শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে

প্রধান বিচারপতিকে বাধ্যতামূলক ছুটি প্রদান বিষয়ে মিডিয়া ব্রিফিং করেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন। গতকাল মঙ্গলবার তোলা ছবি -সংগ্রাম

* প্রধান বিচারপতি চিঠিতে আইনজীবীদের বলেছিলেন কোর্ট খোলার দিন আইনজীবীদের সাথে বসবেন। কিন্তু কোর্ট খোলার দিন তিনি ছুটি নিয়ে চলে গেলেন।

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার ছুটিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। আইনজীবীদের মুখে মুখে ছিল প্রধান বিচারপতির ছুটি নিয়ে আলোচনা। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির ছুটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আকস্মিক ছুটির ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্তও নেয়া হতে পারে। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন অভিযোগ করেছে, প্রচন্ড চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এটা বিচার বিভাগের জন্য নজিরবিহীন ঘটনা। ছুটির প্রতিবাদে বিক্ষোভও করেছেন আইনজীবীরা। 

গতকাল মঙ্গলবার সকালে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা শেষে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন এই অভিযোগ করেন। পরে বিকেল ৩টায় সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি, সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য। সেখান থেকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির আকস্মিক ছুটি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান।

এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে আপিল বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সকাল ১০টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালতের কার্যক্রম চলে। পরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

আগের দিন ছুটিতে যাওয়া প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার বাসভবনে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি জয়নুল আবেদীন, সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ আইনজীবী নেতারা। তবে সাক্ষাতের অনুমতি মেলেনি। সাক্ষাৎ না পেয়ে বার সভাপতি পরদিন সকালে কার্যনির্বাহী কমিটির সভার কথা জানান। 

কার্যনির্বাহী কমিটির সভা শেষে জয়নুল আবেদীন বলেন, প্রচন্ড চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এটা বিচার বিভাগের জন্য নজিরবিহীন ঘটনা। সভায় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বার যাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে ১৪ জন সদস্যের মধ্যে ১৩ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

জয়নুল আবেদীন বলেন, গতকাল (সোমবার) আমরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। জানতে চাইছিলাম কোনো চাপে, কোনো কারণে তিনি ছুটিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন কিনা। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করেন নাই। তিনি সকালে এসে দুপুর ১টার সময় ছুটির দরখাস্ত দিয়ে কোর্ট প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। অথচ তিনি এর আগে আমাদের চিঠি দিয়ে বলেছেন, আদালত খোলার দিন তিনি আমাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। অতীতের রেকর্ড বলে, কোনো প্রধান বিচারপতি দাওয়াত দিয়ে এভাবে ছুটি নিয়ে চলে যান নাই। অথচ সাবেক প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম এভাবে দাওয়াত করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরে তিনি হুইল চেয়ারে করে এসে আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি এমন কী করেছেন যে তিনি ছুটি নিয়ে চলে গেছেন। তার ওপর প্রচন্ড চাপ তৈরি করা হয়েছে, যাতে তিনি ছুটি নিয়ে চলে যান। দেশ জানে, জাতি জানে, সারা পৃথিবী জানে, একটি রায়ের পর সরকার তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে। যাতে তিনি পদত্যাগ করেন। তিনি ছুটিতে যাননি, ছুটিতে পাঠানো হয়েছে, ছুটিতে যেতে তাকে বাধ্য করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে সাক্ষাৎ করা প্রয়োজন। যদি মানুষ ছুটির কারণ জানতে না পারে, তাহলে জাতির জন্য সেটা দুঃখজনক হবে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কার্যক্রম

সকাল ৯টা ৬ মিনিটে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়ে সকাল ১০টা পর্যন্ত চলে। শুনানিতে ২০টি মামলার বিচার কাজ হয়েছে। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। গত সোমবার দিবাগত রাতে বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। 

সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের ভবনের লনে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতির সঙ্গে। সৌজন্য সাক্ষাতে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন, সাবেক সভাপতি এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা অংশ নেন। 

দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে ফুলকোর্ট সভা করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বেলা সোয়া ২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত এ ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের প্রতি আহ্বান জানান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। সভায় যথাসময়ে এজলাসে বসতে ও দ্রুত সময়ে রায় লেখা শেষ করতে বিচারপতিদের পরামর্শ দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। এ সময় বিচারপতিদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন তিনি। সভায় প্রয়োজন অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ পুনর্গঠনের কথাও জানান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।

সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. আজিজুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ফুলকোর্টের সভার তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, অদ্য (আজ) ৩ অক্টোবর, ২০১৭ খ্রিঃ তারিখ রোজ মঙ্গলবার বেলা ০২:১৫ ঘটিকায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের মাননীয় বিচারপতিগণের অংশগ্রহণে অত্র কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হবে। 

গত সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা এক মাসের ছুটির কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর চিঠি দেন। ওইদিন রাতেই আইন মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার শারীরিক অসুস্থতার কারণে ৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ৩০ দিন ছুটি মঞ্জুরের বিষয়ে সানুগ্রহ অনুমোদন প্রদান করেছেন। মাননীয় প্রধান বিচারপতির অসুস্থতাজনিত ছুটি ভোগকালীন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রবীণতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনের দায়িত্ব দিয়েছেন।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের বৈঠকে উদ্বেগ

সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের এক সভায় প্রধান বিচারপতির ছুটি নিয়ে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। বৈঠক শেষে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, সকালে বারের কার্যকরী সভা করে সিদ্ধান্ত হয়েছিলো যে, সিনিয়র আইনজীবীদের নিয়ে আমরা একটি সভা করবো। তারই আলোকে বিকেলে আমরা সিনিয়র আইনজীবীদের নিয়ে একটি সভা করেছি। সেখানে আমাদের বিভিন্নমুখী আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় উপস্থিত প্রত্যেকেই বলেছেন, প্রধান বিচারপতির আকস্মিক ছুটিতে যাওয়াটা আমাদের সকলকে মর্মাহত করেছে এবং আমরা মনে করি এটা বিচার ব্যবস্থার জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এটা কারও জন্য মঙ্গলজনক নয়। এমনকি সরকারের জন্যও মঙ্গলজনক নয়। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে না পারায় আমরা আরও উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, তারা বলেছেন, কি ঘটেছে, কেন তিনি (প্রধান বিচারপতি) সৌজন্য সাক্ষাতের আগে ছুটিতে গেলেন। এটা আমাদের জানা দরকার ছিলো।

জয়নুল আবেদীন বলেন, এখন বিষয়টি হলো এবার একটি বৃহত্তর ঐক্য দরকার। আমরা আগে থেকেই বলে এসেছি। সুপ্রিম কোর্ট বার দল-মত-নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে কাজ করতে চায়। সকল সিনিয়র আইনজীবী বলেছেন, আমাদের সকলকে নিয়ে একটি বৃহত্তর ঐক্য দরকার। আমরা আজ বুধবার ৪টায় আবার বসবো। তার আগে বারকে ছুটির বিষয়ে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করতে বলেছেন সিনিয়র আইনজীবীরা।

এ বিষয়টি নিয়ে একটি বৃহত্তর পরিষদে আলাপ আলোচনা দরকার বলে মত প্রকাশ করেন বারের সভাপতি। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে বারের আরও যারা সিনিয়র আইনজীবী রয়েছেন তাদের নিয়ে সভা করতে চাই। এমনকি এটি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারি কি না এ বিষয়ের ওপরও আলোচনা হয়েছে। আমরা রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ চাইবো কি না সেটি নিয়েও আলোচনা করা হবে।

বৈঠকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ও খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী, সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি আবদুল আউয়াল, বারের সাবেক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এম কে রহমানসহ প্রায় ৩৫ জন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বৈঠকে অংশ নেন।

আইনজীবীদের বিক্ষোভ

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটিতে যাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন আইনজীবীরা। সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশে আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, প্রধান বিচারপতিকে বাধ্যতামূলক ছটিতে পাঠানো হয়েছে। তারা প্রধান বিচারপতিকে স্বপদে বহালের দাবি জানান। সকাল সোয়া ১০টার দিকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। আইনজীবী ভবনের এ মিছিলে অনেক সাধারণ আইনজীবীকেও অংশ নিতে দেখা যায়। মিছিলে প্রধান বিচারপতিকে স্বপদে ফিরিয়ে আনার দাবিতে স্লোগান দেন আইনজীবীরা।

সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সহ-সভাপতি রেফিকুল ইসলাম মেহেদীর সভাপতিত্বে মিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ঢাকা বার এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, মনির হোসেন, গাজী কামরুল ইসলাম, আরিফা জেসমিন নাহিন, আইয়ুব আলী আশ্রাফী, শরীফ ইউ আহমেদসহ শতাধিক আইনজীবী অংশ নেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের সভাপতির কক্ষের সামনে এই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। রায় প্রকাশের পর এ নিয়ে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সংক্ষুব্ধ হয়। বিশেষ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, দলীয় নেতা ও আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা। তারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিও তোলেন। গত ২২ আগস্ট মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতারা।

আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে ধারাবাহিক সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করে। গত ২৪ আগস্ট এক সমাবেশে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ও আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছিলেন, প্রধান বিচারপতির পদটি ধরে রাখার আপনার আর কোনো যোগ্যতা নেই। তাই আগামী অক্টোবরের আগেই আপনি এই পদ থেকে চলে যাবেন। এর মধ্যে প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব না ছাড়লে ‘এক দফা এক দাবি’র আন্দোলন শুরুর ঘোষণাও আসে সমাবেশে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। বিচারিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংসদে ওই দিন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আলোচনা হয়, যাতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৮ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আদালত তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে সংসদে পাস হওয়া সংবিধানের সংশোধনী বাতিল করেছে।

গত ৮ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা দেশের বাইরে ছুটিতে ছিলেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফেরেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ