগছেন। তাদের অনেকেই সেনা অভিযানের সময়ে রোহিঙ্গা গ্রামে ছিলেন। ওই সময়ে কেউ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেই তাকে গুলী করা হয়েছে।

 সেখানে এখন যারা অবস্থান করছেন তারা অনাহারে রয়েছেন। অন্য কয়েক হাজার মানুষ আটকা পড়ে আছে আলেল থান কাইওয়া গ্রামের সমুদ্র সৈকতে। বাংলাদেশে আসার জন্য তারা নৌকার আশায় আছেন। তবে এমন দাবি নিশ্চিত হতে পারে নি ওয়াশিংটন পোস্ট, কারণ অবরুদ্ধ রাখাইনে প্রবেশের অনুমতি নেই। স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় রোহিঙ্গাদের অবস্থাটা কতটা করুণ ও বীভৎস।

 রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ভিত্তি

১৯৯২ সালের যৌথ ঘোষণার ভিত্তিতেই রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হবে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার দফতর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে। সোমবার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির দফতরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ের বৈঠকের পর এই বিবৃতি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের দুই দেশের মধ্যেকার যৌথ ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের বৈধ কাগজপত্রসহ ফিরতে পারবে রাখাইনে।

 সোমবার দুপুরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার দফতরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে। বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। 

 বৈঠকের বিষয়ে মিয়ানমারের মন্ত্রী ঢাকায় কোনও মন্তব্য না করলেও একদিন পর দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার দফতর এই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হলো।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানামরের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির ১৯ সেপ্টেম্বর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তার দফতরের মন্ত্রী । সু চির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের যাচাই ও প্রত্যাবাসনে প্রস্তুত রয়েছে। ১৯৯২ সালের ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ ঘোষণা অনুসারে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

এই যৌথ ঘোষণা অনুসারে ১৯৯২ থেকে ২০০৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৯৫ জনকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠকে ২০০০ সালের ১৪ জানুয়ারি ইয়াঙ্গুনে অনুষ্ঠিত দুই দেশের সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যকার বৈঠকে সম্পাদিত চুক্তির প্রসঙ্গটিও তুলে ধরেন। এতে আরও বলা হয়েছে, উভয় দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনায় রেখে দ্বিপক্ষীয়ভাবে দুই দেশের মধ্যে এই ইস্যুগুলো বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে সমাধান করা সম্ভব।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার দফতরের বিবৃতি অনুযায়ী, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উভয় দেশের ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরসাকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সাধারণ শত্রু বলে উল্লেখ করে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথাও জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকের শেষ দিকে মিয়ানমারের মন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নেপিদো সফরের আমন্ত্রণ জানান। সীমান্ত সুরক্ষা, ১৯৯২ সালের এপ্রিলের যৌথ বিবৃতি অনুসারে যেসব রোহিঙ্গা মিয়ানমার ফিরতে চায়, তাদের যাচাইকরণ বিষয়ে পদক্ষেপ চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশের মন্ত্রীকে এই সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

 বৈঠকের পর একটি মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন মিয়ানমারের মন্ত্রী। এতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। এতে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বাংলাদেশের মন্ত্রীকে মিয়ানমার সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এতে আর বলা হয়েছে, আলোচনা বন্ধুত্বপূর্ণ ও উষ্ণ ছিল।

এদিকে, বৈঠক শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মিয়ানমার। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য দুই পক্ষ একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত হয়েছে। এই জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপে কারা থাকবেন তা দুই পক্ষ মিলে ঠিক করবে।’ তবে এটি কবে নাগাদ হবে সেটি এখনও ঠিক হয়নি, তবে দ্রুত হবে বলেও জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানিয়েছে, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৮০০ জনের নিবন্ধন হয়েছে। তারাও সবাই রাখাইনে ফিরতে পারবে, এমন নয়। কেননা নিবন্ধিত হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে নাগরিকত্বের প্রমাণ থাকা ব্যক্তিরাই কেবল ফিরে যেতে পারবে। ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমারের ২০১৫ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী রাখাইনে তখন থাকা ১০ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) পেয়েছিল মাত্র ৭ হাজার ৫৪৮জন। এর বাইরে আর কোনও কাগজপত্রই রোহিঙ্গাদের নেই। তাই ৭ হাজার ৫৪৮ জনের বেশি মানুষের মিয়ানমারে ফেরার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মতে, এই পর্যন্ত পালিয়ে আসার রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ। এরমধ্যে চার লাখ আগে থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাস করছিল। আর চলতি বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সামরিক অভিযান শুরু হলে আরও ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা পালিয়ে আসে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ